দেশরাজনীতি

‘রাজস্থানেও ধর্ষণ হয়, শোরগোল শুধু হাথরাস নিয়ে’, নাম না করে কংগ্রেসকে ঠেস অমিতের

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: হাথরাস কান্ড নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন অমিত শাহ। জানালেন এই ঘটনায় ভারতীয় জনতা পার্টি পরিচালিত উত্তর প্রদেশের রাজ্য সরকারের কোনো গাফিলতি আছে বলে মনে করেন না তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য হাথরাসের প্রশাসনিক স্তরের গাফিলতির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন।

শনিবার এক সাক্ষাৎকারে হাথরাস নিয়ে মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।তিনি বলেন, “থানা স্তরে কিছু অফিসার মামলাটি মিসহ্যান্ডল করেছিল। তবে রাজ্য সরকারের তরফে কোনও গাফিলতি নেই। আমি মনে করি, বিশেষ তদন্তকারী দল গড়ে যোগী সরকার ঠিক কাজই করেছিল। তারা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে রিপোর্টও দিয়েছে। তার ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এক কথায় এই ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথের সরকারকে ক্লিনচিট দিলেন অমিত শাহ।

এছাড়া, উত্তর প্রদেশের প্রশাসনিক স্তরে পুলিশি ব্যবস্থায় কিছু সংস্কারের প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু সেই সঙ্গে হাথরাস নিয়ে এত শোরগোলের কারণ কী? তুলেছেন সেই প্রশ্নও।বলেছেন, “ধর্ষণ তো হাথরসেও হয়, রাজস্থানেও হয়। শুধু হাথরস নিয়ে কেন এত শোরগোল?” হাথরাস প্রসঙ্গে রাজস্থানের এই দৃষ্টান্তে কি পরোক্ষে ওই রাজ্যের কংগ্রেস সরকারকেই ঠুকলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? প্রশ্ন উঠেছে বিশেষজ্ঞ মহলে।

হাথরাসের নিম্ন বর্ণের তরুণীর মৃত দেহ পুলিশ পুড়িয়ে দিয়েছে রাতের অন্ধকারে, সে বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অমিত শাহ বলেন এটা নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। “সিট তদন্ত করছে।কয়েক জন অফিসারকে ইতিমধ্যে বদলিও করা হয়েছে। আর এখন তো তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে। এ সব নিয়ে কারও রাজনীতি করা উচিত নয়”, বলেন তিনি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত মাসে উত্তর প্রদেশের হাথরাস গ্রামে উনিশ বছর বয়সী এক তথাকথিত নিম্ন বর্ণের তরুণীর উপর উচ্চ বর্ণের কিছু ব্যক্তি নৃশংস অত্যাচার চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনার পনের দিন পর দিল্লির হাসপাতালে তরুণীর মৃত্যু হয়, তাঁর প্রতি অন্যায়ের প্রতিবাদে গর্জে ওঠে গোটা দেশ। তরুণীর মৃতদেহ রাতের অন্ধকারে চুপিসারে সৎকার করে ফেলার অভিযোগও ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মতো বিরোধী নেতৃত্ব এবং সাংবাদিকদেরও হাথরাসে পৌঁছোতে বাঁধা দেওয়া হয়।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close