মহানগর

বলিউড মানেই বিবাহ বিচ্ছেদ! ক্যান্সার আক্রান্ত স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে এই মিথ ভেঙেছিলেন আয়ুষ্মান

রমেন দাস

”পুরুষ কাকে বলে? যে ঘর চালাবে, শক্তিশালী হবে, মেয়েদের বাঁচাবে, কাঁদবে না! আমার তো এমন হওয়ার ইচ্ছা ছিল না! যে কাঁদবে, হাসবে, প্রয়োজনে বাঁচাবে, গান গাইবে… আমার তো এমন পুরুষ হওয়ার কথা ছিল!” – সোশ্যাল-দুনিয়ায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল এই সাক্ষাৎকার।

আসলে এই ভূমিকা ভণিতা যাঁর দরুন। তিনি আর কেউ নন, অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানা। আজ তাঁর জন্মদিন। বলিউড, বিশেষত ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে ঠিক যে যে কারণে, একজন অভিনেতা জনপ্রিয় হন, তার প্রায় সবটাই বর্তমান আয়ুষ্মান-ঘরানায়। যে সময় দাঁড়িয়ে ‘স্টিরিওটাইপ’ গল্প আর ছক বাঁধা অভিনয়ে নিজেদের ‘ইমেজ’ বজায় রাখতে চেয়েছেন তাবড় তাবড় অভিনেতারা। ঠিক সেই সময়েই অতল সমুদ্রে শুধুমাত্র নতুনের চাহিদায় ডুব দিয়েছেন আয়ুষ্মান। যে সময়ে একের পর বিচ্ছেদের দাবদাহে উত্তেজিত হয়েছে তারকা-জগৎ, ঠিক সেই সময়েই স্ত্রী-র পাশে দাঁড়িয়ে নজির সৃষ্টি করেছেন অভিনেতা আয়ুষ্মান।

মরতে মরতে বাঁচতে থাকা, ঘুমহীন তাগিদ যদি দিনের পর দিন পিঠ ঠেকিয়ে দেয় দেওয়ালে! কী করবেন তখন? অনেকেই বলেন, জীবনের না পাওয়া আর লড়াইয়ের অমোঘ বিচরণে, খাদের কিনারে এসেও কী ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, তা শিখিয়েছেন আয়ুষ্মান। বলিউডের বহু সুদর্শন, ভাল অভিনেতাকে হারিয়ে শুধু অনস্ক্রিন নয়, সংসার আর জীবনযুদ্ধ আর পরিবারের সঙ্গে থাকার জীবন্ত মঞ্চেও তিনি হয়ে উঠেছেন অনন্য, মৌলিক। কেন বলছি একথা? কেন আয়ুষ্মানের জীবন, যৌবনের দোলাচলে স্ত্রীর সঙ্গে থাকা নিয়েও আলোচনা হয় বারবার? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে, আয়ুষ্মান ইতিহাসে চোখ বোলানো প্রয়োজন।

১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৪। পঞ্জাবের চণ্ডীগড়ে জন্ম নিলেন নিশান্ত খুরানা। ৩ বছর বয়সে বদলে গেল নাম। নিশান্ত হয়ে উঠলেন আয়ুষ্মান খুরানা। চণ্ডীগড় সেন্ট জনস্ স্কুলে-র পাঠ চুকিয়ে ডিএভি কলেজ। ইংরেজির ছাত্র আয়ুষ্মান ছিলেন মেধাবী। এরপর আর ইংরেজি নয়, সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পূর্ণ করলেন তিনি। বরাবরই তথাকথিত ‘হাড্ডা গাড্ডা’ পঞ্জাবি পুরুষ হতে চাওয়া নয়, মেধাবী আয়ুষ্মান আপন করে নিতেন শিল্পকে। হতে চাইতেন গায়ক। কলেজ জীবনে বন্ধুদের গিটার বাজিয়ে গান শোনাতে দ্বিধা করতেন না তিনি। কলেজ জীবনেই গতিপথ বদলে ফেলেন গায়ক আয়ুষ্মান। সমাজের তথাকথিত অবস্থানের বিরুদ্ধে হেঁটে বন্ধুদের সঙ্গে তৈরি করে ফেলেন দু’টি নাটকের দল। ডিএভি কলেজেই ‘আঘাজ’ এবং ‘মঞ্চতন্ত্র’ নাম দেওয়া হয় সেই দলের। অভিনয়ের হাতেখড়ি সেখান থেকেই। বরাবর থিয়েটারে পোক্ত অভিনেতা শিমলার ‘গেইটি থিয়েটারে’র সঙ্গেও কাজ শুরু করেন। এদিকে সমসাময়িক পথনাটকে আয়ুষ্মান ছিলেন সেরা। বম্বে আইআইটি-র ‘মুড ইন্ডিগো’, পিলানির ‘ওয়েসিসে’র মতো ফেস্টিভালে মঞ্চের মহিমায় পুরষ্কৃত হন আয়ুষ্মান। ‘অশ্বথ্থমা’ নাটকের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান তিনি। যদিও এই পথও সহজ ছিল না অভিনেতার কাছে। বরাবর গায়ক হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে বেঁচে থাকা সাংবাদিকতার ছাত্র হয়ে গেলেন অভিনেতা। শুরু হল সত্তার সঙ্গে বেঁচে থাকার লড়াই।

সুদর্শন চেহারার যুবক দক্ষতার তুলনায় বহু অডিশনে আবর্তিত হলেন রূপে। কোথাও প্রেম, যৌনতার প্রস্তাব। কোথাও আবার ছোট রোলের প্রস্তাব পেতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু, কী ভাবে চলবে আগামী! প্রত্যেক দিনের ব্যর্থতা একের পর এক প্রত্যাখান, পরিবারের আশা- আকাঙ্ক্ষার কাছে হারতে থাকেন তিনি। পুরুষের আবার দুঃখ হয় নাকি! আয়ুষ্মানের দুঃখ হত রোজ। পুরনো গিটার বাজিয়ে গুনগুন করা ছেলেটাও চোখের জলে বালিশ ভেজাতেন প্রতি মুহূর্তে। বরাবর মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, ভাই অপরাশক্তিকে নিয়ে খুব একটা খাওয়ার অভাব বোধ করেননি। ভালোই চলছিল সব। কিন্তু আশা আর জিতে যাওয়ার তাগিদের রাস্তায়, এই আয়ুষ্মানকেই খাবার জোটাতে হিমশিম খেতে হত মাঝে মাঝেই।

বহু অভিনেতাদের সোজা গন্তব্য আরব সাগরের পাড়ে মুম্বই হলেও আয়ুষ্মান অভিনয় নয়, পড়াশুনার পাঠ চুকিয়ে চাকরি করতে যান দিল্লি। ২০০৪ সাল। বিগ‌এফ‌এমে-র ‘বিগ চা-ই’ নামের রেডিও শোয়ে প্রথম ব্রেক। ভাড়া বাড়ি থেকে অফিস অটো করে যাতায়াত। কখনও বাসে। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়ে দিতেন আয়ুষ্মান। বন্ধুবৃত্তের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন না পাওয়ার কথা শুধু। যে স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে চাইতেন,গায়ক পরে অভিনেতা! কখন যে সবটা মধ্যবিত্ত পরিবার আর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এভাবে গ্রাস করে নিল, ভাবতে পারতেন না তিনি। একাধিক ইন্টারভিউয়ে বলেছেন সে কথাও। ‘ম্যায় তেরা আয়ুষ্মানে’র রেডিও জকির এভাবেই ৩ বছর কাটে। ২০০৭ সাল নাগাদ, ‘ইয়ং অ্যাচিভার’ পুরস্কার পান তিনি। জীবন ঘুরতে থাকে ক্রমশ। যে আয়ুষ্মান একদিন অডিশন দিতে গিয়ে প্রত্যাখান আর কুপ্রস্তাবের শিকার হয়েছিলেন, যে আয়ুষ্মান অটোভাড়া জোগাড় করতেও হিমশিম খেতেন একদিন, সেই-ই পেলেন সবচেয়ে কম বয়সে ‘ভারত নির্মাণ পুরস্কার’। যদিও লড়াই চলছিল তখনও।

ক্রমেই পরিচিত হয়ে উঠলেন চণ্ডীগড়ের আয়ুষ্মান। মুম্বই। এমটিভি-র একাধিক অনুষ্ঠানে সুযোগ। লড়াই তখন খানিকটা সহজ। ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই সময়ের খ্যাতির এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেও বিয়ে করলেন। বাল্যবন্ধু তাহিরা কাশ্যপকে বিয়ে করে লড়াই শুরু করলেন দু’জনে। বরাবর পরিবারের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখা আয়ুষ্মান, কালার্স চ্যানেলে-র ‘ইন্ডিয়াস গট্ ট্যালেন্ট’-সহ একাধিক টিভি রিয়্যালিটি শো থেকে শুরু করে সঞ্চালনার দুনিয়ায় ছড়িয়ে গেলেন খেলার মাঠেও। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

গায়ক হতে হতে অভিনেতা সেখান থেকে রেডিও জকি, টিভি শো সঞ্চালনা, একাধিক রূপে নিজের বিচরণ ঘটিয়ে বহু বছর পর, ২০১২ সালে বড় পর্দায় পা দিলেন আয়ুষ্মান। বাঙালি পরিচালক সুজিত সরকারের হাত ধরে ‘ভিকি ডোনারে’র প্রবেশ বড় পর্দায়। ভিন্ন ধারার ছবির ভিকি মন কাড়ল দর্শকের। ক্রমশ সুযোগ পেতে থাকলেন তিনি। ২০০৩ সালের বিখ্যাত গান, রোচক কোহলির ‘পানি দা রঙ’ গানে গলা মেলালেন ফের। স্বপ্ন সত্যি হল আয়ুষ্মানের। ২০১৩ সালেই অনেককে পিছনে ফেলে ‘ফোর্বসে’র সেরা ১০০ তারকার তালিকায় জায়গা নিলেন ‘ভিকি’ খুরানা। এরপর একের পর এক ছবি। ২০১৫ সাল পর্যন্ত তাঁর অভিনীত একাধিক ছবি হিট। বলিউডে যশ রাজ ফিল্মসে-র ব্যানারে কাজ পেলেন আয়ুষ্মান। ‘দম লাগাকে হ্যায়সা’ সফল হলেও ২০১৭ নাগাদ ‘মেরে পিয়ারি বিন্দু’ খুব একটা সফলতা পায়নি। কিন্তু তিনি থামেননি। ভেঙে পড়েছেন মুহূর্তেই। আবার উঠেও দাঁড়িয়েছেন।

ভালোই চলছিল সংসার। মেধাবী তাহিরার কাজ। আয়ুষ্মানের অভিনয়, সব মিলিয়ে কেটে যাচ্ছিল দিন। তবে কথায় আছে, ভাগ্য যখন খারাপ হয় সবকিছুকেই ডুবিয়ে দেয় অন্ধকারে! ২০১৮ সাল। তাঁর দুই সন্তানের মা তাহিরা আক্রান্ত হলেন বক্ষ ক্যান্সারে। মাথায় আকাশ ভাঙল। ২০০৮ থেকে একদশকের বেশি সময় হাত ধরে থাকা সঙ্গীর এই বিপদে ভেঙে পড়েন আয়ুষ্মান। সফলতার মধ্যগগনে থাকা আয়ুষ্মান যেন ধ্বংস হন নিমেষেই! কিন্তু যে ছেড়ে যাওয়ার তাগিদ আসতে পারত ২০১২ থেকেই। যেখানে আমির খান অথবা একাধিক তারকার দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ, সুদর্শন তথাকথিত আবেদনময় অভিনেতার এগিয়ে যাওয়ার সময় প্রভাব বিস্তার করতে পারত, সেখানেই তিনি হয়ে রইলেন মৌলিক। আর শক্ত করে হাত ধরলেন স্ত্রী-র। ফের ঘুরে দাঁড়ালেন ওঁরা। অপারেশন। বিদেশে চিকিৎসা। কেরিয়ারে খানিকটা বিরতি। অদম্য জেদ আর লড়াই চলল নিরন্তর। ক্যান্সার খানিকটা জয় করলেন তাহিরা। এদিকে চলতে থাকল আয়ু-যুদ্ধ। একই বছরে ‘অন্ধধুন’-র মতো ছবি, জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে তুলল অভিনেতাকে। চলতে থাকল গান। একদা স্বপ্ন দেখা ছেলেটা এগোলেন নিজের মতো করেই।

আসলে, ভিন্নধারা এবং সাহসী বিষয়ে ছবি কী ভাবে করতে হয়, তা বোধহয় বিশ শতকের আয়ুষ্মান শেখান বারবার। সকলকে অবাক করে তাঁর ‘আর্টিকেল-১৫’-এ অভিনয়। এরপর ‘ড্রিম গার্ল’, ‘বালা’। এর মধ্যেই ‘জলবা’ দেখিয়েছেন ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’-এ।

থামেননি অভিনেতা। স্ত্রী-রক্ষার ভার কাঁধে নিয়েই নিজের গোত্রের মর্যাদা রেখে এবার পা দিলেন বিতর্কের সমকামে। আয়ুষ্মান প্রথম, যিনি অতিসহজেই মানুষের সামনে, বিশ্বের সামনে সমকাম-বিদ্বেষ এবং ভারতীয় সমাজের কথা তুলে ধরেন। ২০২০ -এর করোনা- কালের আগে মুক্তি পাওয়া ‘শুভ মঙ্গল জাদা সাবধান’ ছবিতে অভিনেতা জিতু কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে সাহসী পদক্ষেপ নেন তিনি। বরাবর সংকীর্ণ আর স্টিরিওটাইপ জঁ-র বাইরে বেরোতে চাইতেন তিনি। করেও দেখান বারবার। জনপ্রিয়তাকে হাতিয়ার করে এগিয়ে গেলেন ফের। দুই সন্তানের বাবা নিয়ে ফেললেন চলচ্চিত্র-রিস্ক!

কেন? অনেকেই বলেন, ৩৭৭ -এর মতো ধারা বিলোপের পরেও দেশের সমাজব্যবস্থায় সমকামী মানেই তৃতীয় লিঙ্গের ধারণা রপ্ত রয়েছে। আর এই বিষয়টি যে অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক নয়, এই মনোভাবও আবর্তিত হয় বারবার। অচিরেই সাধারণ সমাজের থেকে খানিকটা ভিন্ন মনোভাবাপন্নদের আটকে থাকতে হয় বারবার। ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে চলচ্চিত্রকে সমাজের দর্পণ হিসেবে ব্যবহার করলেন এই ছবির পরিচালক। আর তাতে ইন্ধন জোগালেন পোড়খাওয়া থিয়েটার অভিনেতা আয়ুষ্মান। যেখানে প্রশ্ন উঠেছে তিনি কি সমকামী, এই নিয়েও। না বলেছেন আয়ুষ্মান, কিন্তু তিনি বলেছেন, ”আমি সমকামী কি সমকামী নই, তার চেয়েও বড় আমরা সমকামী হলে তাঁদের সঙ্গে ঠিক কী কী করি এবং কেন করি!”

সম্প্রতি ‘আনেকে’র মতো সাহসী গল্পের ছবিতে তাঁর কাজ প্রশংসা কুড়িয়েছে। আসলে হিট আর ফ্লপ অথবা বক্স অফিসের দোদুল্যমানতা নয়, আয়ুষ্মান বারবার চেয়েছেন, অভিনেতার সঙ্গে সমাজের সাধারণ মানুষ আর সত্তার মিশেল ঘটাতে। চিরকাল লড়াইয়ের গতিপথকে আপন করে নেওয়া ছেলেটা, লোকাল পরিবহনে যাতায়াত করা অথবা দিল্লির রাজপথে আনমনে হেঁটে বেড়ানো ছেলেটা, গভীর থেকে আসলে যা চাইতেন, সেটাই করেছেন বারবার। স্ত্রী, বন্ধু, ভাই, পরিবার, সন্তানের আবহেও নিজের মতো থেকেছেন নিজেই। পিয়ানো বাজিয়ে ‘বেলা চাওয়ে’র সুরে ঝড় তুলেছেন কখনও। সুদর্শন শরীরের ছবিতেও লিখে দিয়েছেন কবিতা। করোনাকালে পাশেও দাঁড়িয়েছেন সহ-নাগরিকদের।

স্ত্রী-র ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার লড়াইয়ে পাশে থেকেছেন রোজ। পরকীয়া আর রূপের জাদুতে মহিলা অথবা পুরুষ-সঙ্গে মেতে থাকার পরিবর্তে আয়ুষ্মান মেতেছেন অভিনয়ে-গানে-গিটারে- পিয়ানোয়। কম বয়সেই হয়েছেন পরিণত। দুঃখ জর্জরিত মননে এই অভিনেতাই হয়তো প্রথম, যিনি চিৎকার করে বলে উঠেছেন, ”তুমি সমকামী হও আর না হও, তুমি মহিলা হও আর পুরুষ, তুমি ভাল আর খারাপ। তুমি শুধু মানুষের মতো মানুষ হও!” আর মানুষের মতো মানুষ আর অভিনেতার মিশেলে আয়ুষ্মান হয়েছেন আসল জেন্টলম্যান! যিনি কাঁদেন, হাসেন, মানুষের কথা বলেন আর মানুষের জন্যই বারবার দেখিয়ে দেন মানবিকতা আর উত্তরণের পথ!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close