ফিচার

সরকারি চাকরি দিয়েই কর্মজীবনের শুরু,আজ জনগণের বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলী

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্কঃ আমার মাথায় বন্দুক ধরতে পারেন। আমি মরতে রাজি, কিন্তু কোনও দুর্নীতি দেখে আদালত কখনও চুপ করে থাকবে না,বক্তব্যটি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ।তিনি এখন জনগণের চোখে এখন হিরো। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এখন তারই নাম।কেউ কেউ আবার তাঁকে আখ্যা দিয়েছে জনগণের বিচারপতি। কলকাতা হাইকোর্টের একের পর এক মামলা তিনি জনসমক্ষে নিয়ে আসছেন। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছে তিনি এখন মসিহা।পার্থ চ্যাটার্জী থেকে পরেশ অধিকারীদের মত মন্ত্রীদের তাঁর রায়ের জেরেই নিজাম প্যালেস অবধি দৌড় করাচ্ছে সিবিআই। একঝলকে দেখে নিই এই সাহসী বিচারপতির উত্থান।

সরকারি চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। মিত্র ইনস্টিটিউশনের মেইন ব্রাঞ্চে পড়াশোনা করেছেন তিনি। স্নাতকের পর পাঁচ বছর আইন নিয়ে পড়েন। এরপর ডব্লুবিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ‘এ’ গ্রেডের অফিসার হন। সেই সময় উত্তর দিনাজপুরে পোস্টিং ছিল অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। জমির পাট্টা বিলি নিয়ে চরম দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে পঞ্চায়েত সদস্যের  বিরুদ্ধে তখন রুখে দাঁড়ান তিনি। সেই ঘটনায় এক গ্রামপঞ্চায়েত সদস্য তাঁকে চোখ রাঙিয়েছিলেন। এক ডব্লুবিসিএস অফিসারের এভাবে অপদস্থ হওয়া কোনওভাবেই মানতে পারেননি তিনি। এই দুর্নীতির কারণেই সেখান থেকে সরে দাঁড়ান বলে শোনা যায়।

সূত্র মারফত জানা যায়, ২০০৮ সাল থেকে বিচারপতি হওয়ার আগে অবধি স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-এর প্যানেলের আইনজীবী হিসাবে তিনি কাজ করতেন। ২০১৮ সালের ২ মে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসাবে আসেন কলকাতা হাই কোর্টে। ২০২০-র ৩০ জুলাই হাই কোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসাবে কাজ শুরু করেন তিনি। ২০২১ সাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) দুর্নীতির বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিবিআই অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
স্কুল শিক্ষা কমিশনের দুর্নীতি বাদেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদালত সাক্ষী থেকেছে তাঁর মানবিক রায়ের। ৭৬ বছরের বৃদ্ধার ২৫ বছরের বেতন, এরিয়ার-সহ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। টানা ৩৬ বছরের লড়াইয়ের শেষে এজলাসেই কেঁদে ফেলেন বৃদ্ধা। আইনের হাত ধরে রায়গঞ্জ করোনেশন স্কুলের শিক্ষিকার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এই বিচারপতিই। আবার ব্লাড ক্যান্সার আক্রান্ত বীরভূমের নলহাটির সোমা দাসের প্রাপ্যও ফিরিয়ে দেওয়ার রায়ও তাঁরই দেওয়া। এছাড়াও, অন্য একটি মামলায় স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষকের বেতন আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। সেই মামলায় বেনজির রায় দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় । ১০ জুন পর্যন্ত স্কুলে ঢোকা বন্ধ করে দেন শিক্ষকের। স্কুলের গেটে দু’জন সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করার সিদ্ধান্তও নেন তিনি।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close