ফিচার

টানা ৬৪ দিন অনশন, ফাঁসির আগে জেলের এক দানা খাবারও মুখে তোলেননি ভগৎ সিং

মহানগর বার্তা ওয়েব ডেস্ক:কবি মনীন্দ্র রায় তাঁর ‘চিঠি’ কবিতায় লিখেছিলেন, “দেশকে ভালবাসো, সে তোমার গর্ব। আমারও তা। কিন্তু শিরায় শিরায় এমন ওতপ্রোত আশ্চর্য চেতনা আছে কি?”

আজ ১১৩ তম জন্মবার্ষিকীতে ভগৎ সিংকে স্মরণ করতে গিয়ে মনে পড়ে যায় সেই কথাই। দেশবাসী হিসেবে মাতৃভূমির প্রতি নাড়ির টান, হৃদয়ের ভালোবাসা থাকে সকলেরই। কিন্তু দেশপ্রেমের অনুভূতি ঠিক কোন পর্যায়ে পৌঁছলে বিদেশী শাসকের হাত থেকে দেশকে স্বাধীন করতে নিজের মূল্যবান প্রাণটাই দিয়ে দেওয়া যায়? শাসকের প্রতি ঘৃণা ঠিক কোন পর্যায়ে পৌঁছলে কারাগারে বন্দী অবস্থায় তাদের দেওয়া খাবার প্রত্যাখ্যান করে অনশনে কাটিয়ে দেওয়া যায় দিনের পর দিন?
এই সব প্রশ্নের উত্তর হয়তো বর্তমান প্রজন্মের স্বাধীন ভারতের নাগরিকদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। বিদেশি শাসনে অধীনতার যন্ত্রণা একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শীরাই যথার্থ অনুভব করতে পারবে।
আর তাই স্বাধীন দেশের স্বাধীন সূর্যের আলোয় দাঁড়িয়ে শিউরে উঠতে হয় বিশ শতকের সেই বছর তেইশের যুবকের দিকে তাকালে।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ঘোষণার পর, মূলত বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন পরিণত হয়ে উঠেছিল সশস্ত্র বৈপ্লবিক আন্দোলনে। বিদেশি সরকারের প্রতি পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে সেদিন যেসব তরুণ তাজা প্রাণ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল, ভগৎ সিং ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। পাঞ্জাবের লায়ালপুর প্রদেশের ( বর্তমানে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত) এক শিখ পরিবারে ১৯০৭ সালে আজকের দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কৈশোরেই ভগৎ ইউরোপীয় বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে পড়াশোনা করেন এবং নৈরাজ্যবাদ ও কমিউনিজমের প্রতি আকৃষ্ট হন।এরপর ধীরে ধীরে তিনি একাধিক বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের (এইচআরএ) সঙ্গে যুক্ত হয়ে মেধা, জ্ঞান ও নেতৃত্বদানের ক্ষমতায় তিনি অচিরেই এই সংগঠনে নেতায় পরিণত হন এবং সংগঠনটিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে এটিকে হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনে রূপান্তরিত করেন। প্রবীন নেতা লালা লাজপৎ রাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তিনি ব্রিটিশ পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট স্যান্ডার্সকে হত্যা করেন, যদিও সেদিন তাঁর বন্দুকের লক্ষ্য ছিল অন্য এক অফিসার। এরপর ১৯২৯ সালে কেন্দ্রীয় আইনসভায় বোমাবাজির অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার হন ভগৎ। জেলে টানা ৬৪ দিন অনশন চালানোর পর ১৯৩১ সালে ফাঁসি হয় তাঁর।

আজ দেশজুড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ, সাম্প্রদায়িকতার মাধ্যমে যখন স্বাধীন ভারতের ঐক্যবদ্ধ আদর্শ বারবার প্রশ্নের মুখোমুখি হয়, তখন ভগৎ সিং-এর দেশপ্রেমের চেতনা একান্তই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close