দেশ

হাথরাস কান্ডে হবে সিবিআই তদন্ত, ঘোষণা করলেন যোগী আদিত্যনাথ

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক:প্রবল জনরোষের চাপে অবশেষে হাথরাস কান্ডে সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত নিল উত্তর প্রদেশের যোগী সরকার। শনিবার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় তাঁরা। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথজি সিবিআইকে দিয়ে হাথরাসের ঘটনা নিয়ে তদন্ত করানোর সুপারিশ করেছেন।

বস্তুত,শনিবার সন্ধ্যায় হাথরাস গ্রামের মৃত দলিত তরুণীর বাড়িতে যান প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। পরিবারটিকে পাশে থাকার আশ্বাস ও তরুণীর প্রতি ন্যায় সুনিশ্চিত করার জন্য সবরকম চেষ্টা করবেন,এই বার্তাই দিতে যান তাঁরা। তাঁর কিছুক্ষণ পর উত্তর প্রদেশ সরকারের তরফ থেকে এই মামলার সিবিআই তদন্তের কথা ঘোষণা করা হয়।

উত্তর প্রদেশের হাথরাস গ্রামের উনিশ বছর বয়সী দলিত তরুণী মনীষা বাল্মীকির গণধর্ষণের ঘটনায় এখন কার্যত উত্তাল সারা দেশ। ঘটনার কথা সামনে আসতেই দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে তোলপাড় শুরু হয় চারিদিকে। রাজ্যের মহিলাদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে না পারার দাবিতে বিরোধীরা সরকারকে তুলোধুনো করে চলে বারবার।

দলিত ওই তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের অভিযোগ নিতে দেরী করেছিল। চার জন উচ্চ বর্ণের ব্যক্তির লালসার শিকার হয়েছিল ওই তরুণী। তাঁর শরীরে নানা জায়গায় হাড় ভেঙে যায়। সারা শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। ঘাড়ে গভীর ক্ষত থাকার জন্য তাঁর নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পুলিশ জানায়, তরুণীর জিভেও ক্ষত ছিল। চার অপরাধী যখন তাঁকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি নিজের জিভ কামড়ে ফেলেন।

কিন্তু এই ঘটনায় প্রথম থেকেই অভিযোগের আঙুল ওঠে পুলিশের দিকে। পুলিশ জোর করে তাঁর দেহ আত্মীয়দের থেকে কেড়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এছাড়া পরিবারকে বাড়িতে আটকেও রাখা হয়। কয়েকজন পুলিশকর্মী মিলে রাত আড়াইটেয় তরুণীর দেহ পুড়িয়ে দেন গোপনে। বৃহস্পতিবার ওই তরুণীর বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা। কিন্তু পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। শনিবার ফের তাঁরা হাথরাসে যান। এদিন অবশ্য পুলিশ তাঁদের অনুমতি দেয়।সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে তরুণীর পরিবারকে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close