মহানগর

‘দুর্গাপুজোর পর করোনা সংক্রমণ কেটে যাবে’, আশার সুর কুমোরটুলির শিল্পীর গলায়

নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনা অতিমারীর জেরে মার্চ মাস থেকে একটানা লকডাউনে বাকীদের মতো মাথায় হাত কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীদেরও। দুর্গাপুজোর এই সময়টার দিকেই সারাবছর চেয়ে থাকেন তাঁরা। শুধুমাত্র রাজ্যেই নয়, দেশ বিদেশের নানা জায়গা থেকেও প্রতিমা তৈরির অর্ডার আসে এই কুমোরটুলিতে।কিন্তু এবছর সেসব অতীত। মৃৎশিল্পী গোবিন্দ পালের কথায় অন্যান্য বারের তুলনায় প্রতিমা তৈরির অর্ডার এবছর প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে গেছে। ফলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মৃৎশিল্প।

পুজোর মুখে শেষ বেলায় তবু কিছু আশার কথা শোনা যাচ্ছে শিল্পীদের গলায়। পুজো যতই এগিয়ে আসছে ছোটো ছোটো অর্ডারের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। অন্যান্য বারের ব্যবসার কাছে তা হয়তো সিন্ধুতে বিন্দুর সমান, কিন্তু তবু আশায় বুক বেঁধে তাকেই বরণ করে নিচ্ছেন গোবিন্দ পালরা। “এখন কদিন ধরে দেখছি কিছু ছোটো ছোটো খরিদ্দার আসছে। কিন্তু সময়ও তো অল্প। লিমিটেড অর্ডার নিতে হবে”, করুণ শোনায় তাঁর গলা।

প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রমণের প্রথম দিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ভাইরাস নিয়ে যে ভয় ছিল, সংক্রমণ না কমলেও সেই ভয় অনেকটাই কমে গেছে। ধীরে ধীরে যেমন লকডাউন শিথিল হয়েছে, তেমনি জনজীবন স্বাভাবিক করার প্রয়াসও দেখা গেছে।এমতাবস্থায় দুর্গাপুজোর বাজারও যথাসম্ভব সচল করতে ইতিমধ্যেই গাইডলাইন ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আর তাতেই আশার আলো দেখছেন ছোটোখাটো শিল্পী এবং ব্যবসায়ীরা। পুজো না হলে তাদের যে চরম দুর্দশার মধ্যে পড়তে হত তা বলাই বাহুল্য। সকলের মুখে তাই একটাই আবেদন, সব বিধি নিয়ম মেনেই পুজো হোক, মা দুর্গার আশীর্বাদে পৃথিবীর বুকে থেকে ভাইরাসের প্রকোপ কমে যাক। গোবিন্দ পালের কথায়, “আমরা এত কষ্ট করে মাকে তৈরি করি। আমরা মানি অশুভ শক্তিকে দমন করে শুভ শক্তির সূচনা হয় দুর্গাপুজোয়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস পুজোর পর মা দুর্গার আশীর্বাদে আস্তে আস্তে ঠিক ভাইরাসটা কেটে যাবে।”

 

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close