বিনোদন

সুশান্ত কান্ডে আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত রিয়া, কিন্তু জনগণের কাছে নিরপরাধ কি?

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু হয়েছে আজ প্রায় সাড়ে চার মাস হল। গত ১৪ই জুন অভিনেতার মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাট থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। অর্থাৎ সাড়ে চার মাস আগে সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেছিলেন। তারপর গঙ্গা-যমুনা দিয়ে যত জল গড়িয়ে গেছে তার আঁচটুকুও পৌঁছোয় নি তাঁর কাছে।

প্রিয় অভিনেতার এই আচমকা মৃত্যুর খবর দেশের সিনেমাপ্রেমী মানুষের কাছে ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। নিজেদের চমক, বিস্ময়, এবং সর্বোপরি হতাশাকে প্রকাশ করার জন্য তাই তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন সবচেয়ে সুলভ এবং অনিবার্য মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়াকে। এরপরের ক্রমানুযায়ী ঘটনা সকলেরই জানা। আকস্মিক এই মৃত্যুর কারণের খোঁজ, অবসাদ নিয়ে উৎকন্ঠা, খুনের তত্ত্ব এবং অবশ্যই অভিনেতার বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীকে দোষী সাব্যস্ত করে কাঠগড়ায় তোলা। এখন প্রশ্ন হল, কিছুদিন আগে আদালত থেকে জামিন পেলেও, মানুষের আদালত থেকে কি আদেও কখনো জামিন পাবেন রিয়া?

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনায় খুনের তত্ত্বকে নাকচ করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। আত্মহত্যাই যে করেছিলেন অভিনেতা, তা এখন প্রমাণিত। কিন্তু এ নিয়ে তদন্ত বন্ধ হয়নি। আত্মহত্যায় প্ররোচনা দানের বিষয়টি এখনো সিবিআইয়ের তদন্ত সাপেক্ষ। মাদক চক্রের সঙ্গে যোগে সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হলেও আপাতত তিনিও জামিনে মুক্ত। কিন্তু এই আইনি তথ্যগুলো আদতে কি কোনো তফাৎ ঘটায় মানুষের মনে? সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা তো অনেকদিন আগেই সুশান্ত মৃত্যুতে “অপরাধী” হিসেবে দেগে দিয়েছেন রিয়া চক্রবর্তীকে।সেই ধারণার কোনো পরিবর্তন কিন্তু এখনও হয় নি। ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাবনাও বেশ ক্ষীণ।

বস্তুত, একুশ শতকেও যে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের মন কোনো যুক্তিবাদ মানে না, রিয়া চক্রবর্তীর ঘটনা তাই প্রমাণ করেছে। সুশান্ত মৃত্যুর প্রাথমিক বিস্ময় এবং মিডিয়ার ইন্ধন রিয়া চক্রবর্তী সম্পর্কে যে ধারণা নেটিজেনদের মনে একবার গেঁথে দিয়েছে, বিশ্বের সমস্ত আদালতে তা খাতায় কলমে তা ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হলেও আদতে তা জনগণের ‘মন’কে পরিবর্তন করতে পারবে না কোনোদিনই। জনতার আদালতে রিয়া চক্রবর্তী আজন্মকাল হয়ে থাকবেন অপরাধী। এই অন্ধ যুক্তিহীন বৈরিতাই কি কাম্য ২০২০ সালের সভ্যতায়? প্রশ্ন ওঠে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close