খবররাজ্য

‘এই ধরণের মন্তব্য করবেন না…’, সেলিমের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিলেন নওশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদন: অশান্ত ভাঙর! একের পর অশান্তির চেষ্টা করছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রান্না ঘরে বোমা থেকে শুরু করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, সবই চলছে সেখানে। এবার এই মর্মেই বিস্ফোরক ফেসবুক পোস্ট করলেন ভাঙরের বিধায়ক তথা ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের নেতা নওশাদ সিদ্দিকি।

এদিন তিনি তাঁর নামে থাকা ফেসবুক প্রোফাইলে লেখেন, ‘ভাঙড়ে অশান্তি তৈরি করার লাগাতার চেষ্টা করে চলেছে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস। কখনও বোমাবাজি করছে, কখনও গৃহস্থের রান্নাঘরে বোমা রেখে দিয়ে যাচ্ছে, তাতে এক গৃহবধূ মারাত্মকভাবে আহত হলেন।’ তাঁর আরও দাবি, ‘বিরোধীদল, বিশেষ করে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের কর্মীরা ভোটের সময় থেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন। খুন হয়েছেন, বাড়ি ছাড়া হয়েছেন অনেকে।’ নওশাদের অভিযোগ, ‘তৃণমূল এমনই সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করে রেখেছিল যে, বিধায়ক নির্বাচিত হয়েও আমি বেশ কয়েক মাস ভাঙড়ে ঢুকতে পারিনি।’

ভাঙরের বিধায়ক সরব হয়েছেন, তাঁর প্রাক্তন জোটসঙ্গী বামেদের ছাত্র সংগঠনের নেতারা পক্ষ নিয়েও। তিনি জানান, ‘দু’দিন আগে ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের নেতৃস্থানীয় কর্মী তাজউদ্দিন মল্লিককে পুলিশ মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। আমরা তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’ আইএসএফ নেতার অভিযোগ, ‘৯ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা কেস ফাইল করা হয়েছে, তার মধ্যে ৭ জনই আইএসএফ-র কর্মী। এর মধ্যে হাজি এবাদত সাঁপুই গত ৭ তারিখ থেকে রাজ্যের বাইরে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধেও কেস ফাইল করা হয়েছে।’ এর সঙ্গেই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন নওশাদ। বিধায়কের দাবি, ‘শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস জনসাধারণের কাছে তার সমর্থন সম্পন্নভাবে হারিয়েছে, তাই কখনও সন্ত্রাস সৃষ্টি করে নিজেদের প্রভাব টিকিয়ে রাখতে চাইছে। তাতেও না পেরে পুলিশকে দলকর্মী হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধী দল বিশেষত, আইএসএফ কর্মীদের উপর নির্মম জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন যদি শাসকদলের ইঙ্গিতে কাজ করা বন্ধ না করে তাহলে আইএসএফ সাধারণ মানুষকে সামনে রেখে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে।’

এখানেই রাজ্যের পুলিশের কাজ থেকে শুরু করে সার্বিকভাবে ভাঙরের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন নওশাদ। তাঁর মূল অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বিরুদ্ধে। এর সঙ্গেই নওশাদের একটি মন্তব্য তৈরি হয়েছে বিতর্ক। তিনি রাজ্যের সিপিআইএম নেতা মহাম্মদ সেলিমের একটি মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন প্রকাশ্যে। তাঁর দাবি সেলিম যা বলেছেন তাতে ভাঙরের মানুষের অপমান হয়েছে। তিনি ওই পোস্টেই লেখেন, ‘এই গ্রেফতারের পরিপ্রেক্ষিতে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সাহেব সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাঙড়কে ‘সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর’ বলে অভিহিত করেছেন। আমরা এর প্রতিবাদ করছি। উনি
বলতে পারতেন, শাসকদলের লোকেরা সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। কিন্তু সমগ্র ভাঙড়কে এইভাবে দেগে দেওয়া আমরা মানতে পারি না।’ মহম্মদ সেলিমকে তাঁর অনুরোধ, ‘ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্য থেকে তিনি যেন বিরত থাকেন।’ নওশাদের এই মন্তব্যের পরে অনেকেই বলছেন, তাহলে কি অবশেষে বিচ্ছেদ পাকাপাকি হল সেলিদের সঙ্গে আবনবাসদের! নইলে যে সেলিম একদা আইএসএফ-র মতো দলের সঙ্গে বামেদের জোটে আগ্রহী ছিলেন, তাদের নেতার মন্তব্যের জন্য জোটসঙ্গী কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীর বক্তৃতা বন্ধ করেছিলেন, সেই সেলিমের বিরুদ্ধে গাইছেন আব্বাসের ভাই! আবার গোপনে নয়, একেবারে প্রকাশ্যে! আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই রাজনৈতিক আবহ ফের তাৎপর্যের সৃষ্টি করেছে। তাহলে কী…

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close