মহানগর

‘খুন করে বিজেপির বিজয় মিছিল হতে পারে’, মনীশ খুনের ঘটনায় কটাক্ষ ফিরহাদ হাকিমের

বিশ্বজিৎ নাথ, ব্যারাকপুর: আজ ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে তৃণমূল টিটাগর থেকে ব্যারাকপুর চিড়িয়া মোড় পর্যন্ত শান্তি মিছিল করল। বিকেলে টিটাগর পৌরসভার সামনে থেকে শুরু হয়ে এই শান্তি মিছিল ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ব্যারাকপুর চিড়িয়া মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূল নেতৃত্বের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। মিছিলে পা মেলান খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক,দমদমের সাংসদ সৌগত রায়, পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র সহ টিটাগড়,খড়দহ,ব্যারাকপুর,কামারহাটি পুরসভার পুর প্রশাসকরা।

তৃণমূল সূত্রের বক্তব্য মনীশ শুক্লা খুনের পর এলাকায় অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করেছে বিজেপি। ফিরাদ হাকিম ওই মিছিল থেকেই ব্যারাকপুরের বিজেপি সংসদ অর্জুন সিং কে নিশানা করে বলেছেন লোকসভা ভোটে ব্যারাকপুরে বিজেপি জেতার পর থেকেই বারে বারে এই শিল্পাঞ্চলকে অশান্ত করে তোলা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। মনীশ শুক্লার খুন হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ব্যবহার করে বিধানসভা ভোটের আগে আবার উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে এই অঞ্চলকে। এরপরই অর্জুন সিং এর উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি সুরে কলকাতার মেয়র বলেন “সিআইডি তদন্ত করে দেখছে অপরাধী ধরা পড়বেই।” এরপর বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন পার্টি কর্মী খুন হলে বিজয় মিছিল করার কালচার বিজেপির আছে, কিন্তু তৃণমূল শান্তি ও ত্যাগের রাজনীতি করে। আমরা কেবল শান্তি মিছিল করি।

মিছিলে ভালোই লোক হয়েছিল। তবে বিজেপির দাবি ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বাইরে থেকেও ভিড় বাড়াতে লোক জড়ো করে এনেছিল তৃণমূল। তৃণমূলের মিছিলকে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন “শান্তি মিছিলের নামে এলাকা দখলের চেষ্টা করছে তৃণমূল। মনীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে সিআইডি নয়, সিবিআই তদন্ত চাই।” এরপর কটাক্ষ করে তিনি বলেন ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে নেমে ফিরহাদ হাকিম সব গুবলেট করে দেবে। কারণ তৃণমূলের ড্যামেজ কন্ট্রোল করার মূল দুজন মানুষ মুকুল রায় ও শোভন চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে বিজেপিতে আর তাই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে লোকসভা ভোটে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে হারানো জমি ফিরে পাওয়ার জন্য তৃণমূল যেমন উঠে পড়ে লেগেছে, তেমনি বিজেপিও চেষ্টা করছে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে নিজেদেরকে ভিতকে আরো পাকাপোক্ত করতে। এর ফলে বিধানসভা ভোটের আগে আগামী দিনে এই শিল্পাঞ্চলে রাজনৈতিক সংঘাত ও সংঘর্ষের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close