অন্যান্য

স্বল্প বস্ত্রে বিয়ের ফটোশুট, সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণের শিকার হলেন দম্পতি

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্ক: তদানিন্তন কালে স্বাধীন মতামত প্রকাশের যে একটা বড়োমাধ্যম হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া সেই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার এই বাক স্বাধীনতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কখনও ব্যক্তি আক্রমণ কখনও বা নীতি পুলিশির শিকারে হয়রান হওয়ার দৃষ্টান্ত বার বার প্রকাশ্যে এসেছে।

The internet abused, slut-shamed and took personal digs at them. When will people mind their own business??

Posted by Indiatimes on Saturday, October 17, 2020

ফের সোশ্যাল মিডিয়ার এই অযাচিত নীতি পুলিশগিরির সাম্প্রতিকতম বলি কেরালার এক দম্পতি। ওই দম্পতি তাঁদের বিয়ে উপলক্ষ্যে তোলা কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। আর তারপর থেকেই উড়ে আসতে থাকে নীতি পুলিশদের অযান্ত্রিক মন্তব্য। পোস্টটি ভাইরাল হয়। শালীনতার মাত্রার খেয়াল না রেখেই ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হতে থাকে তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ঋষি কার্তিকেয়ান এবং তাঁর বন্ধু লক্ষ্মীর বিয়ে হয় গত ১৬ সেপ্টেম্বর। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই করোনা ভাইরাসের অতিমারীর কারণে বিয়ে উপলক্ষ্যে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করা সম্ভব হয় নি। তাই বিয়েটাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ওই দম্পতি অন্য এক পথ বেছে নেন। তাঁরা বিয়ে উপলক্ষ্যে একটি ফটোশুট করার সিদ্ধান্ত নেন। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। নিজেদের এক ফটোগ্রাফার বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁরা ফটোশুটের জন্য ইদুক্কি চা বাগানে হাজির হন।

তাঁদের ফটোশুটের ভাইরাল হওয়া ছবিতে স্বল্প বসন পরিহিত সদ্য বিবাহিত দম্পতির প্রেম ভালো চোখে দেখতে পারেন নি সোশ্যাল মিডিয়ার নীতি পুলিশগণ। ছবিগুলিতে দম্পতিকে একটি মাত্র সাদা চাদরে ঢাকা অবস্থায় দেখা যায়। কিন্তু তাঁদের ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দে নাক না গলালে কারোর কিছু এসে যেত কি? ঋষি এবং লক্ষ্মী স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি ছবি গুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিলে মানুষের এমন প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

ঋষি জানান, এই ফটোশুটের ভাবনাটি প্রথম মাথায় আসে তাঁদের ফটোগ্রাফার বন্ধু অখিল কার্তিকেয়ানের। দম্পতির বিরুদ্ধে অশ্লীলতা অভদ্রতার অভিযোগ আনে সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকি লক্ষ্মীকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল কথাও বলা হয়। পাশপাশি এটাও বলেন যে “ফটোশুটের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আমাদের বন্ধুর প্রতিভা এবং তাঁর ক্যামেরার গুণের উপর। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষত ফেসবুকে আমাদের উপর নীতি পুলিশের আক্রমণ শুরু হয়।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের দিকে উড়ে আসতে থাকে বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তা। নীচের কি বস্ত্র পরিধান করে আছেন? এরকম টিটকারির মুখের তাঁদের পড়তে হয় বলে জানান তিনি। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও পরিবারের তরফে ফটোটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ অমান্য করে “আমার ছবি, আমায় ইচ্ছে” এই লক্ষ্যেই অবিচল থাকেন তাঁরা।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close