দেশ

কুর্নিশ! ৭৬ জন হারিয়ে যাওয়া শিশুকে খুঁজে দিয়ে মায়ের কোল ভরালেন মহিলা পুলিশকর্মী

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক:হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার করেছিলেন তিনি, আর তাই নিজের কাজের উপযুক্ত মর্যাদাও সাথে সাথেই পেলেন দিল্লির এক পুলিশ অফিসার।

মাত্র কয়েক মাসের চেষ্টায় বহু সংখ্যক হারানো শিশু উদ্ধারের জন্য সময়ের আগেই প্রোমোশন পেলেন দিল্লি পুলিশের মহিলা কর্মী সীমা ঢাকা। তাঁর নিরলস পরিশ্রম এবং সাফল্য পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্যের যে নজির স্থাপন করেছে, নিঃসন্দেহে তা নতুন করে ভরসা জোগাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।

জানা গেছে, সীমা ঢাকা নামের দিল্লির ওই পুলিশ অফিসার মাত্র ৩ মাসের মধ্যেই মোট ৭৬ জন হারিয়ে যাওয়া বাচ্চাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রত্যেকেই যার যার ঘরে ফিরে যেতে পেরেছে আবার। দিল্লি পুলিশের নতুন একটি ইনসেনটিভ স্কিম অনুযায়ী সফল ভাবে এই কাজ করতে পারার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রোমোশন দেওয়া হয়েছে সীমা ঢাকাকে। এভাবে সময়ের আগে পদন্নোতির নজির দিল্লি পুলিশের ইতিহাসে এই প্রথম।

দিল্লি পুলিশ সূত্রের খবর, সীমা ঢাকা উত্তর পশ্চিম দিল্লির সময়পুর বদলি থানার হেড কনস্টেবল। নিজের কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং পরিশ্রমের মর্যাদা হিসেবে দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে তাঁকেই প্রথম ওটিপি বা আউট অফ টার্ন প্রোমোশন দেওয়া হয়েছে। এর আগে দিল্লি পুলিশের কাউকে এই সম্মান দেওয়া হয় নি বলে জানা গেছে পুলিশ সূত্রের খবরে।

বস্তুত, সীমা ঢাকা মোট ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছেন যার মধ্যে ৫৬ জনের বয়স ১৪ বছরের নীচে। দিল্লি পুলিশের অফিসিয়াল বিবৃতি অনুযায়ী, “এই বাচ্চাদেরকে শুধুমাত্র দিল্লি থেকেই উদ্ধার করা হয় নি। পাঞ্জাব এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্য থেকেও এদের উদ্ধার করা হয়েছে।” সীমা ঢাকার নিরলস পরিশ্রমকেও কুর্নিশ জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

শুধুমাত্র অফিসিয়াল বিবৃতিতেই নয়, সীমা ঢাকার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত দিল্লি পুলিশের বাকিরাও। কমিশনার অফ দিল্লি পুলিশ এসএন শ্রীবাস্তব বলেছেন, “মহিলা হেড কনস্টেবল সীমা ঢাকাকে প্রথম আউট কফ টার্ন প্রোমোশন পাওয়ার জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ওঁর সুদৃঢ় লড়াইয়ের মানসিকতাকে কুর্নিশ।” অন্যান্য অফিসাররাও নানা ভাবে কুর্নিশ এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সীমা ঢাকার কীর্তিকে। এমনকি বলিউড অভিনেত্রী রিচা চাড্ডাকেও এই অফিসারকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close