দেশরাজনীতি

‘শূদ্রদের শূদ্র বললে গায়ে লাগে কেন?’, ফের বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুরের

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: জাতপাত ধর্ম ইত্যাদি নিয়ে মন্তব্য করে এর আগেও একাধিক বার বিতর্কে জড়িয়েছেন মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেত্রী প্রজ্ঞা ঠাকুর। এদিন আরো একবার তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহলে।

শূদ্রদের শূদ্র বললে কেন তাঁদের খারাপ লাগে, এদিন সে বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ভোপাল লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুর। শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন সামাজিক ব্যবস্থার প্রতি অবহেলা ও অজ্ঞানতার জন্যেই শূদ্রদের এই আচরণের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার মধ্যপ্রদেশের সেহোরে একটি ক্ষত্রিয় মহাসভায় বক্তৃতা দিয়েছিলেন সাধ্বী প্রজ্ঞা ওরফে প্রজ্ঞা ঠাকুর। সেখানেই ‘ধর্মশাস্ত্র’ অনুযায়ী চার বর্ণে বিভক্ত সমাজব্যবস্থার কথা বলেন তিনি। তাঁর কথায়, “ক্ষত্রিয়কে ক্ষত্রিয় বলুন, খারাপ লাগে না। ব্রাক্ষ্মণকে ব্রাক্ষ্মণ বলুন, খারাপ লাগে না। কিন্তু শূদ্রকে শূদ্র বলে দেখুন, তাদের খারাপ লেগে যায়। এর কারণ কী? কারণ অবুঝরা কিছুতেই বোঝে না।”

এখানেই থামেননি বিজেপির প্রজ্ঞা ঠাকুর। অন্য একটি প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, “যাঁরা দেশদ্রোহমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাদের জন্যেই জন্ম নিয়ন্ত্রক আইন প্রযোজ্য হওয়া উচিত। দেশের মানুষদের জন্য নয়।” দিল্লিতে আন্দোলনরত কৃষকদের বামপন্থী দেশদ্রোহী বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।”যাঁরা কৃষকের নামে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে তারা কৃষক নয়, তারা কংগ্রেসের লোক এবং বামপন্থী। দেশের মানুষের কাছে তারা ভুল তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে। ঠিক যেমন ভাবে শাহিনবাগেও একই কাজ করেছিল”, বলেন তিনি।

সেই সঙ্গে এদিন ক্ষত্রিয় মহিলাদের আরো বেশি করে সন্তান উৎপাদনের পরামর্শও দিয়েছেন সাধ্বী প্রজ্ঞা, যাতে ক্ষত্রিয়রা সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।

বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞার এহেন বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় সামিল হয়েছেন অনেকেই। বিরোধী নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া, সর্বত্রই নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close