fff
রাজনীতি

পার্থ (Partha Chatterjee) একা নন, সাধারণ মানুষের জুতো ছোঁড়ার শিকার হয়েছেন অনেক রাজনীতিবিদই

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্ক: সাধারণ মানুষের(Public) ক্ষোভের মুখে পড়েছেন বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে  কখনো জুতো, কখনো কালি, আবার কখনোবা চপেটাঘাত করে। প্রকাশ্যেই স্থানীয় থেকে আন্তর্জাতিক স্তরের বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে জুতো ছুঁড়েছেন সাধারণ মানুষ (Public)। কখনো পছন্দের রাজনীতিক না হওয়ার কারণে, আবার কখনো দুর্নীতি হোক বা পছন্দের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জুতো ছুঁড়েছেন সাধারণ মানুষ (public)। মানুষের ক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছালেই এরকম ঘটনা ঘটে বারবার। এবার রাজ্যের প্রাক্তণ মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee) জুতো ছুঁড়লেন একজন মহিলা। আজ পার্থ বাবুকে আনা হয় জোকা ESI হাসপাতালে, তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। সেখানেই চিকিৎসা করাতে আসা এক রুগীর আত্মীয় জুতো ছোঁড়েন পার্থ বাবুর দিকে। জানা যাচ্ছে এই মহিলা দঃ ২৪ পরগণা জেলার আমডাঙার বাসিন্দা। জুতো পার্থ বাবুর গায়ে লাগেনি, তাঁর গাড়িতে জুতো লাগে। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ওই মহিলা জানান, তিনি রাগের মাথাতেই জুতো ছুঁড়েছেন পার্থ বাবুর দিকে। তাঁর কথায় “রাজ্যের মানুষের টাকা হাতিয়ে গাড়িতে করে তাঁকে আনা হচ্ছে হাসপাতালে।” পার্থ বাবুর গায়ে জুতো না লাগায় আফশোস ব্যক্ত করেন ওই মহিলা। পরে খালি পায়েই বাড়ির দিকে রওনা দেন তিনি।

পার্থ বাবু একা নন, আরো অনেককেই সাধারণ মানুষের (public) জুতোর মুখোমুখি হতে হয়েছে।

পার্থ বাবুর গায়ে জুতো না লাগলেও, এরকম আরো অনেক উদাহরণ আছে, যারা বাঁচতে পারেননি সাধারণ মানুষের (public) ছোঁড়া জুতো থেকে। এই তালিকায় ভারতের প্রাক্তণ প্রধাণমন্ত্রী মনমোহন সিং থেকে পাকিস্তানের প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফ, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশও আছেন। এদেশেও রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিয়াল, এল কে আদবানী এরকম বহু রাজনীতিকের দিকেই অতীতে ধেঁয়ে এসেছে সাধারণ মানুষের (public) ছোঁড়া জুতো।

Manmohan Singh (মনমোহন সিং)
২০০৯ সালের এপ্রিলে গুজরাতের আমেদাবাদে একটি প্রচারসভায় বক্তব্য রাখছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো ছোঁড়েন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক ছাত্র। মঞ্চের সামনে এসে পড়ে জুতো। আটক করা হয় অভিযুক্তকে। অবশ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পরবর্তীকালে ক্ষমা করে দেন ওই ছাত্রকে। প্রধাণমন্ত্রী ক্ষমা করে দেওয়ায় ছাড়া পেয়ে যান ওই ছাত্র।

Lal Krishna Advani (লালকৃষ্ণ আদবানী )
২০০৯ সালে জুতো ধেয়ে এসেছিলো বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর দিকে। ওই বছর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ছিলেন লালকৃষ্ণ আদবানী। বিষয়টি মানতে পারেননি বিজেপি কর্মী পাওয়াস অগ্রবাল। বলেছিলেন, আডবাণী আসলে ‘ঝুটো লৌহমানব’। সেই ক্ষোভ থেকেই জুতো ছোঁড়েন তিনি।

Omar Abdullah (ওমর আবদুল্লা)
২০১০ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো ছোঁড়েন এক পুলিশ কনস্টেবল। সেই সময় প্রশ্নের মুখে পড়ে তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা। যদিও সেই সময় ওমর আবদুল্লা দাবি করেছিলেন, এটা দিল্লীর অঙ্গুলহেলনেই করানো হয়েছে।

Rahul Gandhi (রাহুল গান্ধী)
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তরপ্রদেশে রোড শো করছিলেন রাহুল গাঁধী। তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো ছোঁড়েন হরিওম মিশ্র নামে এক ব্যক্তি। তার আগের সপ্তাহে জম্মুর উরিতে জঙ্গি হামলায় শহিদ হয়েছিলেন ১৮ জওয়ান। হরি ওম মিশ্রের ক্ষোভ ছিল, শহিদদের শ্রদ্ধা নিবেদনের বদলে প্রচার করছেন রাহুল। ২০১২ সালে উত্তরাখণ্ডে এ রকমই জুতো-হামলার হাত থেকে অল্পের জন্য বেঁচেছিলেন রাহুল।

P. Chidambaram (পি চিদাম্বরম)
২০০৯ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পি চিদম্বরমকে লক্ষ্য করে জুতো ছোঁড়েন সাংবাদিক জার্নেল সিংহ। ১৯৮৪ সালে শিখ দাঙ্গায় অভিযুক্ত জগদীশ টাইটলারকে ক্লিনচিট দিয়েছিল সিবিআই। সেই ক্ষোভে চিদম্বরমকে নিশানা করেন জার্নেল। তাঁকে আটক করা হলেও শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়া হয়।

Arvind Kejriwal (অরবিন্দ কেজরিওয়াল)
দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল  বারবার সাধারণ মানুষের (public) ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। তাঁকে কখনো জুতো, কখনো কালি আবার কখনো মাফলার ছুঁড়ে মারা হয়। ২০১৬ সালের ৯ এপ্রিল দিল্লীতে দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য জোড়-বিজোড় প্রকল্প ঘোষণা করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল। তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো ছোঁড়েন বেদ প্রকাশ শর্মা। তিনি ছিলেন কেজরির দল আম আদমি পার্টির প্রাক্তন কর্মী। অভিযোগ করেন, এই প্রকল্প ঘোষণার পিছনে রয়েছে সিএনজি দুর্নীতি।

Naveen Patnai (নবীন পট্টনায়েক)
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে উপনির্বাচনের প্রচার করছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক। বরগাড় জেলার একটি গ্রামে। তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো ছোঁড়েন কার্তিক মেহের।

শুধু এদেশেই নন, বিদেশেও বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দিকে জুতো ছুঁড়ে নিজেদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ (public)।

Pervez Musharraf (পারভেজ মুশারফ)
চার বছর স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকার পর ২০১৩ সালে পাকিস্তানে ফিরেছিলেন সে দেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশারফ। একটি মামলার শুনানির জন্য ২৯ মার্চ করাচির আদালতে যাচ্ছিলেন তিনি। সে সময় মুশারফের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন ২০ জন আইনজীবী। তাঁদের মধ্যেই এক জন আইনজীবী মুশারফকে লক্ষ্য করে জুতো ছোঁড়েন। তিনি বলেন, “উনি(মুশারফ) এক জন একনায়ক। ওঁর ফাঁসি হওয়া উচিত।”

George W. Bush (জর্জ ডব্লিইউ বুশ)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে অন্যতম জর্জ ডব্লিইউ বুশ জুনিয়র। ২০০৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাগদাদ গিয়েছিলেন জর্জ বুশ। তার ৩৭ দিন পরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর মেয়াদ শেষ হবে। বুশকে লক্ষ্য করে নিজের দু’টি জুতো ছোঁড়েন এক ইরাকি সাংবাদিক। বিদায় সম্ভাষণ করে বলেন, ‘কুকুর’। বুশ অবশ্য প্রশাসকের মতোই দক্ষ হাতে সামলেছিলেন সেই অতর্কিত আক্রমণ। বলেছিলেন, “একটাই তথ্য দিতে পারব, জুতোর সাইজ হল ১০।” ইরাকের যুদ্ধের জন্য সে দেশের বাসিন্দারা বার বার দায়ী করেছেন বুশকে। তাদের দাবি, ওই যুদ্ধে মারা গিয়েছিলেন প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ।

Hillary Clinton (হিলারী ক্লিন্টন)
২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল লাস ভেগাসে বক্তব্য রাখছিলেন প্রাক্তন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি হিলারি ক্লিন্টন। তাঁর দিকে উড়ে আসে একটি জুতো। এতটাই আচমকা যে, বক্তৃতা থামিয়ে হিলারী ক্লিন্টন জিজ্ঞেস করেন, “কী ছিল এটা? বাদুড়!” জুতো ছোঁড়ার অবশ্য কোনও কারণ বলেননি অভিযুক্ত অ্যালিসন আর্নস্ট।

Wen Jiabao (ওয়েন জিয়াবাও)
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য রাখছিলেন চিনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওয়েন জিয়াবাও। তাঁকে লক্ষ্য করে বাঁ পায়ের জুতো ছোঁড়েন ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র মার্টিন জাহ‌্নকে। চিৎকার করে বলেন, “এই একনায়ককে কী ভাবে এখানে বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হল? এ সব মিথ্যে আপনারা শুনছেন কী ভাবে?” যদিও জিয়াবাও যে মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন, তার ধারেকাছেও আসেনি মার্টিনের জুতো।

John Howard (জন হাওয়ার্ড)
২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার একটি টক শোতে বক্তব্য রাখছিলেন তৎকালীন অস্ট্রেলিয়ান প্রধাণমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড। সেখানেই তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো ছোঁড়েন জনৈক পিটার গ্রে। ইরাকের যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিলেন তিনি। ইরাকে আমেরিকার আগ্রাসনকে সমর্থনের জন্য হাওয়ার্ডের দিকে জুতো ছোঁড়েন পিটার।

এই রাজ্য থেকে দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষের (public) জুতোর। নিজের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশের প্রতিক হিসাবেই বারবার সামনে এসেছে জুতো ছোঁড়ার ঘটনাগুলো। আজ এসএসসি দুর্নীতিতে অভিযুক্ত, রাজ্যের প্রাক্তণ মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দিকে জুতো ছোঁড়ার প্রেক্ষিতে, অনেকেই মনে করাচ্ছেন অতীতের এইসব ঘটনাও। অপরদিকে পার্থ বাবুর দিকে জুতো ছোঁড়া  প্রসঙ্গে, তৃণমূল সাংসদ ডাঃ শান্তনু সেন বলেন, “পার্থদা এখন ই ডি’র হেফাজতে। তাঁর সুরক্ষার দায়িত্ব ই ডি’কেই নিতে হবে।”

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please Disable your ADBlocker!