খবররাজ্য

জেলে বসে ঝালে-ঝোলে পুজো কাটাবে কেষ্ট, রকমারি পদের এলাহি আয়োজন অনুব্রতর জন্য

মহানগর বার্তা ডেস্ক: মাথায় কম অক্সিজেন। সঙ্গে আবার ফিশচুলা! শরীর নিয়ে বেজায় চাপে বীরভূমের বেতাজ বাদশা! কিন্তু তাই বলে কি পুজোর আমেজ মাটি? জেলে বসেই চড়াম চড়াম ঢাকের আওয়াজ শুনলেও ভুরি ভোজে থাকবে শুধু গুড় বাতাসা! না সেগুরে এবার বালি। কেষ্ট অর্থাৎ অনুব্রত মণ্ডলের পুজো ভালো করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না আসানসোল জেল কর্তৃপক্ষ। ষষ্ঠী থেকে দশমী। বোধন থেকে ভাসান। কেষ্টর জন্য থাকছে তাঁর ডায়েট চার্ট মেনে ভোজের আয়োজন। কী কী থাকছে তৃণমূলের জেলবন্দী জেলা সভাপতির জন্য?

একটি অনলাইন বাংলা নিউজ সাইটের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, অনুব্রত মণ্ডলের রসনাতৃপ্তির জন্য বিশেষ ভূমিকা নেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠীর দিন মেনুতে খুব একটা বিশেষ কিছু না থাকলেও সপ্তমীতে কেষ্ট-মেনুতে থাকছে; ভাত, মুগের ডাল, দেশি মুরগির মাংস, চাটনি, পাঁপড়, দই, রসগোল্লা।

অষ্টমীতে অনুব্রত খাবেন নিরামিষ খিচুড়ি, পাঁচমিশালী তরকারি, মিষ্টি, পাঁপড় ভাজা। নবমীর দিন কেষ্ট-ভাগ্যে জুটছে; ভাত, মুগের ডাল, আলুভাজা, পুকুরের কাতলা মাছের ঝোল, দই, রসগোল্লা, চাটনি, পাঁপড়। সূত্রের খবর, রোজ ভাতের ব্যবস্থা নাও করা হতে পারে। একদিন পোলাও অথবা ফ্রায়েড রাইস করা হতেও পারে। যদিও ওই জেলের বাকি আবাসিকদের জন্যেও পুজোর দিনগুলিতে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকছে।

কৌশিকী অমাবস্যায় মা তারারা পুজো থেকে মহালয়ার দিন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ। কিছুতেই খামতি রাখেননি অনুব্রত। দুর্গা পুজোয় অঞ্জলি দেওয়ার জন্য জেলেই হত পুজো, শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছে তা। তবুও তিনি যাতে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করতে পারেন, সেই দিকেও নজর রাখছে জেল কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, গরু পাচার মামলায় সিবিআই হাতে গ্রেফতার হন অনুব্রত মণ্ডল। যে অনুব্রত বারবার বলতেন, একটা সময় একাই নাকি তিন কিলো পাঁঠার মাংস খেতে পারতেন। এমনকি জেলে আসার পরেও বায়না ধরেন অন্ধ্রের কাতলা নয়, পুকুরের মাছ খাবেন বলে। আজ সব শূন্য তবুও যা আছে এইটুকুতেই পুজো কাটবে তাঁর। অনুব্রতর বোলপুরের বাড়িতে কালি পুজো হলেও দুর্গা পুজো হয় তাঁর গ্রামের বাড়ি হাটসিরিন্দি গ্রামে। এবার জৌলুস কমেছে ওই পুজোর। কেষ্টহীন পুজো এবার যেন খেই হারিয়েছে অনেক আগে থেকেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close