বিনোদনফিচার

পাঁচজন বলিউড তারকা দেশদ্রোহীতার অভিযোগ উঠেছে যাদের বিরুদ্ধে

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্কঃ বলিউডে একটা প্রচলিত কথা আছে, তারকাদের নামের সাথে পদবীর চেয়েও বিতর্ক জুড়ে থাকা বেশি জরুরি। কারণ, বিতর্কই নাকি অনেককে লাইমলাইটে নিয়ে আসেন। যত বেশি যাঁকে নিয়ে বিতর্ক তাঁকে নিয়ে আসলে ততটাই মাতামাতি। আর তাতেই কখনোও কখনোও তাঁর পরিচিতিটাও তরতরিয়ে বাড়ে। এই হালের বলিউডে ‘দেশদ্রোহী’, ‘পাকিস্তানের দালাল’ এসব কথা নিশ্চিতভাবেই শুনে এসেছেন। কিছু তারকার নামের সাথেও জুড়ে গেছে এই শব্দগুলো। এই নিয়েও তৈরি হয়েছে বহু বিতর্ক। দেখে নেওয়া যাক এমনই কিছু বলিউড তারকা যাদেরকে ঘিরে এই বিতর্ক অথবা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে দেশদ্রোহের।

৫. শাহরুখ খান: ভারতের অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেতা সাথে বাংলার ব্র্যান্ড আম্ব্যাসাডারও বটে। এই শাহরুখকে ঘিরে কোটি কোটি মানুষের উন্মাদনার মাঝেও তাঁর নামের সাথেও জুড়ে গেছে এই একই বির্তক। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বার-বাড়ন্ত নিয়ে মুখ খুলতে গিয়ে একবার তিনি বলেছিলেন এই দেশেতে ধর্মীয় নিরপেক্ষ না হওয়াটা দেশপ্রেমিক হিসেবে সবচেয়ে বড়ো অপরাধ। সেই সময় কড়া ভাষায় টুইট করে শাহরুখের এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। বলেছিলেন, ‘শাহরুখ খান থাকেন ভারতে আর ওর মন পড়ে থাকে পাকিস্তানে। ওর ছবি এখানে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে। আর ভারতে ওঁর অসহিষ্ণু মনে হয়। উনি দেশদ্রোহী নয়তো কী?’ অবশ্য পরে সেই টুইট প্রত্যাহারও করে নেন তিনি।

৪. সালমান খান: ২৬/১১ মুম্বাই হামলা নিয়ে এক পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যকে দেওয়া সাক্ষাৎকার নিয়ে একবার বিতর্কতে জড়ান সালমান খান। এই হামলায় পাকিস্তান সরকারের কোনো হাত নেই বলে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এছাড়াও তিনি বলেছিলেন অভিজাতরাই এই হামলায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই নিয়ে এত চর্চা হচ্ছে। কিন্তু হোটেল ছাড়াও ট্রেনে, গ্রামেও এমন হামলার নজির রয়েছে যা নিয়ে কাউকে খুব একটা কথা বলতে দেখা যায়না। সালমানের এমন মন্তব্যের নিন্দা করেন বিজেপি সহ শিবসেনাও। সালমানের এমন মন্তব্যে দেশদ্রোহীতার গন্ধও খুঁজে পান অনেকে। যদিও এমন ঘটনার জন্য পরে ক্ষমা চান সালমান খোদ নিজেই। এবং দাবি করেন যে তাঁর দেওয়া সাক্ষাৎকারটিকে বিকৃত করা হয়েছে।

৩. দীপিকা পাড়ুকোন: ২০২০ সালের ৫ই জানুয়ারি ভারতের জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্বোরোচিত তান্ডব চালান দুষ্কৃতীরা। যাতে আক্রান্ত ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকাংশেরই অভিযোগ ছিল সরকার পক্ষের উপর। সেই ঘটনার পর আক্রান্ত ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে দেখা করতে যান দীপিকা। এই নিয়ে দানা বাঁধে বিতর্ক। কেন্দ্র সরকারের প্রকল্প ‘ভারত কী লক্ষ্মী’র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডর দীপিকা পাড়ুকোনের জেএনইউ আসাকে ভালো চোখে দেখেননি অনেকে। তাঁকে দেশদ্রোহী তকমা দেওয়া এবং তাঁর ছবি ‘ছাপাক’ বয়কটের ট্রেন্ড দেখা যায় সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

২.অনুরাগ কাশ্যপ: ভারতবর্ষে এনআরসি এবং সিএএ লাঘু করার বিষয় নিয়ে ক্রমাগত বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন অনুরাগ ক্যাশপ। এবং এনআরসি ও সিএএ-এর বিরুদ্ধে সংঘটিত আন্দোলনেও নিজের সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও দেশব্যাপি অসহিষ্ণুতার আবহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীকে আর্জি জানিয়ে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়,অপর্ণা সেন সহ বহু তারকারা মিলে যে চিঠি লিখেছিলেন সেই দলে নাম ছিল অনুরাগ
কাশ্যপেরও। বিহার আদালতে অনুরাগ সহ এদের সবার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার মামলা মামলা দায়ের করা হয়।

১.রিয়া চক্রবর্তী: অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুতে প্রথম থেকেই অভিযোগের তীর ছিল তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তী উপর। পরে মাদক কান্ডে তাঁকে গ্রেফতার করা হলে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তাঁর বিরুদ্ধে নানা প্রচার চলতে থাকে। আমরা জানি বলিউড বিরোধিতা এবং বলিউডকে দেশদ্রোহী হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ায় একটা প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। সেই বলিউডের মধ্যে পড়ে দেশদ্রোহী তকমা লেগেছিল রিয়ার নামেও।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close