রাজনীতি

বোকা বানানো হয়েছে মানুষকে, নোটবন্দীর বর্ষপূর্তিতে মোদীভক্তদের কটাক্ষ দেবাংশুর

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: আজ ৮ই নভেম্বর। চার বছর আগে আজকের দিনেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় বাতিল করা হয়েছিল ৫০০ ও ১০০ টাকার সব নোট। সেই নোটবন্দীর চার বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ফের একবার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে মুখ খুললেন দেবাংশু ভট্টাচার্য।

এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় নোটবন্দীর চার বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সমস্ত বিজেপি সমর্থকদের তীব্র বিদ্রুপ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের তরুণ সমর্থক দেবাংশু ভট্টাচার্য। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, “চার বছর আগে আজকের দিনে কিছু ভক্তকে বোকা বানানো হয়েছিল আর কিছু বোকা নতুন করে ভক্ত তৈরি হয়েছিল।” বলা বাহুল্য, নোটবন্দীর সময়ে যাঁরা প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন দেবাংশু এই পোস্টে তাঁদেরকেই ব্যঙ্গ করেছেন। শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে তিনি পোস্টে হ্যাশট্যাগ দিয়ে দেবাংশু ভট্টাচার্য লিখেছেন, “হ্যাপি নভেম্বর ফুলস্ ডে”।

সাধারণ ভাবে এপ্রিল মাসে বোকা বানানোর দিনকে এপ্রিল ফুলস্ ডে বলা হয়ে থাকে। চার বছর আগের ৮ই নভেম্বর নোটবন্দীকে সমর্থন করে যে আদতে মানুষকে বোকা বানানো হয়েছিল, দেবাংশুর ব্যবহৃত হ্যাশট্যাগে সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।

৮ নভেম্বর, ২০১৬ সালে রাত আটটায় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ১০ মিনিটের ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিন ক্ষণের হিসেব না থাকলেও গোটা দেশে এমন একজনকেও পাওয়া যাবে না, চার বছর আগে আজকের দিনের ঘটনা যার মনে নেই। গোটা দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছিল সেই মিনিট দশেকের ভাষণে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আচমকাই জানিয়েছিলেন ৫০০ আর ১০০০ টাকার নোট আর বাজারে চলবে না। তাঁর সেই ঘোষণার পরই বাজারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ৮৬ শতাংশ কারেন্সি নোট সাধারণ কাগজের টুকরোতে পরিণত হয়েছিল। নতুন নোট বাজারে আনতে হিমশিম খেয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। এটিএম থেকে টাকা তোলা ও জমা করার লাইনে দাঁড়িয়ে সারা দেশে একশোর বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাঙ্ক আর এটিএমের সামনে বহাল ছিল অস্বাভাবিক লাইন। মানুষের সেই চূড়ান্ত হয়রানির বিষয়কে হাতিয়ার করে তখন বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিল বিরোধী দলগুলো। চার বছর পরে তৃণমূল সমর্থক দেবাংশু ভট্টাচার্যের গলাতে আবারও শোনা গেল সেই সুর।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close