মহানগর

মানবিক শহর! অন্ধ মা বাবার মেয়ের বিয়ে দিতে এগিয়ে এলেন সাধারণ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদন:২০২০ সালে দাঁড়িয়ে দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যখন সামনে আসে মানুষের মানবিক অবনতির চরম নিদর্শন, যখন মনুষ্যত্বের উপর থেকে বিশ্বাসটাই উঠে যেতে চায়, তখনই কিছু কিছু ঘটনা জানান দেয় সমাজ থেকে এখনও মানবিকতার পুরোপুরি অবলুপ্তি ঘটে নি। করোনা আবহের কঠিন সময়েও এখনও সমাজের আনাচে কানাচে বেঁচে আছে মানুষের প্রতি মানুষের মমতার দৃষ্টান্ত।

এক অন্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়িয়ে খাস কলকাতার বুকে মানবিকতার পরম নিদর্শন গড়ে তুলল ফেসবুকের একটি স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ। গ্রুপটির নাম ‘উল্টোডাঙা, যেখান থেকে কলকাতা শুরু’। ওই গ্রুপের সদস্যরা গণ উদ্যোগে আর্থিক ভাবে অস্বচ্ছল এক দৃষ্টিহীন দম্পতির মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, এমনটাই জানা গেছে সূত্রের খবরে। গত ১০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।

জানা গেছে, দৃষ্টিহীন ওই ব্যক্তির নাম তপন দেব। তিনি পেশায় শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরের হকার। বড় মেয়ের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকে বিয়ের আয়োজন নিয়ে চিন্তায় পড়েন দম্পতি। তখনই তাঁদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেন ফেসবুক গ্রুপের সদস্যরা। কেউ বিয়ের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার, কেউ আইসক্রিম, কেউ খাবারের বাসনপত্র, কেউ বা খাবারের অন্যান্য আইটেমের জোগাড়ের বন্দোবস্ত করে দেন। এছাড়াও সবমিলিয়ে গণ উদ্যোগে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেন স্বেচ্ছাসেবী দলের সদস্যরা।

তাঁদের কথাতেই জানা যায় যে, ২০১৮ সাল থেকে তপন বাবুকে চেনেন তাঁরা। আনন্দবাজার পত্রিকায় ওনার সম্বন্ধে একটি লেখা বেরোয়, তারপর ওনাকে গ্রুপের তরফে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়।

চারিদিকে এত দৃষ্টিহীন মানুষ থাকতে কেন এই দম্পতির দিকেই বিশেষ করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন? গ্রুপের সদস্য সমু সাহা জানিয়েছেন, “অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও যখনই কারোর রক্তের প্রয়োজন হয়, তপন দেব বাবু এবং ওঁর স্ত্রী সবসময় এগিয়ে যান। এর পরিবর্তে কোনোরকম উপহার বা টাকা পয়সা ওঁরা চান না।” শুধু তাই নয়, তিনি আরো জানিয়েছেন, “ওঁরা কোনোরকম ভিক্ষাবৃত্তি করেন না, ট্রেনে হকারি করেন। এটা ওঁর সবচেয়ে বড়ো গুণ। লকডাউন কালে ট্রেন বন্ধ থাকায় আমরা ওঁদের যথাসম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করি।” এরপরই ওঁর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করার উদ্যোগ নেন গ্রুপের সদস্যরা।

গ্রুপের প্রায় সকলেই কিছু না কিছু দিয়ে সাহায্য করতে চান তপন বাবুদের। প্রায় ৫৬০০ জন গ্রুপ সদস্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, যার ফলে বৃহস্পতিবার সুষ্ঠু ভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সৌম্যজিত বাবুর কথায়, “আমি সবাইকে বলতে চাই, আপনারা এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসুন। আমরা তো অনেক ভাবেই অনেক পয়সা খরচ করি। এরকম কাজ করলে মানুষের সাহায্য হয়।”

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close