দেশহেলথ

নাবালিকাকে বাঁচাতে না পেরে খুনি তকমা! মানসিক কষ্টে আত্মহত্যা করলেন ডাক্তার

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্কঃ সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল সহ্য করতে না পেরে কেরলের এক চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে খবর কেরালার কোল্লাম জেলার কিলিকল্লুর অঞ্চলের বাসিন্দা বছর পঁয়ত্রিশের অনুপ কৃষ্ণ আত্মহত্যা করেছেন। পেশায় চিকিৎসক অনুপ কয়েকদিন আগে একটি সাত বছরের নাবালিকার হাঁটুর অস্ত্রোপচার করার সময় সেই তরুণী মারা যায়। অভিযোগ অস্ত্রোপচারের সময় কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে ওই নাবালিকা মারা যায়। এরপর নাবালিকার পরিবার-পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ওই চিকিৎসককে খুনি বলে দায়ী করতে থাকে ! এই ঘটনার পর চারি পাশের লোকজন এর আচরণ থেকে তৈরি হওয়া মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে ওই চিকিৎসক আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন বলে অনুমান।

সূত্রের খবর অনুপ আর্থো কেয়ার আর নামে একটি হাসপাতাল চালাতেন। করোনা আবহে বেশকিছু চিকিৎসা ওই নাবালিকার অস্ত্রোপচার করতে চাননি। কিন্তু বরাবরের পরোপকারী অনুপ কৃষ্ণ পিছিয়ে না গিয়ে নিজের হাসপাতলে ওই নাবালিকার অস্ত্রোপচার করতে এগিয়ে আসেন। তার সহকর্মীদের অনেকের অভিমত হলো সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে গিয়ে এই ঘটনার দুর্বিপাকে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হলো এই তরুণ চিকিৎসককে! অস্ত্রোপচারের সময় হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে নাবালিকা মারা গেলে তার পরিবার-পরিজন এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে মামলা দায়ের করে। কিন্তু সেখানেই থেমে না থাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই চিকিৎসককে দায়ী করে ও খুনি তকমা দিয়ে একের পর এক বার্তা আসতে শুরু করে। এর ফলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অনুপ কৃষ্ণ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে অনুমান। তিনি বাথরুমে আত্মহত্যা করার সময় দেওয়ালে “সরি” লিখে গিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর তারা তদন্ত করে দেখছে এই চিকিৎসকের আত্মহত্যার সঙ্গে ওই নাবালিকার মৃত্যু কোনো যোগ আছে কিনা। সেইসঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে কারা ওই চিকিৎসকের প্রতি বিষোদগার করেছিল তাও তারা অনুসন্ধান করছে।

এই ঘটনার পরেই ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের কেরালার সহ-সভাপতি সালফি নুহু সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে বেশ কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের ফলে এক তরুণ চিকিৎসকের প্রাণ চলে গেল। সামাজিক মাধ্যমে বসানো বিচার প্রক্রিয়া আসলে আমাদের বাক-স্বাধীনতার অপব্যবহার। তার মতে বাকস্বাধীনতা জরুরী, কিন্তু কারো চরিত্র হনন মেনে নেওয়া যায় না। আরেক চিকিৎসক লিখেছেন “চিকিৎসকদের হাতে কোন জাদু নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যতটুকু ক্ষমতা দিয়েছে তা দিয়েই তারা চিকিৎসা করে। তার ফলে সবাইকে সারিয়ে তোলার ক্ষমতা চিকিৎসকদের নেই। শারীরিক জটিলতার কারণে অনেক সময় রোগীর মৃত্যু হতে পারে, অথচ তা বিবেচনা না করে খুন খুন বলে চিৎকার করার ফলে একজন তরতাজা চিকিৎসকের জীবন চলে গেল।” সমাজের নীরবতাই এই আত্মহত্যার কারণ বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close