দেশ

উচ্চমাধ্যমিকে স্টার মার্কস! অনলাইন পড়াশোনা চালাতে না পেরে আত্মহত্যা কলেজ তরুণীর

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: লকডাউন শেষ হয়ে আনলক প্রক্রিয়া চালু হয়েছে বেশ অনেকদিন হল। কিন্তু করোনা আবহে লকডাউনের রেশ যে এখনও কাটে নি, আরো একবার তার প্রমাণ পাওয়া গেল। আর্থিক সংকটের জেরে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন তেলেঙ্গানার এক তরুণী। জানা গেছে, সুইসাইড নোটে ওই তরুণী পরিবারের অর্থনৈতিক সমস্যার কথাই লিখে গেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গত সপ্তাহে তেলেঙ্গানার রাঙ্গা রেড্ডি জেলায়। ঐশ্বর্য রেড্ডি নামের ওই তরুণী দিল্লির লেডি শ্রী রাম কলেজ ফর ওমেন-এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় স্টার মার্কসও পেয়েছিলেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা করতে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই অনলাইন ক্লাস চলছিল তাঁদের। কিন্তু উপযুক্ত পরিষেবা না থাকায় সুদূর তেলেঙ্গানা থেকে অনলাইন মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছিল তাঁর।

পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতা তরুণীর বাবা একজন মোটর মেকানিক। তিনি গত মার্চ মাসেই নতুন ব্যবসা শুরু করেছিলেন কিন্তু তাতে বাধ সাধে লকডাউন। তাঁর বাবার কথায়, “এক মাসের মধ্যে আমাকে দোকান বন্ধ করে দিতে হয়। এখন যদিও দোকান আবার খুলেছি কিন্তু ব্যবসা সেভাবে চলছে না। আমার মেয়ে কলেজ থেকে বাড়ি এসেছে সেই ফেব্রুয়ারি মাসে। অক্টোবরে ও আমাকে বলেছিল একটা ল্যাপটপ কিনে দিতে। কারণ ওদের অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছিল আর ফোন থেকে ক্লাস করতে ওর সমস্যা হচ্ছিল। আমি কিছুদিন সময় চেয়েছিলাম।” এছাড়া স্কলারশিপের টাকা পেতেও দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন ওই তরুণী।

পুলিশ সূত্রের খবরে জানা গেছে, ঐশ্বর্য রেড্ডি নামের ওই তরুণী অঙ্ক নিয়ে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করছিলেন। তিনি নভেম্বরের ২ তারিখ তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তাঁর কাছ থেকে যে সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে তাতে লেখা ছিল, ” আমার পড়াশোনার জন্য আমার বাড়িতে সকলের সমস্যা হচ্ছে। আমি বাড়ির সবার কাছে বোঝা হয়ে পড়েছি। পড়াশোনা চালাতে না পারলে আমার আর বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনা আবহে লকডাউনের জেরে যে চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে দেশের অধিকাংশ মানুষ, তার ফলে এর আগেও সামনে এসেছে একাধিক আত্মহত্যার ঘটনা। অনলাইন মাধ্যমের পড়াশোনা চালানোর উপযুক্ত পরিষেবা না পেয়ে মানসিক হতাশার শিকার হয়েছে পড়ুয়ারা। তেলেঙ্গানার ঘটনায় আরো একবার সেই সমস্যাই প্রকট হল।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close