দেশ

সারা শরীরে ক্ষতচিহ্ন নিয়ে বাড়ি ফিরল মেয়ে, যোগীরাজ্যে ফের ধর্ষিত আট বছরের শিশু

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: হাথরাস কান্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই যোগীর রাজ্যে ফের একাধিক ধর্ষণের ঘটনা সামনে এল। হাথরাস, বলরামপুরের পর এবার নৃশংসতার স্বীকার হল আট বছরের এক শিশু। আজমগড়ের এই ঘটনায় কাঠগড়ায় বছর কুড়ির এক প্রতিবেশী যুবক।

 

একের পর এক পৈশাচিক ধর্ষণের ঘটনায় কলঙ্কিত হয়েই চলেছে যোগী আদিত্যনাথ পরিচালিত উত্তর প্রদেশ। হাথরাস গ্রামের উনিশ বছর বয়সী দলিত তরুণীর সঙ্গে ঘটা নির্মমতা নিয়ে যখন উত্তাল সারা দেশ, তার মাঝেই আরো দুই ধর্ষণের ঘটনায় কলঙ্কিত হল উত্তর প্রদেশ। আজমগড়ের আট বছরের শিশুর মা জানিয়েছেন, স্নান করাতে নিয়ে যাবে বলে প্রতিবেশী এক তরুণই বাচ্চাটিকে নিয়ে যায়। তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত ছিল ওই তরুণের। তাই সন্দেহ করেননি পরিবারের লোকজন। বাচ্চাটির মা বলেছেন, মেয়ের জন্য জামাকাপড়ও নিয়ে যায় ওই তরুণ।

 

কিন্তু পরে দেখা যায়, শিশুটির সারা শরীরে ক্ষতের চিহ্ন। যন্ত্রণায় সে কাতরাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। ডাক্তাররা জানান, ধর্ষণ করা হয়েছে শিশুটিকে। তার শরীরের ভেতর রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। অবস্থা সঙ্কটজনক।আজমগড় পুলিশ সুপার সুধীর কুমার সিং বলেছেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম দানিশ। শিশুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, হাথরাস থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে বলরামপুরেও এক দলিত তরুণীর গণধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে। মাদক খাইয়ে দিনভর নির্যাতন চালিয়ে সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি ফেরানো হয়। তরুণীর হাত পা এমনকি শিরদাঁড়াও ভেঙে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মেলে।বলরামপুরের পুলিশ সুপার দেব রঞ্জন বর্মা জানিয়েছেন, নির্যাতিতার পরিবার অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছে।পরিবারের লোকজনের বয়ানের ভিত্তিতেই দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত দু’জনকে জেরা করে বাকিদের খোঁজ করা হচ্ছে।

 

গত একমাসে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধ বেড়ে গেছে উত্তরপ্রদেশে। একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসছে। সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব ট্যুইট করে বলেছেন, “হাথরাসের পরে ফের গণধর্ষণের ঘটনা ঘটল উত্তরপ্রদেশের বলরামপুরে। এবারেও মৃত্যু হল নির্যাতিতার। বিজেপি-সরকার হাথরসের ঘটনার মতো কাণ্ড না ঘটিয়ে দ্রুত এই অপরাধের কিনারা করুক।” হাথরাস, বলরামপুর, আজমগড়। এই অপরাধের শেষ কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজে চলেছে দেশবাসী।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close