fff
রাজনীতি
Trending

“অন্যের টাকা যত্ন করে রেখেছিলেন”, বহিঃরাজ্য থেকে নেটিজেনদের খোঁচা Arpita Mukherjee কে

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্কঃ “অর্পিতা মুখার্জী হলেন বিশ্বস্ততার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ”! লাইনটা পড়ে নিশ্চয়‌ই ভিরমি খাওয়ার জোগাড় হয়েছে? যাঁর ফ্ল্যাট থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে সেই অর্পিতা মুখার্জি (Arpita Mukherjee) সম্বন্ধে এই কথা বলেছেন দেশের একজন অতি পরিচিত আইপিএস অফিসার। ট্যুইট করে তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ওড়িশা সিআইডির এডিজি অরুণ বোথরা এই ট্যুইটটি করেন গত ২৮ জুলাই। যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে দেশজুড়ে।

এই সিনিয়র আইপিএস অফিসার ট্যুইটে লিখেছেন, “আপনারা যাই বলুন বিশ্বস্ততা কাকে বলে তার মূর্ত প্রতীক হলেন অর্পিতা মুখার্জি (Arpita Mukherjee)। ফ্লাটের পরিচর্যা বাবদ বকেয়া ১১,৮০৯ টাকা তাঁর কাছে ছিলনা। এই নিয়ে প্রকাশ্যে নোটিশও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি অন্যের অর্থ যত্ন সহকারে নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন, প্রয়োজন সত্বেও তাতে হাত দেননি‍!” এটি যে ব্যঙ্গ করে করা ট্যুইট তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

আসলে, যাঁর দুটি ফ্ল্যাট মিলিয়ে শুধু নগদ অর্থই ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে, সেই তিনিই নাকি সামান্য কয়েক হাজার টাকা ফ্ল্যাট মেন্টেন্স ফি বাকি রেখেছিলেন এই বিষয়টাই অবাক করেছে সকলকে। নেট দুনিয়ায় এই নিয়ে হাসি-মশককরাও হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয় আইপিএস অফিসার অরুণ বোথরাও সেই বিষয়টি নিয়ে তীব্র শ্লেষ মিশিয়ে ব্যঙ্গ করে এই পোস্টটি করেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ঝড় তুলেছে নেট দুনিয়ায়।

 

অর্পিতার বাকির বহর আর‌ও আছে

বেলঘরিয়ার ক্লাব টাউন হাইটস বা টালিগঞ্জ করুণাময়ীর ডায়মন্ড সিটির ফ্ল্যাটের বকেয়া‌ শুধু নয়। তাঁর কাছে কোটি কোটি টাকা থাকলেও পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখার্জি (Arpita Mukherjee) বোধহয় পাওনাদারদের প্রাপ্য সহজে মিটিয়ে দিতেন না। উদাহরণস্বরপ বলা যায়, তাঁর মামার বাড়ি হুগলির জাঙ্গিপাড়ায় বছর খানেক আগে তিনি একটি বাড়ি তৈরি করেন। যে ঠিকাদার সেই বাড়ি তৈরির দায়িত্বে ছিল তাঁরও পাঁচ লক্ষ টাকা বাকি রেখেছেন অর্পিতা!

পার্থ ও অর্পিতা গ্রেফতার হওয়ার পর সেই ঠিকাদার প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন গত এক বছর ধরে তিনি বকেয়া টাকা চেয়ে চেয়ে হয়রান হয়ে গিয়েছেন। এমনকি কেন তাঁকে টাকা চেয়ে বারবার বিরক্ত করা হচ্ছে, এই নিয়ে অর্পিতা মুখার্জি (Arpita Mukherjee) ধমকও দিয়েছিলেন বলে ওই ঠিকাদার জানিয়েছেন। বিস্ময়ের সুরে তিনি বলেন, “যার এত কোটি কোটি টাকা তার কাছে এই পাঁচ লাখ তো হাতের ময়লা। সেটা কেন আমাকে দিলেন না বুঝতে পারলাম না।” অর্পিতা গ্রেফতার হওয়ার পর কার্যত টাকা পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন ওই অসহায় ঠিকাদার।

কাছে কোটি কোটি টাকা, তবু কেন বকেয়া?

কাছে কোটি কোটি টাকা থাকা সত্ত্বেও, ফ্ল্যাটের সামান্য কয়েক হাজার মেন্টেনেন্স ফি বকেয়া। আবার বাড়ি তৈরির ঠিকাদারের পাঁচ লক্ষ টাকা, দিনের পর দিন বাকি রেখে দেওয়ার বিষয়টিতে অনেকে বিস্মিত। যদিও রাজনৈতিক মহল ও বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহালদের ধারণা, ফ্ল্যাটগুলি অর্পিতা মুখার্জির (Arpita Mukherjee) নামে হলেও এর আসল মালিক তিনি ছিলেন না। ইডির কাছে অর্পিতা জানিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের লোক এসে তাঁর ফ্ল্যাটে টাকা রেখে যেত। যে ঘরে টাকা রাখা থাকতো সেখানে তাঁর ঢোকার অনুমতি ছিল না। এই বিষয়টিকে তুলে ধরে ওয়াকিবহল মহলের দাবি, অর্পিতার ফ্ল্যাটে টাকা রাখা থাকলেও আসলে এর মালিক ছিলেন না তিনি। হয়তো চাইলে সেখান থেকে কিছু টাকা সরিয়ে নিতে পারতেন, তাতে খুব কিছু বোঝাও যেত না। কিন্তু অর্পিতা কখনোই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিশ্বাস ভাঙতে চাননি। আর তাঁকে বিশ্বাস করা যায় বুঝেই রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে সদ্য অপসারিত পার্থ এতটা সাহস পেয়েছিলেন।

তাঁর ফ্ল্যাটে থাকা কোটি কোটি টাকা যে আসলে তাঁর নয় সেটা অর্পিতা বুঝেছিলেন বলেই সেখান থেকে অর্থ নিয়ে ফ্ল্যাটের মেনটেনেন্স বা ঠিকাদারের বকেয়া মেটাননি। তবে এতে যে অর্পিতার অপরাধ কমে গিয়েছে ব্যাপারটা মোটেও তা নয়।

এই বিষয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি কী?

ইডি সূত্রে (ED) জানা যায়, অর্পিতা মুখার্জি (Arpita Mukherjee) গ্রেফতার হওয়ার পরই জানিয়ে দেন তাঁর ফ্ল্যাটে থাকা যাবতীয় অর্থ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। স্বাভাবিকভাবেই এই গোটা কাণ্ডের যাবতীয় নিশানা পার্থর দিকে ঘুরে যায়। কিন্তু রবিবার সকালে জোকার ইএসআই হাসপাতালে ইডি যখন পার্থ ও অর্পিতাকে মেডিকেল চেকআপের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল সেই সময়েই বাংলার এই বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “এই টাকা আমার নয়”!

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য কে কার্যত বিস্ফোরণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ এর আগেই তিনি বলেছিলেন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে ওই অর্থ যদি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের না হয় তবে কার? ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পার্থ চট্টোপাধ্যায় দু-চারজনের নাম করে বসবেন!

রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ মনে করছেন, দল পাশে নেই বুঝেই এবার ফোঁস করতে শুরু করেছেন পার্থ। হতে পারে আগামী দিনে তিনি হয়তো তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার নাম করতে পারেন। ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে সিপিএম ও বিজেপি ময়দানে নেমেছে। বিরোধীদের দাবি, ওই বিপুল পরিমাণ টাকা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের একার নয়। আসলে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের টাকার দেখভাল করতেন। আর তাঁর ‘সেফ কাস্টোডি’ ছিলেন অর্পিতা মুখার্জি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই নিয়ে সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন।

যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ জানিয়েছেন, পার্থ কারোর নাম নিলেই যে তিনি দোষী হয়ে যাবেন ব্যাপারটা তেমন নয়। আদৌ অন্য কারোর টাকা অর্পিতা মুখার্জির (Arpita Mukherjee) ফ্ল্যাটে রাখার বন্দোবস্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায় করেছিলেন কিনা সেটা তদন্ত সাপেক্ষ। কিন্তু রাজনীতির জগতে পারসেপশন বা আমজনতার মধ্যে তৈরি হওয়ার ধারণা হল আসল। একবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় যদি অন্য কারোর নাম নিজের মুখে উচ্চারণ করেন তবে জনমত সেই নেতা বা সংশ্লিষ্ট দলের বিপক্ষে চলে যেতে পারে!

ভিকটিম কার্ড খেলে পার্থ চট্টোপাধ্যায় কী বাঁচতে পারবেন?

এসএসসি দুর্নীতি (SSC Scam) মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় সবদিক থেকে জড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখার্জির (Arpita Mukherjee) ফ্ল্যাট থেকে শুধু যে বিপুল নগদ টাকা ও গয়না উদ্ধার হয়েছে তাই নয়, তাঁদের দুজনের অগুন্তি স্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে ইডি। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় মেয়ে-জামাইয়ের নামে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও হোটেল, ঝাড়গ্রামে আরেক ঘনিষ্ঠের নামে বিশাল বাগানবাড়ি, শান্তিনিকেতনে ৭-৮টা নামে-বেনামে বাংলো বাড়ি, ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের মাদুরদহে পার্থ-অর্পিতার ১০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের বাড়ি, কসবার রাজডাঙায় ‘ইচ্ছে’ নামে অনুষ্ঠান বাড়ি, বারুইপুরে বাগানবাড়ি এইসবও আলোচনায় উঠে এসেছে। এছাড়াও কলকাতা শহরেই অর্পিতা মুখার্জির নামে চার-পাঁচটা ফ্ল্যাট তো আছেই।

এমনিতেই পোষা সারমেয়দের জন্য আলাদা ফ্ল্যাট রেখে আগেই বিতর্কে জড়িয়ে ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এবার তাঁর নিজের নামে বা আত্মীয়-স্বজন ও অর্পিতার নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিস মেলায় দুর্নীতির অভিযোগে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গিয়েছেন পার্থ। এই বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির আর্থিক যোগান কোথা থেকে এল সেটাই তদন্ত করে দেখছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি যদি যুক্তির খাতিরে সত্যি বলেও ধরে নেওয়া হয়, যে অর্পিতা মুখার্জির ফ্ল্যাটে রাখা টাকা তাঁর নয়, অন্য কারোর। তবু তাঁর পক্ষে পুনরায় রাজনীতির দুনিয়ায় ফিরে আসা একপ্রকার অসম্ভব। কারণ দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি অত্যধিক নারী সঙ্গ নিয়ে তাঁর সম্বন্ধে জনমানসে এক ভয়ঙ্কর ধারণা তৈরি হয়েছে। আগের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আর পার্থ ফিরে পাবেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

 

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please Disable your ADBlocker!