দেশ

ছাড়বেন না লড়াইয়ের ময়দান, বর্ডারেই সন্তানের জন্মদিন পালন করলেন পাঞ্জাবের কৃষক

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। পাঞ্জাব হরিয়ানা সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে অসংখ্য কৃষক নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য পারি দিয়েছেন দিল্লির উদ্দেশ্যে। সরকারের কাছে নিজেদের দাবি আদায়ের এই লড়াইয়ে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় বয়ে যাচ্ছে চাষীদের। কিন্তু আপাতত ব্যক্তিগত জীবনে যে আদেও ভ্রুক্ষেপ নেই তাঁদের, তেমনটাই স্পষ্ট হল পাঞ্জাবের এক চাষীর কথায়।

আন্দোলন ফেলে বাড়ি যেতে পারেননি পাঞ্জাবের কৃষক জগৎ সিং। তাই রাস্তাতেই নিজের সদ্যোজাত কন্যার এক বছরের জন্মদিন পালন করলেন তিনি। রবিবার দিল্লি-হরিয়ানার টিকরি বর্ডারে আন্দোলনরত অন্যান্য চাষীদের সঙ্গে মেয়ের প্রথম জন্মদিন পালন করেছেন জগৎ সিং, এমনটাই জানা গেছে সূত্রের খবরে।

জানা গেছে, জগৎ সিংয়ের কন্যার নাম সিদাক। রবিবার তার জন্মদিনে বিক্ষোভস্থলকে রংবেরঙের বেলুন দিয়ে সাজিয়ে তোলেন ওই চাষী। নিজের মেয়ে ও পরিবারের ছবি দিয়েও সাজানো হয় এলাকা। এরপর কেক কেটে অন্যান্য চাষীদের সঙ্গে মেয়ের জন্মদিন পালন করেন তিনি। প্রথম জন্মদিনে মেয়ের পাশে থাকতে না পারার হতাশাকে হয়তো এভাবেই ভুলে থাকতে চান জগৎ সিং। তবু আন্দোলন মাঝপথে ছেড়ে তিনি ফিরে যাবেন না বাড়িতে।

জগৎ সিং জানিয়েছেন, “আমার মেয়ে বাড়িতেই ওর মা আর বাকি আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে জন্মদিন পালন করছে। আমরা যখন ঘর ছেড়ে ছিলাম, জয়ের আগে বাড়ি না ফেরার পণ করেছিলাম। আমার মেয়ের জেনারেশন এবং ওদের অধিকারের জন্যই আমি লড়াই করছি।” এখানেই শেষ নয়, তিনি আরো জানিয়েছেন, “যতদিন না সরকার কৃষি আইন প্রত্যাহার করছে, আমরা দিওয়ালি হোক বা বৈশাখী, সব এখানেই পালন করব।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আজ কৃষকদের আন্দোলন ১৯ দিনে পড়ল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কৃষি সংক্রান্ত কেন্দ্র সরকারের তিনটি বিল পাশ হয় পার্লামেন্টে। সরকারের তরফ থেকে এই আইনের মাধ্যমে কৃষকদের উন্নয়নের দাবি করা হলেও বিরোধী দল গুলি প্রথম থেকেই ছিল এই আইনের বিপক্ষে। তাঁদের দাবি এই আইন আদতে প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদেরই সাহায্য করবে, কৃষকদের নয়। এই আইনের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ আন্দোলনে সামিল হয়েছেন বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকরা।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close