দেশ

বিহারীদের ভোট টানতে রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজোর আবেদন’, মমতাকে খোঁচা অধীরের

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্ক: KMDA র তরফে আর্জি জানানো হয় শর্তসাপেক্ষে ছট পুজো করার নির্দেশ দিতে হবে। তবে সেই আরজি খারিজ করে দেয় ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল বা জাতীয় পরিবেশ আদালত। এমন শর্তকে ঘিরেই কটাক্ষ করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরির। এমন আর্জির কারণ হিসেবে অধীরবাবু বলেন, আসন্ন ভোটবাক্সকে মজবুত করতেই এমন নিশানা পরিবেশ আদালতে।

এই মহামারী পরিস্থিতিতে রবীন্দ্র সরোবরে শর্তসাপেক্ষে ছট পুজো পালন হতে পারে ভেবেই এমন খোঁচা অধীরের। তিনি এবিষয়ে সরাসরি রাজ্য সরকারকে বলেন, “বিহারীরা ছাড়াও লক্ষ লক্ষ বাঙালি ছটপুজো করেন। তাঁরা কি কেউ আপনাকে বলেছেন রবীন্দ্র সরোবরে (Rabindra Sarobar) ছটপুজোর ভাসান না হলে আমরা আপনাকে ভোট দেব না? কেউ আপনাকে বলেননি। সবেতে আগ বাড়িয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া আপনার অভ্যাস। যেমন বাংলায় কোনও মুসলমান ভাইবোন আপনাকে বলেননি দুর্গাপুজোর বিসর্জন বন্ধ করে দিয়ে মহরমের মিছিল করতে দেওয়া হোক। আপনি তা সত্ত্বেও করেছিলেন। সেটা ছিল সংখ্যালঘু ভোট হাতানোর চেষ্টা। এখন ছটপুজোর নামে বিহারীদের ভোট নিতে চাইছেন। আসলে এটা ছটপুজো নয়, ভোট পুজো।”

এবার আর্জির সপক্ষে KMDA দাবি করে, শর্তসাপেক্ষে ছটপুজো করতে দেওয়া হোক। কিন্তু এবিষয়ে গ্রিন ট্রাইব্যুনালে শুনানি চলাকালীন বিশেষজ্ঞ কমিটির নির্দেশিকার কথা উল্লেখ করে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোয় বেঁকে বসেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত।

এই বিভ্রান্তির ফলে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় পরিবেশ আদালতে (National Green Tribunal) কেএমডিএ’র আরজি খারিজ হয়ে যায়। এবং আদালতের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ২০১৭ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী চলতি বছরেও রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেওয়া যাবে না। কারণ তার ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নষ্ট হতে পারে জীববৈচিত্র্যও।প্র

সঙ্গত, ২০১৭ সালে পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত পরিবেশকালীন অস্থিরতার কথা ভেবে আদালতে ছট পুজোর বিরুদ্ধে মামলা করেন। জীববৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। রবীন্দ্র সরোবরে পুলিশ প্রহরা এবং প্রতিটি গেটে নিরাপত্তার বন্দোবস্তও করা হয়। কিন্তু ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো অনুষ্ঠিত হয়।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close