ভাইরাল

ভাই নেই! পোষ্য কুকুরদেরই ফোঁটা দিলেন বোনেরা

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: আজ ভ্রাতৃদ্বিতীয়া। দিওয়ালির রেশ কাটতে না কাটতেই দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেওয়ার ধুম। করোনা আবহেই আরো একবার উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে মানুষ। তবে এবারের ভাইফোঁটায় দেখা গেছে এক নতুন ট্রেন্ড, ইতিমধ্যেই যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

ভাইয়ের সাথে সাথেই এবার ফোঁটা পড়েছে অবলা পোষ্যদের কপালেও। সোমবার সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ছবি ভাইরাল হয়েছে যাতে দেখা গেছে মেয়েরা ফোঁটা দিচ্ছেন বাড়ির পোষা কুকুরদের কপালে। অবলা হলেও পোষা কুকুর যে ভাইয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, সেই বার্তাই যেন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এই নতুন ট্রেন্ডের মাধ্যমে।

বস্তুত, পোষা কুকুরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যে আদতে কতটা গভীর,বহুদিন ধরেই পশুপ্রেমীরা সে কথা জানিয়ে আসছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ বিষয়ে প্রচার চালানোর জন্য খোলা হয়েছে একাধিক গ্রুপ অথবা পেজ। এদিন ফেসবুকে তেমনই একটি গ্রুপে কুকুরকে ভাইফোঁটা দেওয়ার একাধিক ছবি পোস্ট করা হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সমস্ত পোস্ট।

ভাইরাল ছবিগুলিতে দেখা গেছে, রীতিমতো প্রদীপ জ্বেলে, মিষ্টির থালা সাজিয়ে সমস্ত নিয়ম কানুন মেনেই ভাইয়ের আসনে বসানো হয়েছে পোষা কুকুরদের। এমনকি দেওয়া হয়েছে উপহারও। নতুন জামা কাপড় পড়িয়ে সাজানোও হয়েছে অবলাদের। কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে ভাইয়ের মতোই দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়েছে কুকুরদেরও।

এবিষয়ে দীপিকা হালদার নামে এক তরুণী জানিয়েছেন, “অনেকের বাড়িতে ভাই-বোন আছে, অনেকের বাড়িতে নেই। যাদের বাড়িতে পোষ্য আছে, তারা কখনোই তাকে পশু বা পাখি বলে ভাবে না। পরিবারের একজন মনে করে। যাদের ভাই-বোন নেই, তাদেরও ইচ্ছে করে ফোঁটা দিতে। তাই এই দিন পোষ্যদের ফোঁটা দিয়ে আমরা তাদেরকে সুস্থ রাখার কামনা করি।”

প্রতি বছর কার্তিক মাসের অমাবস্যার পরে দ্বিতীয়া তিথিতে বাংলার ঘরে ঘরে অনুষ্ঠিত হয় ভাইফোঁটা, যার পোশাকি নাম ‘ভ্রাতৃদ্বিতীয়া’। এদিন সকালবেলাতেই স্নান করে, সুন্দর সুন্দর পোশাক পরে, সেজেগুজে নানান বয়সের ভাইবোনেরা মেতে ওঠে উৎসবে। ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিলে যমের দুয়ারে কাঁটা পড়ে, বিশ্বাস এমনটাই।শুধু ভাইবোনই নয়, ফোঁটার চল দেখা যায় দাদু-নাতনি কিংবা দিদিমা-নাতির মধ্যেও। তবে বাড়ির পোষা কুকুরের ফোঁটা দেওয়ার চল সম্প্রতি নতুন চালু হয়েছে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close