হুগলিভাইরাল

একদিনেই গোটা জগদ্ধাত্রী প্রতিমা বানিয়ে চন্দননগরের নতুন হিরো শিল্পী মহাদেব পাল

নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনা আবহেই দেশ জুড়ে শুরু হয়েছিল উৎসবের মরশুম। দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছট পুজো পেরিয়ে অবশেষে জগদ্ধাত্রী পুজোর মাধ্যমে শেষ হতে চলেছে উৎসবের আমেজ। আর সেই উৎসব উন্মাদনার শেষ বেলাতেই চমকে দিয়ে এবার শিরোনামে উঠে এল চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো। মাত্র একদিনে অর্থাৎ চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই তৈরি হল বিশাল জগদ্ধাত্রী প্রতিমা।

রাতারাতি প্রতিমা বানিয়ে চারদিকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে চন্দননগরের বাউরিপাড়া শীতলাতলা মন্দির কমিটির পুজো। অতিমারীর জেরে চতুর্থী পর্যন্ত ঠিক ছিল এবছর মূর্তিপুজো না করে শুধুমাত্র ঘটপুজো হবে শীতলতলায়। কিন্তু হঠাৎ ভাবনায় পরিবর্তন হয়। পঞ্চমীর সকালে হঠাৎ ঠিক হয় প্রতিবারের মতো এবারেও প্রতিমা পুজোই করা হবে। শুধু তাই নয়, ভাবনা অনুযায়ী রাতারাতি কাজও সেরে ফেলে তাঁরা। বিশাল প্রতিমা বানিয়ে চন্দননগর বাউরিপাড়া শীতলাতলা এখন কার্যত প্রচারের শীর্ষে।

জানা গেছে, প্রতিমা শিল্পীর নাম মহাদেব পাল। মাত্র এক বেলায় প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন করে অসাধ্য সাধন করেছেন তিনিই। ক্লাবের এক সদস্য সন্দীপ দাসের কথায় , প্রত্যেক বছরই প্রতিমা পুজো করা হয়। কিন্তু এবছর প্রতিমা নাকি ঘট পুজো হবে এই নিয়ে বারবার কমিটির মত পরিবর্তন হতে থাকে। শেষে ঘট পুজোর সিদ্ধান্ত নিলেও পাড়ার লোকেরা আবদার করেন প্রতিমার। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রতিমা পুজো করা হবে। কিন্তু ততক্ষণে পঞ্চমী তিথি পড়ে গেছে ষষ্ঠী আসন্ন। এমন অবস্থায় চ্যালেঞ্জের সাথে একদিনের মধ্যে প্রতিমা গড়েছেন শিল্পী মহাদেব পাল। সাথে আরও বলেন যে কাঠামো গড়ে মূর্তি পুরোপুরি রেডি হয়ে গেলেও তা শুকোনো হবে কি দিয়ে! তাই হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে নাকি গোটা জগদ্ধাত্রী মূর্তি শুকোনো হয়। উপযুক্ত কোভিড প্রটোকল মেনেই তাঁদের পুজো হচ্ছে বলে দাবি।

বস্তুত, উত্তর কলকাতার বিখ্যাত কুমোরটুলি সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির ইতিহাস ঘাঁটলে অনুরূপ এক ঘটনার দৃষ্টান্ত উঠে আসে। আগুন লেগে প্রতিমা সহ সম্পূর্ণ মন্ডপ পুড়ে যাওয়ার পর রাতারাতি আবার প্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল সেখানে। সেই ঘটনার সঙ্গেই যেন খানিকটা মিল পাওয়া যায় চন্দননগরের এই ঘটনার। এক বেলায় প্রতিমা তৈরি করে ক্লাবের সঙ্গে সঙ্গে নিজের নামটও ইতিহাসে অমর করলেন চন্দননগরের শিল্পী মহাদেব পাল।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close