মহানগর

৭০ টাকার টমেটো ৫৫ টাকায়, আলু ৩১ টাকায়! অগ্নিমূল্যের সময়েও অভিনব বাজার দমদমে

কৌস্তভ ভৌমিক: করোনা অতিমারির প্রভাবে একদিকে যেমন সংক্রমণ হুহু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে লাগাতার মুল্যবৃদ্ধির দাপটে রাতের ঘুম উড়েছে সাধারণ মানুষের। দীর্ঘ লকডাউনের কারণে যাবতীয় কল কারখানা ও বেশিরভাগ ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে রুটিরুজি হারিয়ে বেঁচে থাকাটাই আজ দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে এক শ্রেণীর মানুষের কাছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার যতই অপরিবর্তিত রাখুক, দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার কোন‌ও বাধা মানছে না। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কখনো ব্যক্তিগত উদ্যোগে, কখনো যৌথ উদ্যোগে অনেকেই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে চলেছেন। সেরকমই উদ্যোগের অংশ হিসাবে “দমদম সমন্বয় মঞ্চ” আম জনতাকে কিছুটা রেহাই দিতে গতকাল চালু করল “নাগরিক সুলভ বাজার”।

দমদমের নলতা দুর্গানগর অঞ্চলে চালু হয়েছে এই সুলভ বাজার। প্রয়াত জননেতা সুভাষ চক্রবর্তীর নামে প্রথম সপ্তাহটি উৎসর্গ করেছেন উদ্যোক্তারা। ১১ অক্টোবর এই নাগরিক সুলভ বাজারের উদ্বোধন করেন গণআন্দোলনের নেত্রী রমা চক্রবর্তী। বাজার দুই বেলা খোলা থাকছে। সকালবেলায় দুপুর ১২ টা পর্যন্ত খোলা থাকছে, তারপর আবার সন্ধ্যে ছটা থেকে শুরু হচ্ছে এই সুলভ বাজার।

সুলভ বাজারে গতকাল প্রথম দিনেই সবজির দাম অন্যান্য অঞ্চলের থেকে বেশ অনেকটাই কম ছিল। যেখানে দমদমের অন্যান্য বাজারে টম্যাটো ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, সেখানে সুলভ বাজারে তা ৫৫ টাকায় বিক্রি করেছেন সংগঠকরা। ৮০ টাকার বেগুন ৭০ টাকা কেজি দরে, ৩৬ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হওয়া আলু এখানে পাওয়া গিয়েছে ৩১ টাকায়। উদ্যোক্তাদের দাবি তারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আনাজপাতি ক্রয় করার ফলে মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে তা পৌঁছে দিতে পারছেন। তাদের আরও বক্তব্য আর কিছুদিন গেলে তারা আশা রাখছেন আরো কম মূল্যে মানুষের হাতে শাকসবজি তুলে দিতে পারবেন।

এই বিষয়ে আমরা উদ্যোক্তাদের তরফে ইমন ভট্টাচার্য জানান তাঁদের সংগঠন মানুষের পাশে দাঁড়াতে একের পর এক যে ধারাবাহিক কার্যসূচি গ্রহণ করছে তার মধ্যে অন্যতম হলো এই সুলভ বাজার। এবিষয়ে তিনি আরও বলেন লকডাউনের প্রথম দুমাস ১৪০০ টি দুঃস্থ পরিবারের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাবতীয় খাদ্য সামগ্রীর বন্দোবস্ত করেছিলেন তাঁরা। পরবর্তীতে তারা নাগরিক হেঁশেল চালু করেন, যেখানে প্রতিদিন দুপুরে মাত্র কুড়ি টাকার বিনিময় স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এই নাগরিক হেঁশেল দমদম অঞ্চলের নানা জায়গায় তার পরিষেবা বজায় রেখেছে। নাগরিক হেঁশেল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ প্যাকেট খাবার মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এছাড়া আমফানের সময় নাগরিক মঞ্চ উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা ও পূর্ব মেদিনীপুর মিলিয়ে ১৭ টি রিলিফ ক্যাম্প চালিয়েছিল। ইমন বাবুর কথায় মানুষের সঙ্গে থেকে মানুষের উপকারে লাগতে পারাটাই হলো মূল কথা। আর তাদের সংগঠন সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করে চলেছে।

প্রসঙ্গত লকডাউন ও আমফান পরবর্তী সময়ে মানুষের অন্ন সংস্থানের জন্য কলকাতাসহ রাজ্যের নানা জায়গায় শ্রমজীবী ক্যান্টিন ও শ্রমজীবী বাজার চালুর নজির পাওয়া গেছে। অনেকটা সেই একই মডেলের উপর ভিত্তি করে এগিয়ে এসেছে দমদমের নাগরিক সমন্বয় মঞ্চ। উদ্দেশ্য একটাই “সবাই পেলে তুমিও পাবে / কেউ একা নয়, সবাই খাবে”।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close