রাজ্যমহানগরহেলথ

দুর্ঘটনায় থেঁতলে গেছে হাত, চিকিৎসার আশায় ২৬ ঘন্টা ধরে হাসপাতালের দরজায় ঘুরল বালক

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু দিন আগেই স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পকে সার্বজনীন ঘোষণা করেছেন। রাজ্যের প্রতিটি মানুষ যাতে সঠিক এবং সুষ্ঠুভাবে চিকিৎসার সুবিধা পান, সেই উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা। কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হতে না হতে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশার ছবিটা আরো একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।

এক দুর্ঘটনায় হাতে গুরুতর চোট পেয়েছিল অষ্টম শ্রেণীর এক পড়ুয়া। কিন্তু চিকিৎসা পেতে পেতে তার লেগে গেল প্রায় ২৬ ঘন্টা। গ্রাম থেকে জেলা, জেলা থেকে কলকাতা, মোট ৫টি সরকারি হাসপাতালে হন্যে হয়ে আহত কিশোরকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে তার পরিবারের লোকজনকে। এই ঘটনায় রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল গুলির চিকিৎসা ব্যবস্থা যে আরো একবার প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে তা বলাই বাহুল্য।

জানা গেছে, আহত ওই বালকের নাম গৌতম মল। সে বীরভূমের মুরারইয়ের বাসিন্দা। গত শুক্রবার সে গ্রামের রাস্তায় গোরুর গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে হাতে চোট পায়। গোরুর গাড়ি উল্টে যাওয়ায় রাস্তার ধারে থাকা ধান ঝাড়াইয়ের চলন্ত যন্ত্রের ভিতরে তার হাত ঢুকে বালকের বাঁ হাতের কনুইয়ের নীচের অংশ থেঁতলে যায়। হাড় ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি মাংসপেশি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলেকে নিয়ে প্রথমে মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে যান গোপালবাবু।

কিন্তু পাঁচটি সরকারি হাসপাতাল থেকেই তাকে ‘রেফার’ করে দেওয়া হয়। গোপাল বাবুর দাবি, কোথাও বলা হয়েছে শয্যা নেই, কোথাও আবার জানানো হয়েছে চিকিৎসার পরিকাঠামো নেই। সংকটজনক অবস্থায় শুক্রবার থেকে ঘুরে ঘুরে অবশেষে শনিবার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে ভর্তি নেওয়া হয় ওই বালককে।

গোপাল বাবুর আক্ষেপ, “ছেলের শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে দেখেও কিছু করতে পারছিলাম না। বারবার গাড়ি ভাড়া করে একের পর এক সরকারি হাসপাতাল ঘুরেছি।’’ বিষয়টি জানাজানি হতে স্বাস্থ্যসচিব নায়ারণস্বরূপ নিগম বলেন, ‘‘ওই বালকের চিকিৎসার বিষয়ে সব রকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’’

উল্লেখ্য, প্রথমে মুরারই গ্রামীণ হাসপাতাল, পরে রামপুরহাটের হাসপাতাল এবং সেখান থেকে আবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় বালককে। এরপর কলকাতায় এসএসকেএম হাসপাতালে এলে সেখান থেকেও রেফার করা হয় অন্য জায়গায়। অবশেষে আরজিকরে ঠাঁই পায় অষ্টম শ্রেণীর ওই পড়ুয়া। সরকারি হাসপাতালের ভোগান্তির এই চিত্র নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

সূত্র ও ছবি: আনন্দবাজার পত্রিকা

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close