fff
অফবিট

ভোর ৪টে উঠে, পথ কুকুরদের(Stray dog) জন্য খাবার বানান নব্বই বছরের বৃদ্ধা

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্ক: পথ কুকুরদের(Stray dog) অনেকেই দূরছাই করেন। আবার অনেকেই আছেন, যারা পরম মমতায় আগলে রাখেন পথ কুকুরদের(Stray dog)। এমন বহু খবর ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে। পথ কুকুরদের(Stray dog) ওপর অত্যাচারের খবরও বারবার সামনে আসে। কালি পুজো বা দোলের সময়ে তাদের ওপর অত্যাচার অমানবিক চেহারা নেয় অনেকসময়েই। তবুও পথ কুকুরদের নিয়ে মানবিক উদ্যোগও চলে অনেক। পথ কুকুরদের(stray dog) সাহায্যার্থে গড়ে উঠেছে বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও। প্রতিনিয়ত তারা চেষ্টা করে যায়, পথ কুকুরদের(stray dog) সমস্যার সুরাহা করতে। বহু হোম গড়ে উঠেছে এদের জন্য। অনেকেই স্বেচ্ছা শ্রম দেন তাদের জন্য। এমনকি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেকে প্রতিনিয়ত চালিয়ে যান পথ কুকুরদের(stray dog) সেবার কাজ। তেমনই একটি উদ্যোগ এবার ভাইরাল হলো সামাজিক মাধ্যমে। নব্বই বছরের বৃদ্ধার নিরলস পরিশ্রম এবার ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যম জুড়ে। কনকের এই ভিডিও প্রচার করছেন পশুপ্রেমীরাও। পথকুকুরদের ওপর বৃদ্ধার এই স্নেহ দেখে চোখে জল নেটিজেনদেরও। বৃদ্ধার এমন ভালোবাসার সাড়া পেয়ে পথকুকুর রাও যেন বৃদ্ধার কত আপন, তা ধরা পড়ছে এই ভিডিওতে। বয়স যেন কোনো বাধাই নয় কনকের কাছে, তারও প্রমাণ নেই ভিডিও।

এনজিও কর্মী সানা সাক্সেনা তাঁর ইন্সটাগ্রামে একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেছেন। যেখানে তিনি তার নব্বই বছরের ঠাকুমার(grandma) একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। কনক নামে নব্বই বছরের এই বৃদ্ধা প্রতিদিন ভোর চারটায় উঠে ১২০টা কুকুরের জন্য বিরিয়ানি রান্না করেন।

নব্বই বছরের এই বৃদ্ধা নিজে অস্টিওপরেসিস রোগে আক্রান্ত। সানা জানিয়েছেন, তাঁর ঠাকুমার(Grandma) বহু অপারেশন হয়েছে শারিরীক কারণে। কিন্তু কিছুই তাঁকে থামাতে পারেনি। তাঁর রুটিনে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

আশ্চর্যের বিষয় হলো কনক নামে নব্বই বছরের এই বৃদ্ধা প্রথমে কুকুর বিশেষ পছন্দ করতেন না। সানা বাড়িতে একটি কুকুরের ছানা আনার পরেই দৃষ্টিভঙ্গী বদলে যায় কনকের। এখন প্রতিদিন ১২০টা কুকুরের জন্য বিরিয়ানি রান্না করা তাঁর রোজের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কনক জানিয়েছেন, “কয়েক বছর আগে আমার নাতনি সানা কোকো নামে একটি কুকুরছানা নিয়ে আসে। আমি প্রথমে কুকুর পছন্দ করতাম না। আমি মনে করেছিলাম আমার এই মনোভাবে পরিবর্তন আসবেনা। কিন্তু কোকো এসে সব বদলে দিলো। সে এমন কিছুই করেনি। শুধু খেয়েছে, খেলেছে আর সারাক্ষণ ঘুরে বেড়িয়েছে। সে যখন সাধারণ কাজও করতো, তখনও তাকে খুবই মিষ্টি লাগতো।” সানার এই কুকুরছানাই বদলে দিয়েছে কনকের জীবন। এখন শারিরীক অসুস্থতাকেও উপেক্ষা করে কনক প্রতিদিন রান্না করেন কুকুরদের জন্য।

এখন সানা পথ কুকুরদের(stray dog) জন্য একটি আশ্রয়স্থল তৈরি করেছে। সেখানেই কুকুরদের জন্য প্রতিদিন রান্না করেন কনক।

নব্বই বছর বয়সেও এই দায়িত্ববোধ আজকের দিনে বিরল। যেখানে মানুষ ক্রমাগত নিজেরটা নিয়েই ব্যস্ত, সেখানে পথ কুকুরদের(stray dog) এই উদ্যোগ যথেষ্ট নজর কেড়েছে সবার। ক্রমাগত সামাজিক অবক্ষয়ের মধ্যে কনকের এই কাজ প্রশংসা কুড়াচ্ছে বাকিদের। শুধুমাত্র রান্না করেই ক্ষান্ত হননা কনক। তারপর তাঁর জিজ্ঞাসা থাকে, সবাই ঠিক মতো খেয়েছে কিনা, সবার ভালোলেগেছে কিনা। পোস্টে জানিয়েছেন সানা।

নব্বই বছরে এই বৃদ্ধারই এখন সামাজিক মাধ্যমের নতুন প্রেরণা(internet Hero)। কনকের এই দায়িত্ববোধ অনেকেরই হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তাঁর এই মানবিকতা উৎসাহিত করছে বাকিদেরও। সানা তাঁর সামাজিক মাধ্যমের দেওয়ালে লিখেছেন, “পশুদের জন্য কিছু না করার হাজারটা কারণ দেওয়ার আগে এটা দেখে নিন”। সেখানেই তাঁর ঠাকুমার(grandma) ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। তাঁর আশা এটা দেখে উৎসাহিত হবে আরো অনেকেই। সানা তাঁর পোস্টে আরো লিখেছেন, “প্রথমে আমি এই কাজে তাঁকে নিতে আশঙ্কিত ছিলাম, তাঁর শারিরীক অবস্থার জন্য।” সেখানেই সানা জানিয়েছেন, এই আশঙ্কার কথা জেনে কনক বলেছিলেন, “এর জন্য কোনো ওষুধ নেই। কিন্তু কুকুরদের জন্য ভালোবাসা আছে। এদের জন্যই এতোদিন বেঁচে আছি। আমি বানাবো, এরা খাবে, ব্যাস এই আনন্দটাই আমার চাই”। সানা জানিয়েছেন, এই কাজটাই কনকের এতোদিন বেঁচে থাকার রসদ। এতো অসুস্থতা সত্বেও, এই ভালোলাগাই কনককে বাঁচিয়ে রেখেছে।

কনকের এই ভালোলাগা মন ছুঁয়ে গেছে অন্যদেরও। সবাই কুর্নিশ জানাচ্ছেন নব্বই বছরের বৃদ্ধার এই কাজকে। কনকের মতো সামাজিক মাধ্যমের প্রেরণা(Internet Hero) আজ সবাইকে উৎসাহিত করছে। কনক এখন আর শুধু সানার ঠাকুমা(grandma) হিসাবে নন, একজন পশুপ্রেমী হিসাবে নজর কেড়েছেন সবার। নব্বই বছরের বৃদ্ধা কনকের এই ভিডিও শেয়ারও করছেন বহু মানুষ। পশুপ্রেমীরাও কুর্নিশ জানাচ্ছেন কনককে। পথ কুকুরদের(stray dog) নিয়ে কাজ করে, এমন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অথবা ব্যক্তিরাও কুর্নিশ জানিয়েছেন কনকের এই কাজকে। প্রতিদিন ভোর চারটায় উঠে, পথ কুকুরদের জন্য রান্না করার এই দৃষ্টান্ত নব্বই বছরের বৃদ্ধার জন্য সত্যিই বিরল। এই সময়ে দাঁড়িয়ে কনক সত্যিই সবার প্রেরণা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please Disable your ADBlocker!