দেশ

“দেশের জন্য ও একাই প্রাণ দেয় নি”, শোকের মাঝেও গর্ব শহীদ সুবোধ ঘোষের পরিবারের

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: দেশ জুড়ে চলছে দিওয়লির উৎসব। করোনা ভাইরাসকে হারিয়ে দিয়ে সমস্ত পৃথিবীকে আবার আলোয় ভরিয়ে তুলতে মানুষ পালন করছেন দীপাবলি। কিন্তু দীপাবলির আলোর উৎসবে সামিল হতে পারে নি নদীয়ার রঘুনাথপুর গ্রাম। দিওয়ালির আগের দিনই আলো নিভে গিয়েছিল সেখানে।

কাশ্মীর সীমান্ত অঞ্চলে পাক সেনার হামলায় প্রাণ গিয়েছে নদীয়ার বিএসএফ কর্মী সুবোধ ঘোষের। রঘুনাথপুর গ্রাম জুড়ে তাই দিওয়ালির মাঝেও নেমেছে শোকের ছায়া। জানা গেছে, আজ শ্রীনগর থেকে রঘুনাথপুরে গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছাবে শহীদ সুবোধ ঘোষের মরদেহ। ঘরের ছেলের অকাল প্রয়াণে এখন শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম।

বিএসএফ সূত্রের খবর, শ্রীনগর থেকে দিল্লি হয়ে সোজা দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছাবে দেহ। তারপর সেখান থেকে দুপুর ১টা নাগাদ পানাগড়ে দেহ পৌঁছানোর কথা। তারপর সেখান থেকে সড়কপথে নদিয়ার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাবে শহীদ সুবোধ ঘোষের দেহ। সামনের মাসেই ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। আয়োজন করা হয়েছিল সদ্যোজাত মেয়ের অন্নপ্রাশনও। এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর মেসোমশাই জানান, ও একা নয় দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে অনেকে”। তাঁর শ্বশুরের কথায়,”চাকরি করছিল, অনেক স্বপ্ন ছিল। ঘরবাড়ি বানানোর কথা ভাবছিল।” তবে সমস্ত কাজই অসমাপ্ত রেখে কফিনবন্দী হয়ে ফিরছেন সুবোধ ঘোষ।

শহীদ জওয়ানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এদিন সকালে ট্যুইট করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।তিনি জানিয়েছেন শহিদ জওয়ানের পরিবারের সঙ্গে পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। এমনকি যোগ দিতে পারেন শহিদ সুবোধ ঘোষের শেষকৃত্যেও।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর কাশ্মীরে গুরেজ ও উরি সেক্টরে পাক সেনাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে শহিদ হয়েছেন জেনারেল সুবোধ ঘোষ।এদিন রঘুনাথপুরে তাঁর বাড়িতে উঠেছে কান্নার রোল, বাড়ির নিকটবর্তী স্কুলমাঠে আসবে মৃতদেহ, বাড়ির সামনে শহীদ মঞ্চ করা হয়েছে।জাতীয় পতাকা লাগানো হয়েছে গোটা এলাকায়।২৪ বছরের তরতাজা ছেলের অকাল প্রয়াণে শোকে মুহ্যমান তাঁর বাবা মা এবং স্ত্রী।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close