গ্রিন রুমবড়ো পর্দা

বাবা ছিলেন কবি,জনি লিভারকে দেখে কমেডিতে আসা, রাজুর অভিনয় জীবনেও লড়াই কম নয়

মহানগর বার্তা ডেস্ক: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২। সকাল ১০.২০ মিনিটে, মাত্র ৫৮ বছরের স্মৃতি রেখে বিদায় নিলেন সত্যপ্রকাশ শ্রীবাস্তব। অর্থাৎ জনপ্রিয় কমেডি তারকা রাজু শ্রীবাস্তব (Raju Srivastava) । দিল্লির সরকারি হাসপাতালে প্রায় ৪১ দিন লড়াইয়ের পর শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। দক্ষিণ দিল্লির একটি জিমে ট্রেডমিল করার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। তারপরেই দিল্লির এইমসে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। কিন্তু কে এই তারকা?

১৯৬৫ সাল। ২৫ ডিসেম্বরের উৎসবমুখর দিনে ‘বলাই কাকা’র ঘরে জন্ম নিলেন রাজু শ্রীবাস্তব। উত্তরপ্রদেশের কানপুরে পরিচিত কবি ছিলেন বলাই কাকা। যিনি রাজুর বাবা। রমেশ শ্রীবাস্তবের ছেলে রাজু ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। প্রত্যেক মুহূর্তেই ভাবতে চাইতেন বারবার। ছোটবেলা থেকে অন্যের অনুকরণ করতে ভালোবাসতেন তিনি। পড়াশুনার সঙ্গেই ১৯৮০ সাল নাগাদ তারকা জগতে প্রবেশ করেন এই কমেডিয়ান। যদিও প্রতিষ্ঠা পাওয়ার অনেক বাকি ছিল তখন।

পাড়ার মঞ্চ থেকে বেশ কয়েক বছর কঠিন লড়াই চালিয়ে অভিনেতা হিসেবে বলিউডে প্রবেশ করেন তিনি। মাধুরী দীক্ষিত এবং অনিল কাপুরের ‘তেজাব’ সিনেমায় সুযোগ আসে তাঁর। ক্রমশ পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। জনি লিভারের পর রাজুর হাস্যরস মোহিত করত দর্শককে। ১৯৯৪ সালে শেখর সুমনের কমেডি সিরিজ ‘দেখ ভাই দেখ’ থেকে আরও ব্যাপ্ত হন বলাই কাকা-র ছেলে। জনপ্রিয় ‘শক্তিমানে’ও দেখা যায় তাঁকে। তারপর একাধিক সিনেমায় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। ‘বাজিগর’, ‘ম্যায়নে পিয়ার কিয়া’, ‘ম্যায় পিয়ার কি দিওয়ানি’-সহ একাধিক হিট ছবিতে তাঁর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জনপ্রিয় এই তারকার বিচরণ টেলিভিশনে ছিল বেশি। ‘নাচ বলিয়ে’র অংশ হওয়ার আগে ২০০৫-এর জনপ্রিয় কমেডি শো ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটা’র চ্যালেঞ্জে উপস্থিত হন তিনি। বলা হয়, রাজুই একটা সময়ে ভারতের সর্বাধিক পারিশ্রমিক পেতেন কমেডিয়ান হিসেবে।

বিলাসবহুল জীবন আর গাড়ির সমারোহে তিনি ছিলেন মৌলিক। তাঁর নাকি একাধিক গাড়ির শখও ছিল। তাঁর তৈরি ‘গজধর’ চরিত্র একসময় জনপ্রিয়তা অর্জন করে। উত্তরপ্রদেশ চলচ্চিত্র বোর্ডে-র প্রধান নির্বাচিত হন তিনি।

কিন্তু সবটাই থামল অকালে। চলে যেতে হল সব ছেড়ে। রাজুর মৃত্যুর পরে শোকের ছায়া দেশজুড়ে। বলিউড থেকে তাঁর ফ্যানেরা, শোকে মুহ্যমান সকলেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close