আম আদমি

মনের ইচ্ছে, পায়ের জোর ! ৫৫ বছর বয়সে সাইকেলে বিশ্ব ভ্রমন করেছেন চেতলার পরিমল কাঞ্জি

মহানগর বার্তা ডেস্ক : বাঙালি মানেই ভ্রমণ পিপাসু, একথা আমরা সবাই জানি। পকেটে জোর না থাকলেও অজানাকে জানার ইচ্ছাশক্তি নিয়ে এই বাঙালিই পাড়ি দিয়েছে দুর-দূরান্তে। এমনিই এক ছুটে চলার অন্তহীন ইচ্ছের কাছে আর্থিক অসঙ্গতিকে হারিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন ৫৫ বছরের পরিমল কাঞ্জি। দক্ষিণ কলকাতার চেতলার বাসিন্দা পরিমল। বাউন্ডুলে হওয়ার সাধে ঘর ছেড়েছেন। অসম্ভবকে সম্ভব করে সাইকেলে চেপে ভারত ঘুরে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মানুষকে।

পেশায় পরিমল একজন গ্যাস ওভেন সারাইয়ের মিস্ত্রি। কাজের সুত্রে প্রায়ই নিজের পুরনো সাইকেলটা নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন পরিমল বাবু। নিজের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে বৃহত্তর জগৎকে চাক্ষুষ করার ইচ্ছা তাঁর চিরকালই ছিল। শেষ পর্যন্ত মনের সুপ্ত বাসনাকে চরিতার্থ করতে সাইকেল নিয়েই বেরিয়ে পড়লেন তিনি। সঙ্গে নিলেন কিছু জামাকাপড়, শুকনো খাবার আর বন্ধুর দেওয়া সামান্য হাত খরচের টাকা। এরপর একে একে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কেরল, জম্মু-কাশ্মীর সহ মোট ১৩টি রাজ্য ঘুরে লাদাখে পৌঁছন তিনি। ফিরতি পথে নেপাল হয়ে কলকাতা ফেরার পথে রায়গঞ্জে আসেন। সেখানে এসে পৌঁছতেই তাঁকে সম্বর্ধনা জানান রায়গঞ্জের বাসিন্দারা এবং হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

লাদাখে কিছু ভ্রমণপিপাষুর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। তাঁর সঙ্গে ছবি তুলে অনেকেই শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরিমল কাঞ্জি পথে যেতে যেতে পরিবেশ সচেতনের বার্তাও দেন। গাছ লাগানো, পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করেন। পরিমলবাবু বলছেন, একটা সময় আমারও স্কুটার ছিল। তখন পেট্রল ছিল ১৬ টাকা লিটার। আজ সেটা ১০০ টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে। লোকে দু’কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে গাড়ির ব্যবহার করে। পরিমলবাবুর কথায়, “আমার অত সাধ্য নেই৷ তাই সাইকেলেই ভাল।”

 

তিনি বলেন, “এসব নিয়েই তো জীবন। চলার পথে বহু মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি। এবার কলকাতায় ফিরে সাময়িক বিরতি। তারপর অদেখা, অসম্পূর্ন স্থানগুলোকে নিয়ে আবার বেরিয়ে পড়ব।” সমতল রাস্তায় দিনে একশো আশি কিলোমিটার আর পাহাড়ি অঞ্চলে ষাট কিলোমিটার সাইকেল চালিয়েও ক্লান্ত নন তিনি। বরং নিজের চেনা জগৎ ছেড়ে বেরিয়ে বাইরের অচেনা জগত দেখার নেশায় মত্ত পরিমল।

আরও পড়ুন: ‘বর্ণপরিচয়ের স্রষ্ঠা মাতঙ্গিনী হাজরা’, মন্তব্য অভিষেকের, ট্যুইটে কটাক্ষ শুভেন্দু’র

বাঙালি প্রবীণের এই অসাধ্য সাধনের গল্পই আজ লোকমুখে ঘুরছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন তিনি। পরিমল কাঞ্জির মত মানুষেরা হয়তো এইপ্রকার জীবন দর্শনেই বিশ্বাসী। তাই আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলেও পাগলামি থেমে থাকবে না। ছেলেকে দোকানে বসিয়ে তিনি চলেছেন ভারত ভ্রমণে। তাঁর এই ইচ্ছাকে সাধারণ মানুষ কুর্নিশ জানিয়েছেন।

সবার খবর সঠিক খবর পড়তে চোখ রাখুন মহানগর বার্তায়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close