দেশ

কৃষক বিক্ষোভের মাঝে এবার আন্দোলনে নার্সরাও, কার্যত অচল দিল্লি AIIMS

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলনে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল গোটা দেশ। সরকারের সঙ্গে বারবার আলোচনাতেও এখানও পর্যন্ত মেলেনি কোনো সমাধান সূত্র। দিল্লিতে সেই কৃষক বিক্ষোভের আবহেই এবার বিদ্রোহ করে উঠলেন নার্সরাও।

দিল্লির এইমস (AIIMS) হাসপাতাল দেশের প্রথম শ্রেণীর স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অন্যতম। আর এদিন সেখানেই সমস্ত নার্স এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়ল চিকিৎসা ব্যবস্থা। বেতন বৃদ্ধি, নিয়োগ সহ একাধিক দাবি নিয়ে দিল্লি এইমসের নার্সরা এদিন বিক্ষোভ দেখান হাসপাতালে, বন্ধ রাখেন পরিষেবাও।

করোনা ভাইরাসের অতিমারীর মাঝে দিল্লির এইমস হাসপাতালের গতকালের চিত্রটি ছিল উদ্বেগজনক। রোগীরা ছিলেন, কিন্তু ছিলেন না কোনো নার্স বা স্বাস্থ্য কর্মী।প্রায় ফাঁকা হাসপাতালের চিত্র ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়, সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মনে বাড়ে উদ্বেগও।

গতকাল দুপুরে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের প্রায় ৫০০০ নার্স গতকাল বিকেল থেকে পরিষেবা বন্ধ রাখলে, এইমসের ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া তাঁদের কাছে একটি আবেগঘন আবেদন করেন। একটি ভিডিও বার্তায় এদিন তিনি বলেন, “এইমসের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা কোভিড ১৯-এর সময় যেভাবে কাজ করেছে তাতে আমি গর্বিত। কিন্তু মহামারীর এমন সময় নার্স ইউনিট স্ট্রাইক করছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক। ওঁরা ২৩টি দাবি আমাদের সামনে রেখেছেন। প্রায় সবকটিই এইমস কর্তৃপক্ষ আর সরকার দেখেছেন।

এবছর বিশ্বের সর্বকালের সেরা নার্স ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের ২০০ তম জন্মবার্ষিকী। এদিন দিল্লিতে নার্সদের বিক্ষোভে এইমস ডিরেক্টর তাই টেনে আনেন তাঁর প্রসঙ্গও। “এবছর ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের ২০০তম জন্মবার্ষিকী আমরা পালন করছি, যিনি অক্লান্ত ভাবে অসুস্থদের সেবা করেছিলেন। আমাদের নার্সরাও মহামারী কালে তেমন ভাবেই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।”

যদিও ডিরেক্টরের কথায় চিড়ে ভেজেনি। নার্সরা নিজেদের দাবিতে অবিচল। তাঁরা জানিয়েছেন, বহুদিন ধরেই তাঁরা তাঁদের এই সমস্ত দাবিগুলি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন,এমনকি সরকারও তাঁদের কথা শুনেছিলেন কিন্তু কোনোরকম ব্যবস্থা করা হয় নি। দেশ জুড়ে চলা মহামারী এবং কৃষক আন্দোলনের মাঝে নার্সদের এহেন বিক্ষোভ নিঃসন্দেহে ভীতির সঞ্চার করবে সাধারণ মানুষের মনে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close