দেশ

হাথরাস নির্যাতিতার পরিবারে করোনার হানা? কোভিড টেস্টে “না” পরিবারের

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: হাথরাস কান্ডের নির্যাতিতার পরিবারের কেউ করোনা পরীক্ষা করতে চান না, এমনটাই দাবি উঠেছে চিকিৎসকদের তরফে। জানা গেছে, বহু চর্চিত ওই পরিবারের এক সদস্যের করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সেই কারণেই চিকিৎসকদের একটি দল হাথরাসে গিয়েছিল, কিন্তু তাঁদের পরীক্ষা করতে দেওয়া হয় নি বলে দাবি করেছেন তাঁরা।

ওই চিকিৎসকদের মধ্যেই একজন জানিয়েছেন, তাঁরা খবর পেয়েছিলেন হাথরাসের নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারের এক সদস্যের করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তাঁর জ্বর এবং সর্দি কাশি রয়েছে বলে খবর পেয়েছিলেন তাঁরা। সেই কারণেই ওই পরিবারের সব সদস্যের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করতে যায় চিকিৎসকদের দলটি। সেই সঙ্গে ওই চিকিৎসক আরও বলেছেন, ‘‘এই মুহূর্তে ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনেকে সাক্ষাৎ করছেন। তাই আমরা ঠিক করেছিলাম, হাথরসে যাব এবং সকলের করোনা পরীক্ষা করব। কিন্তু পরিবারটি তাতে রাজি নয়।’’

হাথরাসের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই ওই গ্রামে আনাগোনা শুরু হয়েছিল একাধিক পুলিশ, সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের। গোটা গ্রামটাই প্রায় ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। হাথরাস উত্তেজনায় স্বভাবতই দূরত্ববিধি উঠেছিল শিকেয়। ফলে এলাকায় করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও দেখা দেয়। উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন সূত্রে খবর, হাথরসে কাটিয়েছেন এমন একাধিক পুলিশকর্মী, সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর পরবর্তীকালে করোনা ধরা পড়েছে। এমতাবস্থায় নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের করোনা পরীক্ষা করা হলে কিছুটা স্বস্তি মিলত। কিন্তু আদতে তা হল না। করোনা পরীক্ষায় কেন এই আপত্তি, উঠছে প্রশ্ন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হাথরসে হাথরাসের এক তরুণীর উপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। গণধর্ষণের পর তাঁর জিভ কেটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার কিছু দিন পর দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই তরুণীর। এর পর থেকেই বিক্ষোভ ছড়ায় দেশ জুড়ে। নির্যাতিতার দেহ পরিবারের হাতে না দিয়ে রাতের অন্ধকারে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ পুড়িয়ে দেওয়ায় প্রতিবাদের স্বর ক্রমশ জোরালো হতে থাকে। যোগী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ হানে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close