রাজ্য

লরির চাকা থেকে ছড়াচ্ছে করোনা, ঝাড়গ্রামে আশঙ্কা মুখ্যমন্ত্রীর

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক:লরির চাকা থেকে ছড়াতে পারে করোনা ভাইরাসের জীবানু, এমনটাই মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি বৈঠকে তাঁর এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি।এ কারণেই তিনি এদিন বাইরের রাজ্য থেকে আসা লরি ড্রাইভারদের খাবার নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন।এছাড়া যদি ধাবায় বসে খেতে হয়, সেক্ষেত্রে কোভিড বিধি মেনে পুরোপুরি স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা করতে হবে, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার ঝাড়গ্রামে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে তিনি গতকাল পশ্চিম মেদিনীপুরেও একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। এলাকার করোনা পরিস্থিতি ও পরিসংখ্যান বিচার করার সূত্রে লরির চাকা থেকে ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‘চেন্নাই-মুম্বই থেকে লরি আসে। এই লরির চাকায় জীবাণু ছড়াচ্ছে। যেমন কাপড়জামা, বাজারের থলি থেকে ছড়ায়। তেমন হলে মাঝেমধ্যে চাকার ফরেন্সিক পরীক্ষাও করা যেতে পারে।’’

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ঝাড়গ্রামে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ তুলনামূলক ভাবে কম। কিন্তু আগস্ট মাস থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে এই জেলায় ১৮৭ জন অ্যাক্টিভ রোগী রয়েছেন।জানা গেছে, জুলাই মাস পর্যন্ত ঝাড়গ্রামের পরিস্থিতি কিন্তু মোটের উপর নিয়ন্ত্রণেই ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন বাইরের রাজ্য থেকে আসা লরিই এর জন্য দায়ী। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে নজর দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই রাজ্যে করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণের ঘটনা স্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গেছে, তাঁর বাড়ির অন্দরেও দেখা গেছে ভাইরাসের হানা। আক্রান্ত হয়েছেন তাঁর বাড়ির পরিচারক। রাজ্যে করোনার দাপট শুরু হওয়ার পর অন্যান্য জেলার তুলনায় ঝাড়গ্রামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু আগস্টের পর সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা আরও বাড়ে। সামনে পুজো। সে সময় করোনা আরও বাড়ার শঙ্কা। তাই উদ্বিগ্ন প্রশাসন। তবে চিন্তিত না হওয়ার পরামর্শই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। “এখানে অনেককেই দেখছি মাস্ক ব্যবহার করছেন না। তাদের বলছি মাস্ক পরুন’’ বলেন তিনি।এছাড়া যাঁরা টাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে পারছেন না, তাঁদের সবাইকে মাস্ক কিনে দেওয়ার জন্য সরকারি আধিকারিকদের নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close