রাজ্য

কোর্টের রায়কে স্বাগত! কালীপুজোয় বাজি নিষিদ্ধ হওয়ার খুশি কুকুরপ্রেমীরা

নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজস্থান,কর্ণাটক,ওড়িশার পথে হেঁটে এবারের কালীপুজো থেকে ছটপুজো পর্যন্ত বাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। একদিকে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি অন্যদিকে শীতের মরসুম। এর মধ্যে বাজির ধোঁয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। সেজন্যই কালীপুজো থেকে ছট পুজো অবধি জনস্বার্থে আতসবাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কোলকাতা হাইকোর্টের গ্রীন ট্রাইবুনাল।

কালীপূজা ও দীপাবলী উপলক্ষ্যে শব্দবাজি, আতসবাজি পোড়ানোর ফলে পরিবেশে যে দূষণ ছড়ানো হয় তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে মানুষ ও সমগ্র প্রকৃতির ওপর৷ শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা করা, চর্মরোগ ও অন্যান্য শ্বাসনালীর ক্ষতিকারক মারাত্মক ব্যাধির দ্বারা মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীও আক্রান্ত হয়৷

অতীতেই দেখা গেছে যে শব্দবাজি নিয়ে কিছু মানুষের ‘আনন্দের’ খেসারত দিতে গিয়ে কুকুরের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এমনকী, কালীপুজোর পরের দিন গাছের তলায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে পাখির দেহ। স্পিড্জ, পমেরেনিয়ান, বিগল, ককার স্প্যানিয়েল-এর মতো ছোট প্রজাতির কুকুর ছাড়াও শব্দবাজিতে কষ্ট পায় বেড়াল, খরগোশ, গিনিপিগ, পাখি। বাজির আওয়াজ শুনে কুকুরের হৃৎস্পন্দন অনেক গুণ বেড়ে যায়, অনেক ক্ষেত্রেই পরে তাদের উদ্বেগ কমানোর জন্য ঘুমের ওষুধও খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি পথে থাকা কুকুরদের ওপর বাজির আক্রমণ করেন কিছু মানুষ যাতে আহত ও নিহত হয় অনেক কুকুর।

তাই কোলকাতা হাইকোর্টের গ্রীন ট্রাইবুনালের এই রায়ে সাময়িক ভাবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়েছেন পশুপ্রেমী সংগঠন গুলির সাথে যুক্ত মানুষজন। পশুপ্রেমী সংগঠন Federation of Indian Animal Protection Organisations(FIAPO ) এর তরফ থেকে দেবযানী মুন্সী হাইকোর্টের গ্রীন ট্রাইবুনালের রায় কে স্বাগত জানিয়ে বলেন , করোনা পরিস্থিতিতে মানবসমাজের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে কোর্ট এই রায়দান করলেও এই একটা বছর অন্তত স্বস্তি পাবে কুকুর ,ছোট পাখী সহ নানা প্রাণী। দীর্ঘদিন ধরে মূলত কুকুরদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে দেবযানী মুন্সী জানান, রাস্তায় থাকা কুকুরদের কাছে এই সময়টা ভয়ঙ্কর। একদিকে শব্দবাজির তান্ডবে অন্যান্য প্রাণীদের মতো তারা যেমন বিপর্যস্ত বোধ করে অপরদিকে তাদের গায়ে জ্বলন্ত পটকা ছুড়ে মেরে বা সেটা খাইয়ে দিয়ে পৈশাচিক আনন্দ অনুভব করেন কিছু মানুষ। পাশাপাশি এটাও জানান যে তাদের লড়াই চিরস্থায়ী ভাবে শব্দবাজী , আতসবাজি পোড়ানো বন্ধ হওয়া অবধি চলবে। তারা আইন পরিবর্তনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন নিজেদের লড়াইয়ের মাধ্যমে। তিনি বাজির পেছনে খরচ করা অর্থ গরীবদের উপকারে খরচ করবার ওপর জোর দেন।

অপর একটি পশুপ্রেমী সংগঠন ‘লাভ এন কেয়ার ফর অ্যানিম্যালস’-এর সাথে যুক্ত সংগঠক শিলাদিত্য চক্রবর্তী বলেন, এই রায় শুধু একটা বছরের জন্য নয় এই রায় চিরস্থায়ী হওয়া দরকার। সাথে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে আতশবাজি নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলো সমস্যায় পড়বেন এই যুক্তিকে খারিজ করে তিনি বলেন, সমাজের পক্ষে ক্ষতিকারক কোনো পেশা কে টিকিয়ে রাখার পক্ষে কোনো যুক্তিই বাস্তব সম্মত হতে পারেনা। তিনি বিকল্প পেশা সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে বলেন মাটির প্রদীপ ,মোমবাতি শিল্প বাজি শিল্পের বিকল্প হতে পারে।

একইভাবে এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে দমকল কর্মী শুভঙ্কর মাহাতো বলেন এই রায়ের ফলে কুকুর বেড়ালরা অনেক ভালো থাকবে ,সুস্থ থাকবে ও নিরাপদ বোধ করবে। কারণ শব্দবাজির ফলে তারা ভীত হয়ে পরে এবং অনেক ক্ষেত্রেই কুকুররা বিকৃত মনস্ক কিছু মানুষের বাজির দ্বারা আঘাতপ্রাপ্তও হয়। করোনা মহামারী এবং পরিবেশ দূষণের কথা মাথায় রেখে আতশবাজি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোর্ট উদ্যোগী হলেও এর ফলে উপকৃত হবে প্রাণী সমাজ।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close