দেশ

খিদের জ্বালায় ধুঁকতে থাকা ভারত দেখল ‘অমিত শাহ কি খাচ্ছেন!’

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্ক: দুদিনের রাজ্য সফরে এসেছিলেন অমিত শাহ। সেই সূত্রে সারা দেশের মানুষ দেখলেন বাংলার অতিথি আপ্যায়নের বহর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গতিবিধি থেকে খাবারের মেনু পর্যন্ত সফরের সমস্ত খুঁটিনাটি ভেসে উঠল দূরদর্শনের পর্দায়। বাঁকুড়ার আদিবাসী পরিবার এবং কলকাতার মতুয়া পরিবারের সঙ্গে এলাহি মধ্যাহ্নভোজে অমিত শাহের সঙ্গে সঙ্গে যেন তৃপ্তির ঢেকুর তুললেন দেশের মানুষও।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই তৃপ্তির ‘খবর’ দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তো কর্তব্য সংবাদমাধ্যমের।

কিন্তু করোনা আবহে দেশের পরিস্থিতি কি আদেও তৃপ্তিসূচক? প্রশ্ন ওঠে। ভাইরাসের প্রকোপে এখনও পর্যন্ত ভারতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১লক্ষ ২৫ হাজার মানুষ। কিন্তু অস্বস্তি অন্য জায়গায়। পরিসংখ্যান বলছে, করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় ঘোষিত লকডাউন এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র না খেতে পেয়েই মারা গেছেন অনন্ত কয়েকশো মানুষ। মে মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী ভাইরাস ছাড়াই মারা গেছেন অন্তত ৩০০জন। লকডাউনে কাজ হারিয়ে রেশন না পেয়ে আত্মহত্যা করেন লুধিয়ানার এক ব্যক্তি।আগ্রায় না খেতে পেয়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ বছরের শিশু কন্যার। দারিদ্র্য প্রকট থেকে প্রকটতর হয়ে চেপে বসেছে রোগক্লিষ্ট ভারতবর্ষের অস্থিমজ্জায়। বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারতের ঠাঁই হয়েছে ৯৪তম স্থানে যা প্রতিবেশী বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়েও হতাশজনক। শুধু তাই নয়, গত কয়েক বছরে ভারতে ক্ষুধার তাড়নায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হারটাও অস্বাভাবিক রকম বৃদ্ধি পেয়েছে। এহেন ভারতবর্ষের সংবাদমাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলা সফরের মধ্যাহ্নভোজের মেনু প্রদর্শন ঠিক কতটা যুক্তিযুক্ত?

বাঁকুড়ায় আদিবাসী বাড়িতে মাটির দাওয়ায় কলাপাতা সাজিয়ে ভাত, ডাল, বেগুনভাজা, আলু ভাজা, আলুপোস্ত, পোস্তর বড়া, চাটনি, পাপড় খেয়েছেন অমিত শাহ। বাদ পড়েনি শেষ পাতের মিষ্টিও। কলকাতায় মতুয়া বাড়িতে আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য ছিল বিখ্যাত নলেন গুড়ের পায়েস। এক কথায় পঞ্চব্যঞ্জন সাজানো মহাভোজ। এই মহাভোজের সম্প্রচার যখন চলছিল, দূরদর্শনের পর্দায় কি তখন চোখ রেখেছিলেন দু বেলা খেতে না পাওয়া ভারতবাসী?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তৃপ্তির কোনো আঁচ কি পৌঁছেছিল ওই বুভুক্ষু মানুষগুলোর কাছে? যদি তা না হয়, তবে গত ৫ ও ৬ নভেম্বর দেশের মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে না পারার সরকারের ব্যর্থতাকেই আরো বেশি করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। বাড়িয়ে দিয়েছে গরীব মানুষের ক্ষিদের জ্বালা।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close