রাজ্যরাজনীতি

‘শাড়ি চুড়ি পড়া বাংলার মেয়েদের অপমান করেছেন অভিষেক’, তীব্র আক্রমণ লকেট চ্যাটার্জীর

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক:একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এক দিকে যেমন গত লোকসভা নির্বাচনের সাফল্যকে হাতিয়ার করে মসনদ দখলের লড়াইয়ে ঝাঁপাচ্ছে বিজেপি, অন্যদিকে তেমনই ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া তৃণমূলও।এমতাবস্থায় দলবদলের কালো মেঘে বিপর্যস্ত শাসক শিবিরকে আরো একবার কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।

তৃণমূল ত্যাগ করে গেরুয়া শিবিরে গিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন লকেট চট্টোপাধ্যায়ও হেঁটেছেন সেই পথেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি একটি দলীয় সভা থেকে বলেছিলেন তৃণমূল করতে গেলে বুকের পাটা দরকার হয়, বাড়িতে শাড়ি আর চুড়ি পড়ে বসে থাকলে তা করা যায় না। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়।

এদিন সাংবাদিকদের সামনে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেক ব্যানার্জির একটা বক্তব্য শুনছিলাম। উনি বলছেন, যাদের বুকের পাটা আছে তাঁরাই তৃণমূল করেন। আর না হলে বাড়িতে শাড়ি আর চুড়ি পড়ে বসে থাকো।বাংলার যিনি মুখ্যমন্ত্রী, যিনি ওনার পিসি হন, তিনি শাড়ি পড়েন না?” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওই মন্তব্যের দ্বারা নিজের পিসিকেই অপমান করেছেন বলে জানিয়েছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়।

এখানেই শেষ নয়, তিনি আরো বলেন, “আমি তো শাড়ি পড়ি, চুড়িও পড়ি। পশ্চিমবঙ্গে চার থেকে পাঁচ কোটি মহিলা আছেন, তাঁদের অপমান করার তুমি কে হে?” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এদিন শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজে ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর প্রতি তাঁর প্রশ্ন, “বাংলায় কি তোমার পিসি একা শাড়ি পড়ে থাকবে, আর চুড়ি পড়ে থাকবে তোমার সোনা বউমা? রাজ্যে আর কোনো মহিলা থাকবে না?”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিয়ে বিরোধীরা তাঁকে ‘ভাইপো’ বলে ডাকেন, তা নিয়ে দুদিন আগে বিরোধীদের এক হাত নিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এদিন লকেট চট্টোপাধ্যায় জবাব দিয়েছেন তারও। তাঁর মতে ‘ভাইপো’ সম্বোধনেরই যোগ্য অভিষেক ব্যানার্জী। তাঁর নাম নিতে ইচ্ছে করে না কারোর।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close