রাজনীতি

নন্দীগ্রামে মেরে ফেলার চেষ্টা, মেট্রোতে হুমকি! প্রাণহানির আশঙ্কার কথা জানালেন দেবাংশু

মহানগর বার্তা ডেস্ক: নন্দীগ্রামে ভোটের প্রচারে গিয়ে মরতে মরতে বাঁচেন, একটুর জন্য প্রাণ হারানোর মুখ থেকে ফেরেন দেবাংশু ভট্টাচার্য! এবার এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন তৃনমূল কংগ্রেসের এই মুখপাত্র। একটি ইউটিউব চ্যানেলে তৃনমূল নেতার দাবি, “নন্দীগ্রামে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার সেরে ফিরছিলাম। আমি গাড়িতে বসে। আমার সঙ্গে দু’জন ছিলেন। রাস্তার ধারের একটি চায়ের দোকানে চা অর্ডার করি। অন্ধকার জায়গা। অনেক সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও দোকানি চা দিচ্ছিলেন না। এটা দেখে সন্দেহ হয়, আমার সঙ্গে থাকা একজন গিয়ে দেখেন, দোকানে বসে থাকা একজন হোয়াটসঅ্যাপে লিখছেন, দেবাংশু দাঁড়িয়ে আছে, তাড়াতাড়ি আয়। সঙ্গে সঙ্গে আমরা গাড়ি নিয়ে সরে আসি। আসার সময় দেখতে পাই একাধিক বাইক এসেছে। একটি বাইক থেকে একজন নামছেন, তার কোমরে পিস্তল!” দেবাংশুর অভিযোগ, সেদিন তাঁকে মারার চেষ্টা হয়, যদিও মিডিয়াকে বা দলকে তিনি বলেননি, কারণ তাঁর মা জানলে আর নির্বাচনী প্রচার করতে দিতেন না! শুধু নন্দীগ্রাম নয়, ওই বক্তব্যের মধ্যেই তিনি জানান, এর আগেও প্রকাশ্যে হুমকি পান। তিনি বলেন, “২০২০ সালের জানুয়ারি। মেট্রো করে ধর্মতলা যাচ্ছি। মহাত্মা গান্ধী রোড স্টেশনে নামার সময় এক ব্যক্তি বলেন, যা করছিস ঠিক হচ্ছে না, সাবধান হ!” যদিও এই ঘটনাও তিনি সংবাদমাধ্যমে বা তাঁর দলকে জানাননি মায়ের জন্য, দাবি ওই তৃণমূল নেতার।

 

দেবাংশু ভট্টাচার্যের এই চাঞ্চল্যকর দাবির পরে ফের শোরগোল পড়েছে বঙ্গের রাজনৈতিক আঙিনায়। তৃনমূলের যুব নেতাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছে তৃণমূল। আবার পাল্টা বিজেপির একাংশের দাবি, নির্বাচনের সময় এই ভয়ানক ঘটনা ঘটলেও তিনি কিছুই বললেন না! এত বড় রাজনৈতিক ইস্যু ছেড়ে দিলেন তিনি!

 

প্রসঙ্গত, ২০১১ সাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালিখি। তারপর ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই পরিচিতি পান দেবাংশু। ‘মমতাদি আরেক বার’ এর মতো স্লোগান তৈরি করে দলের নজরে আসেন তিনি। দলের মুখপাত্র করা হয় হুগলির এই বাসিন্দাকে। ক্রমশ জনপ্রিয়তা বাড়ে তৃণমূল নেতার। দলের মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান সুবক্তা দেবাংশু। তাঁর এই অভিযোগের মধ্যে তাৎপর্য খুঁজে পাচ্ছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশও। দাবি, নন্দীগ্রামে লড়াই ছিল শুভেন্দু অধিকারী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বারবার অভিযোগ ওঠে একে অন্যের বিরুদ্ধে। ঠিক এমন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ কেন তখন দেবাংশু বললেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। যদিও এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতার দাবি, “মায়ের জন্য, তাঁর চিন্তা না বাড়ানোর জন্যই একথা প্রকাশ্যে আনিনি!” যদিও কেউ কেউ বলছেন, এখন সেই তো বলেই দিলেন, এখন কী আর চিন্তা নেই তাহলে!

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close