fff
রাজনীতি

“প্রধানমন্ত্রী হবেন Rahul Gandhi” আশীর্বাদ দিতে গিয়েও কেন থামলেন সাধু?

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্কঃ কর্ণাটকের এক লিঙ্গায়েত মঠের সাধু, রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) আর্শিবাদ করলেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার। এই আশীর্বাদের পরমুহুর্তে তাঁকে থামিয়ে দিলেন মঠের প্রধান মোহান্ত। বর্তমানে কর্ণাটক সফরে আছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। কর্ণাটক কংগ্রেস এখন জর্জরিত গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে। চরম গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে জেরবার কর্ণাটকের কংগ্রেস (Congress) নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের জন্য কর্ণাটকে গেছেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। বর্তমানে ক্ষমতায় আছে বিজেপি (BJP) নেতৃত্বাধীন সরকার। ২০২৩ সালের মে মাস নাগাদ কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। দক্ষিণী এই রাজ্যের কংগ্রেস (Congress) নেতৃত্বের মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল চরমে। সামনের বছরে বিধানসভা নির্বাচনে দলের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে হবেন সেই নিয়েই দলীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। কর্ণাটক বিধানসভার  বিরোধী দলনেতা সিদ্দারামাইয়া বনাম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডি কে শিবকুমারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার নিয়েছে। দুজনেই চান মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে। যদিও দলীয় নেতৃত্বের এই কোন্দলকে ধামাচাপা দিতে চেয়েছেন ডি কে শিবকুমার। তিনি জানিয়েছেন নেতৃত্বের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

এই বিধানসভা নির্বাচনকে ধরেই কর্ণাটক কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য স্থাপন ও জনসংযোগের কর্মসূচি করছেন রাহুল গান্ধী। দুই পক্ষকে নিয়ে মঙ্গলবার রাতে বৈঠক করেন রাহুল গান্ধী। তিনি জানিয়েছেন দুই পক্ষকেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। যতোই বিরোধ থাকুক, প্রকাশ্যে কেউ যাতে কোনো মন্তব্য না করেন সেই বিষয়েও সবাইকে সতর্ক করেছেন তিনি।

<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>I&#39;ve been following &amp; reading a little about Basavanna ji for some time now. So, it&#39;s a real honour for me to be here. I&#39;d make a request, if you can send me somebody who can teach me a little more in detail about Ishtalinga &amp; Shivayoga, I&#39;d probably benefit from it: Rahul Gandhi <a href=”https://t.co/3YpwPsEpfO”>pic.twitter.com/3YpwPsEpfO</a></p>&mdash; ANI (@ANI) <a href=”https://twitter.com/ANI/status/1554743403078103040?ref_src=twsrc%5Etfw”>August 3, 2022</a></blockquote> <script async src=”https://platform.twitter.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), কর্ণাটকের কংগ্রেস (Congress) নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, কারোর ব্যক্তিগত মতামতের কোনও গুরুত্ব নেই। নির্বাচনের পর যাঁরা নতুন বিধায়ক নির্বাচিত হবেন, তাঁরা এবং কংগ্রেস হাইকমান্ড মিলে নেতৃত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, রাহুল গান্ধী কংগ্রেস নেতাদেরকে কর্ণাটকে এবং কেন্দ্রে বিজেপি (BJP) এর অপশাসনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক প্রচার করার আবেদন করেছেন। আপাততো দলীয় সংগঠনকে বিধানসভা লক্ষ্যে গোছানো এবং রাজ্যের প্রধাণ বিরোধী দল হিসাবে যথাযত ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। লাগাতার বিজেপি (BJP) বিরোধী প্রচারকে জোরালো করার ডাক দিয়েছেন তিনি।

দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য করানোর সঙ্গে সঙ্গেই আগামী বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে গণসংযোগও করছেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gnadhi)। সেই সূত্রেই তিনি গণসংযোগের অঙ্গ হিসাবে তিনি গেছিলেন চিত্রদূর্গ জেলার শ্রী শ্রীমুরুগরাজেন্দ্র মঠে। সেখানেই হোসামঠ স্বামী নামে  একজন মোহন্ত রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gnadhi) আশির্বাদ করে বলেন “রাহুল গান্ধী প্রধাণমন্ত্রী হবেন”। সূত্রের দাবি, তিনি এই কথা বলতেই তাঁকে থামিয়ে দেন মঠের প্রধাণ অধ্যক্ষ শ্রী শিবমূর্তি মুরুগ শরনরু তাঁকে থামিয়ে দেন। এরপর প্রধাণ মোহন্ত বলেন, “যারাই আমাদের মঠে আসেন, সবাইকেই আমরা আশির্বাদ করি।” ‘প্রধাণমন্ত্রী’ হওয়ার আশির্বাদ মাঝপথে থামিয়ে দিলেও, এদিন রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) লিঙ্গ দীক্ষা দেন প্রধাণ মোহন্ত শিবমূর্তি। কংগ্রেস (Congress) নেতার হাতে পরিয়ে দেওয়া হয় স্ফটিকের তৈরি ইষ্টলিঙ্গ। সাধারণত লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের মানুষরাই এই আচার পালন করে থাকেন।

কর্নাটকের রাজনীতিতে লিঙ্গায়তদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। রাজ্যের জনসংখ্যার ১৮ শতাংশই এই সম্প্রদায়ের মানুষ। সাধারণভাবে, এই সম্প্রদায়ের ভোট পায় বিজেপি (BJP)। ২০১৯ সালে কংগ্রেস-জেডিএস সরকার উল্টে দিয়ে বিজেপি (BJP) ক্ষমতায় এসেছিলো। শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল বিএস ইয়েদুরাপ্পাকে। তিনি ছিলেন লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের। ২০২১ সালে তাঁকে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী করা হয় বাসবরাজ বোম্মাইকে। তিনিও লিঙ্গায়ত সম্প্রদায়েরই মানুষ। এই লিঙ্গায়তদের ভিতরেই কংগ্রেসের জমি গড়ার চেষ্টা করছেন রাহুল গান্ধী। মানুষের কাছে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যেও যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। এই সূত্রেই  চিত্রদূর্গ জেলার লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের শ্রী মুগুররাজেন্দ্র মঠে যান কংগ্রেস (Congress) নেতা। সেখানেই  আশির্বাদ নেওয়ার সময় বিড়ম্বনায় পড়েন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। মঠের প্রধাণ মোহন্তের এই আকস্মিক থামিয়ে দেওয়ায় কিছুটা হতচকিত হয়ে যান রাহুল। যদিও পরে সামলে নেন তিনি। সামলে নেন প্রধাণ মোহন্ত শিবমূর্তিও।

প্রসঙ্গত, এই লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়েরই মানুষ ছিলেন সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেস। লিঙ্গায়েতকে আলাদা ধর্মের স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন করছিলেন তিনি। তাঁকে গুলি করে হত্যা করে দুষ্কৃতিরা। সেই সময় এই ঘটনা নিয়েও গোটা দেশজুড়ে আলোড়ন হয়। প্রকাশ রাজের মতো অভিনেতাও এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে রাস্তায় নামেন। এই ঘটনাতে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে বিজেপি’র দিকেই। সেই সময়ে কংগ্রেসও সোচ্চার হয় এই ঘটনায়। যদিও এই বিষয়ে এখনও সত্য উন্মোচিত হয়নি।

এই কর্ণাটকেই এবার বিধানসভা দখলের জন্য ঝাঁপাতে চাইছেন রাহুল। কিন্তু রাজ্যের সর্বোচ্চ দলীয় নেতৃত্বই যেভাবে মুখ্যমন্ত্রীত্বের দাবি নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোন্দলে লিপ্ত, তাতে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা এইবারও কংগ্রেস রাজত্ব দখল করতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে। যদিও রাহুল চেষ্টা করে চলেছেন কর্ণাটক কংগ্রেসকে ঐক্যবদ্ধ করার। তাই এবার নিজেই মাঠে নেমেছেন রাহুল স্বয়ং।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please Disable your ADBlocker!