দেশ

পোষা কুকুরকে বেধড়ক মার! অভিযুক্ত কর্মীকে ছাঁটাই করল কগনিজ্যান্ট

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: কুকুর আর মানুষের মধ্যেকার দৃঢ় বন্ধন সৃষ্টির সেই আদি যুগ থেকে প্রমাণিত।কুকুরকেই প্রথম পোষ মানিয়েছিল আদিম মানুষ। তবু মাঝে মধ্যেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে কুকুরের উপর অত্যাচারের নির্মম দৃষ্টান্ত উঠে আসে, শিহরিত করে আমাদের। তেমনই এক নিদারুণ অত্যাচারের বিরুদ্ধে এবার দৃঢ় পদক্ষেপ নিল জনপ্রিয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা কগনিজ্যান্ট (Cognizant)।

কিছুকাল আগে নিজের পোষা কুকুরকে বেধড়ক মেরেছিল এক যুবক। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই মারধরের নির্মম ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। জানা গিয়েছিল অভিযুক্ত যুবক কগনিজ্যান্ট কোম্পানির কর্মী। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এবার কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কোম্পানির তরফ থেকে। নিজেদের ওই কর্মীকে পোষ্যের উপর অত্যাচারের জন্য চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে কগনিজ্যান্ট।

ঠিক কী ঘটেছিল? গত ২৫ অক্টোবর নয়ডার বাসিন্দা ঋষভ মেহরা নামে কগনিজ্যান্ট-এর ওই কর্মী নিজের ফ্ল্যাটের মধ্যে তার পোষা পাঁচ মাসের ল্যাবরেডর কুকুরকে বেধড়ক মারধর করে৷ এলাকার অন্যান্য বাসিন্দারাই ঘটনার ভিডিও তোলেন এবং তা মুহূর্তে ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। নেটিজেনদের মধ্যে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। যুবকের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিলেন পশু প্রেমিকরা।

জানা গিয়েছিল, ওই যুবকের অত্যাচারে কুকুরটির পিছনের বাঁদিকের পা ভেঙে যায়৷ কুকুরটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এক পশুপ্রেমী৷বাড়ির মধ্যে মলত্যাগ করার জন্যই কুকুরটিকে মারা হয়েছে বলে জানায় ঋষভ মেহরা।

এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনগণ যুবকের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল। পশুপ্রেমী এবং সাংসদ মানেকা গাঁধি সহ অনেকেই ঋষভকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার জন্য কগনিজ্যান্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান৷ এর পরই বৃহস্পতিবার সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঋষভকে বরখাস্ত করা হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, ঋষভের যে প্রতিবেশী ঘটনার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন, তাঁকে ধন্যবাদও জানিয়েছে সংস্থা৷

উল্লেখ্য, বর্তমানে ওই কুকুরটি কাবেরী রানা ভরদ্বাজ নামে এক পশুপ্রেমীর হেফাজতে রয়েছে। তিনিই তাকে উদ্ধার করেছিলেন। মারের চোটে কুকুরটির পিছনের একটি পা প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি৷ এছাড়া তার পায়ের একাধিক হারও ভেঙে গিয়েছে৷

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close