আম আদমি

উৎসব সবার! ধর্মের বেড়া ভেঙে দুর্গাপুজোর শোভাযাত্রায় পা মেলালেন খুরশিদ-পারভিনরা

সিঞ্জন হাজরা: ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। বৃহস্পতিবার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে রেড রোড পর্যন্ত দুর্গাপুজোর(Durga Puja) ইউনেস্কো স্বীকৃতি প্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি মিছিলে তারই প্রতিফলন দেখা গেল। কলকাতার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের পারভিন, মেছুয়া বাজার পুজো কমিটির খুরশিদ আলমরা সমস্ত বেড়াজাল ভেঙে সমানতালে পা মেলালেন এদিনের মিছিলে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেন, যে যার মতো ধর্ম পালন করুন, কিন্তু উৎসব বাংলার সকলের। তাই তো ঈদের নমাজ আয়োজনে যেমন হিন্দু বাড়ির সদস্যদের দেখা যায়, তেমনই দুর্গাপুজোর(Durga Puja) ঠাকুর আনা থেকে ফল কাটা। এমনকী বিসর্জনেও পার্কসার্কাস, মেটিয়াবুরুজের মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষদের সামিল হতে দেখা যায়। এদিনের মিছিলেও সমান উৎসাহে সংখ্যাগুরু হিন্দুদের পাশাপাশি সংখ্যালঘু মুসলমানরাও পা মেলালেন।

আমাদের কথা হচ্ছিল ব্যবসায়ী খুরশিদ আলমের সঙ্গে। তিনি মেছুয়া বাজার পুজো কমিটির সহ-সভাপতি। ফলে বুঝতেই পারছেন ওনার উপর পুজোর সময় কতটা গুরুদায়িত্ব থাকে। খুরশিদ‌ও জানালেন পুজোর গোড়া থেকে শেষ সব কিছুতেই থাকেন তিনি। ওই পুজো কমিটির‌ই বেশ কিছু সদস্য বললেন, “খুরশিদ চাচা ছাড়া দুর্গাপুজো(Durga Puja) করার কথা আমরা ভাবতে পারি না।”

বন্ধুদের সাথে খুরশিদ

আমহার্স্ট স্ট্রিটের গৃহবধূ ফারহাদ আলিও এদিনের মিছিলে হাঁটেন। গত দু’বছর করোনারি জন্য ঠিক করে পুজো করতে পারেননি তাঁরা, তাই এবার একটু বেশিই খুশি। জানালেন, “শুধু পুজোয় থাকা নয়, পুজোর উপাচার তৈরিতেও হাত লাগাই আমরা। ঈদ যেমন করি, এক‌ইরকমভাবে দুর্গাপুজো‌ও করি আমরা।”

পারভিন

এটা কোনও বিক্ষিপ্ত ছবি নয়। দুর্গাপুজোর দিন কলকাতা সহ বাংলার বহু জায়গায় দেখা যায় অষ্টমির অঞ্জলির পর রতন, সুজয়দের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রসাদ বিলি করছে নাসিম, কুতুব, রহিমারা। অনেক জায়গায় তো পরমার পাশে দাঁড়িয়ে নৈমুদ্দিন‌ও অঞ্জলি দেয়। এটাই বাংলা, এটাই বাংলার দুর্গাপুজো। যেখানে ধর্মের বেড়া ভেঙে সবাই আনন্দে মেতে ওঠে।

আরও পড়ুন:দিদির পাশে দাদা, দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠানে মমতার পাশে সৌরভ দর্শন

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এদিনের মিছিলে কোন‌ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না, তা ছিল উদযাপনের। বাঙালির সেরা উৎসবের বিশ্ব স্বীকৃতির উদযাপন। তাতে সামিল হতে যেভাবে কাতারে কাতারে সবাই এসে হাজির হয়েছিলেন, তাতে পরিষ্কার ধর্মের বেড়াজাল দিয়ে বাঙালিকে ভাগ করা অতো সহজ নয়। এখানে সত্যিই উৎসব সবার, তা আবারও বুঝিয়ে দিল বাঙালি।

সবার খবর সঠিক খবর পড়তে চোখ রাখুন মহানগর বার্তায়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close