রাজ্যহেলথ

‘দিদিকে বলো’তে ফোন করেও মিলল না চিকিৎসা, ৩মাস ধরে একরত্তিকে ফেরাল হাসপাতাল

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প সার্বজনীন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।শুরু হয়েছে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিও। কিন্তু রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা আর তার জেরে সাধারণ মানুষের হয়রানির ছবিটা কিন্তু তেমন একটা বদলাচ্ছে না। এদিন আরো একবার সরকারি হাসপাতালের গাফিলতির সেই ছবিটাই সামনে এল।

জটিল এক অস্ত্রপচারের জন্য শিশুকে কলকাতা শহরের এনআরএস (NRS) হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন বিশ্বজিৎ মাহান্ত এবং মণিকাদেবী। সন্তানের চিকিৎসার জন্য তাঁরা ফোন করেছিলেন ‘দিদিকে বলো’ নম্বরে। কিন্তু লাভ হয় নি কোনো। অনেক চেষ্টা করেও ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা যায় নি।

সূত্রের খবরে জানা গেছে, জন্মের সময় থেকেই ওই শিশুপুত্রের কোমরের অংশ জুড়ে দলা পাকিয়ে রয়েছে বড় মাংসপিণ্ড। অনেকটা যেন বড় টিউমারের মতই দেখতে। জন্মানোর পরেই চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন শিশুকে সুস্থ করার জন্য প্রয়োজন জটিল অস্ত্রপচার। সেই থেকেই সদ্যোজাত শিশুকে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিশ্বজিৎ মাহান্ত এবং মণিকাদেবী। কিন্তু সব জায়গায় ছবিটা একই, জানিয়েছেন তাঁরা।

বিশ্বজিৎ মাহান্ত এবং মণিকাদেবী পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়নার ঘুসটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বিশ্বজিৎ বাবু পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা। ছেলের অস্ত্রপচারের জন্য প্রথমে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখান থেকে কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্ধমান হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন অস্ত্রপচার জটিল হওয়ার কারণেই কলকাতার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ওই পরিবারকে।

কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে এসেই হয়রানির শিকার হন ওই দম্পতি। প্রায় ৩ মাস ধরে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে হাসপাতাল থেকে। হাসপাতালের কোনো বেড খালি নেই, এমনটাই জানাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। এদিকে দ্রুত অস্ত্রপচার না হলে শিশুটির প্রাণ সংশয় হতে পারে বলেই জানিয়েছিলেন ডাক্তাররা। এমতাবস্থায় নিরুপায় হয়ে ‘দিদিকে বলো’ হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন তাঁরা। এনআরএস হাসপাতালে ভর্তির আর্জি জানান। সেখান থেকে আশ্বাসও মিলেছিল, কিন্তু কাজের কাজ হয় নি কিছুই। শুধু তাই নয়, ছেলেকে ভর্তি করার জন্য রায়নার বিধায়ক নেপাল ঘড়ুইয়ের চিঠি নিয়ে এনআরএস হাসপাতালের সুপারের কাছেও গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন বিশ্বজিৎ বাবু। এমতাবস্থায় নিতান্তই অসহায় বোধ করছেন ওই শিশুপুত্রের বাবা মা। এই ঘটনায় রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার চেহারাটা আরো একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

ছবি ও সূত্র: আনন্দবাজার

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close