খবররাজ্য

Exclusive: ”সিভিক নয়, কনস্টেবলের চাকরি চাই,” মমতা-সাক্ষাতে দাবি মহম্মদ মানিকের

রমেন দাস: দশমীর রাতের উৎসবে তখন মেতে উঠেছে রাজ্য। দিকে দিকে চলছে বিসর্জন। আর সেই উৎসবের মধ্যেই মাল নদীতে ঘটেছিল বিপর্যয়। মুহুর্তের হড়পা বানে তলিয়ে গিয়েছিল ৮টি প্রাণ। আনন্দের আবহেই মৃত্যুর রূপরেখা দেখেছিল গোটা রাজ্য।

আর সেই বিভীষিকার মাঝেই উঠে আসে একাধিক নায়কের নাম। এঁরা কেউ সিনেমার নায়ক নন, সেদিনের বিপর্যয়ের আঙিনায় এঁরা হয়ে উঠেছিলেন সত্যিকারের হিরো! যার অন্যতম ছিলেন মহম্মদ মানিক।

ক্ষতিগ্রস্ত, মৃতদের পরিবার এবং সেদিনের সেই মানুষ বাঁচানোর কারিগরদের হাতে মঙ্গলবার আর্থিক সাহায্য তুলে দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জলপাইগুড়ি সফরে গিয়ে দেখা করেন আর্তের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী, কী হয়েছিল ওই মঞ্চে? সেদিনের খুঁটিনাটি জানালেন সেদিনের অন্যতম হিরো মহম্মদ মানিক। আমাদের কাছে এক্সক্লুসিভ মহম্মদ মানিক।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে কেমন লাগছে এখন?

এসব ভেবে তো করিনি কিছু। আপনি জানেন সব। ভালো লাগছে। গর্ব হচ্ছে।

আমন্ত্রণ পেলেন। গেলেন মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে। তারপর?

সেদিন ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার আমন্ত্রণ পাই আগে থেকেই। ভীষণ উত্তেজিত ছিলাম তারপর থেকে। টেনশন হচ্ছিল। দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আসছেন। এসব তো ভাবিনি কোনও দিন। রাজ্যের একজন আইকন, তিনি আমাদের সম্মান জানাবেন। এসব ভাবিনি তো আমিও।

তারপর?

ওইদিন সকালে গেলাম। খানিকক্ষণ পরে শুরু হল অনুষ্ঠান, মঞ্চে দিদি। একে একে সকলে মঞ্চে যাচ্ছেন। দিদি চেক দিচ্ছেন, কথা বলছেন।

আপনি কখন গেলেন?

কিছুক্ষণ পরে এলো আমার পালা, গেলাম দিদির সামনে। আমার হাতে এক লক্ষ টাকার চেক তুলে দিলেন। সিভিক পুলিশে চাকরির কথাও বললেন।

কোনও কথা হল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে?

দিদি বললেন, আমি ভালো সাঁতার জানি কিনা, বাড়িতে কে কে আছে, আমি কী করি, এসব জিজ্ঞাসা করলেন। সব বললাম।

আর চাকরি প্রসঙ্গে?

সিভিক ভলান্টিয়ারে চাকরি পাব। কিন্তু এই ব্যাপারে আমি বললাম, আমার সিভিক নয় হোমগার্ড অথবা পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি হলে ভালো হয় দিদি।

এই আবেদনে কিছু বললেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

তারপর দিদি বললেন, যেটা পাবে সেটা আগে নাও। বাকিটা পরে ভাবো।

তারপরও কথা হল?

আমি বললাম, আমাকে এমন একটা কিছু চাকরি দেওয়া হোক সিভিক না হয়ে হোমগার্ড, পুলিশ কনস্টেবল। বোঝেন তো গ্রিল কারখানায় কাজ করি। পরিবার আছে।

যদি সিভিক ভলান্টিয়ার হতে হয়, নেবেন না চাকরি?

এখনও ভাবিনি কী করব। চাকরিটা নেব কী নেব না।
ভাবছি।

কিন্তু এই সাহায্য। চাকরি। স্বীকৃতি, এসব তো হল?

হ্যাঁ এটা সত্যিই খুব ভালো। খুব খুশি আমি। দিদি আইকন। দিদির হাত থেকে স্বীকৃতি পেয়ে গর্বিত। বলেছি, আবেদন করেছি, দেখি।

এসবের জন্য আপনি সেদিন জলে ঝাঁপ দেননি, বলেছিলেন বারবার। এবার?

এখনও তাই বলছি। আমি মানুষ বাঁচাতে করেছি। আজ সুযোগ এসেছে। সেটা নেব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close