গ্রিন রুমখবরছোট পর্দা

সবই বৃথা তোমায় ছাড়া! অবশেষে চলে গেলেন ঐন্দ্রিলা কিন্তু যা রেখে গেলেন…

রমেন দাস: এত জাঁকজমক। এত আনন্দ আয়োজন। সবই তোমায় ছাড়া বৃথা! পারলেন না তিনি পারলেন না। একাধিক যুদ্ধের পরেও হেরে গেলেন তিনি।

ঐন্দ্রিলা শর্মা। ১৯৯৮ থেকে ২০২২। মাত্র ২৩টা বছর। এই পৃথিবীর সমস্ত ভালো থাকার ছত্রে ছত্রে বিরচিত হয়ে রইলেন তিনি। প্রত্যেক মুহূর্তে শিখিয়ে দিয়ে গেলেন লড়াই। ভালো থাকার একাধিক উপজীব্যের হালহকিকত। কিন্তু আর পারলেন কই! একাধিক চেষ্টা, প্রার্থনা আর কথকতার ভিড়েও চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাছেই পরাস্ত হলেন সম্ভাবনাময়ী অভিনেত্রী। বলে গেলেন রণক্ষেত্রে টিকে থাকার কথা। আর প্রেম, ভালোবাসা এবং সব্যসাচীর গল্প। যে প্রেমিক আজও বিরাজমান, যাঁর প্রত্যেকটি পদক্ষেপ বলে গিয়েছে প্রেমের কথা। সুদিন অথবা দুর্দিনে কাছের মানুষের পাশে থাকার কথা।

কিন্তু যাঁকে নিয়ে এই আলোচনা? সেই ঐন্দ্রিলা কে (Aindrila Sharma Demise) ? শত শত খবরের ভিড় আর শক্ত কাব্যের আধারে আসলে বারবার আলোচিত হয়েছেন তিনি। খবরের ভাষায় রেকর্ড গড়েছেন ঐন্দ্রিলা।

১৯৯৮

মুর্শিদাবাদের বহরমপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছের এক চিকিৎসক পরিবারে জন্ম ঐন্দ্রিলা শর্মার। বাবা উত্তম শর্মা চিকিৎসক। মা নার্সিং হোস্টেলের ওয়ার্ডেন।

ছোট থেকে চিকিৎসক নয়, শিল্পী হওয়ার শখ ছিল ছোট্ট মেয়েটির। এলাকার এক দিদিমণির কাছে নাচের প্রশিক্ষণ। অভিনেত্রী হওয়ার তীব্র বাসনা আর পড়াশুনা যখন চলছে, ঠিক সেই সময়েই মেয়েটির জীবনে নামল মারাত্মক বিপদ!

২০১৫

ঐন্দ্রিলা তখন একাদশ শ্রেণি। হঠাৎ ঘাড়ে, পিঠে ব্যথা। আচমকা মারণরোগ ক্যান্সার বাসা বাঁধল তাঁর শরীরে। মাত্র ১৭ বছরের মেয়েটির স্বপ্ন তখন প্রায় শেষ।

২০১৬

যুদ্ধে জয়ী হলেন ঐন্দ্রিলা। দীর্ঘ চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে খানিকটা পিছু হঠল বোন ম্যারো ক্যান্সারের বিপদ।

২০১৭

অভিনেত্রী হওয়ার শখ পূরণের পথে এগোলেন তিনি। কলকাতায় পা পড়ল অভিনেত্রী হিসেবে। ‘ঝুমুর’ ধারাবাহিকে অভিনয় দিয়ে শুরু হল কাজ।

সব্যসাচী-অনুষঙ্গ

ঝুমুর থেকেই সব্যসাচীর (Sabyasachi Chowdhury) সঙ্গে আলাপ জমল অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলার। ক্রমশ বন্ধু থেকে ভালো বন্ধু হলেন দু’জনে। একের পর এক কাজ করতে শুরু করলেন ঐন্দ্রিলা।

২০২০

ভালোই চলছিল সবটা। কিন্তু সেই সুখের মুহূর্তেই ফের হানা দিল ক্যান্সার। এবার মারণরোগ স্পর্শ করল তাঁর ফুসফুস। চলল লড়াই। একদিকে প্রেমিক সব্যসাচীর সাহায্য অন্যদিকে পরিবার। ফের জিতলেন ঐন্দ্রিলা।

কিন্তু…

১ নভেম্বর, ২০২২

আচমকা জ্ঞান হারালেন অভিনেত্রী। হঠাৎ নয়া বিপদের তীব্রতায় ব্যতিব্যস্ত পরিবার তাঁকে ভর্তি করালেন হাসপাতালে। হাওড়ার এক বেসরকারি হাসপাতালে চলল চিকিৎসা। হল অস্ত্রোপচার।

৪ নভেম্বর। ভেন্টিলেশনে থাকা অভিনেত্রীর শারীরিক অবস্থার খানিকটা উন্নতি।

৭ নভেম্বর। হাত নাড়ালেন চেতনাহীন ঐন্দ্রিলা। পাশে সব্যসাচী।।

১২ নভেম্বর। ফের বিপদ। আবারও সংক্রমণ বাড়ল অভিনেত্রীর শরীরে।

১৪ নভেম্বর। প্রেমিকাকে নিয়ে ভালো খবর দিলেন সব্যসাচী চৌধুরী।

১৭ নভেম্বর। সকলেই এলো খারাপ খবর। হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলেন ঐন্দ্রিলা। কোনও রকমে প্রাণে বাঁচলেন তিনি।

১৮ নভেম্বর। মধ্যরাতে ছড়াল গুজব। মারা গিয়েছেন তিনি। একাধিক খবরে উত্তাল হল সোশ্যাল-দুনিয়া।

১৯ নভেম্বর। সকালে স্বস্তির খবর এলেও ফের বিকেলে এল ভয়ানক সংবাদ। আবারও হৃদরোগে আক্রান্ত হলেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা।একবার নয় একাধিকবার।

২০ নভেম্বর। সকালেই পরিস্থিতির অবনতি হল আরও। খারাপ হল ঐন্দ্রিলার শারীরিক অবস্থা।

বেলা গড়াতেই… চলে গেলেন অভিনেত্রী। আর লড়াই নয়, এবার এই জগৎ ছেড়ে অন্য জগতে পাড়ি দিলেন ঐন্দ্রিলা। থামল লড়াই। কিন্তু চিরন্তন করে গেলেন এক অনন্য, অনবদ্য কাহিনির মায়াজাল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close