দেশ

কুর্নিশ! হোটেলের খাবার নষ্ট না করে রোজ ২০০০ গরিবকে পেট ভরে খাওয়াচ্ছেন যুবক

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: প্রায় বছর খানেক আগে চিনের উহান প্রদেশে প্রথম দেখা মিলেছিল করোনা ভাইরাসের। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ব জুড়ে এই মারণ ভাইরাসের দাপট প্রাণ কেড়েছে বহু মানুষের। শুধু তাই নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দকেই এলোমেলো করে দিয়েছে করোনা ভাইরাস। কিন্তু এই কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও যে এখনও বেঁচে আছে মানবিকতা হায়দ্রাবাদের ঘটনা আরো একবার প্রমাণ করল সে কথাই।

হোটেল এবং রেস্টুরেন্টের বাতিল খাবার নষ্ট না করে তা থেকে দুঃস্থ মানুষের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে দেন হায়দ্রাবাদের মালেশ্বর রাও। তবে আজ নয়, গত ৯ বছর ধরেই এই কাজ করে আসছেন তিনি। করোনা আবহে যখন চারপাশে মানুষের দারিদ্র্য কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, তখনও নিজের কর্তব্য থেকে এক চুল নড়েন নি তিনি।

জানা গেছে, প্রতিদিন হায়দ্রাবাদের অন্তত ২০০০ গরিব মানুষকে পেট ভরে খাওয়ান মালেশ্বর রাও। তিনি ‘খাবার অপচয় বন্ধ করুন’ নামের একটি উদ্যোগ চালাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে স্বেচ্ছায় কাজ করতে এগিয়ে এসেছেন আরো অনেকেই। হোটেলের বেঁচে যাওয়া খাবার তাঁরা যত্ন সহকারে সংগ্রহ করেন। ২০১১ সাল থেকে এই কাজ করে আসছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত একদিনও তাঁর কর্তব্যে গাফিলতি করেন নি। তাঁর এই খাবারের জন্যেই রোজ অপেক্ষা করে থাকেন শত শত না খেতে পাওয়া মানুষ।

জানা গেছে প্রথমে বিয়ে বা অন্য কোনো অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে বেঁচে যাওয়া খাবার বন্টন করা শুরু করেছিলেন মালেশ্বর রাও। কিন্তু এই সমস্ত অনুষ্ঠানের সন্ধান নিয়মিত পাওয়া যেত না, তাই ক্রমে তিনি হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট গুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে মালেশ্বর রাও জানিয়েছেন, “আমি বিটেক করতে হায়দ্রাবাদে এসেছিলাম। এখানে পার্ট টাইম হিসেবে একটা ক্যাটারিং কোম্পানিতে কাজ করতাম। সেখানে কাজ করতে করতে আমি উপলব্ধি করেছিলাম আমাদের চারপাশে প্রতিদিন কত কত খাবার নষ্ট হয়। তাই আমি ফেলে দেওয়া খাবার গুলো গরিব মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করি।”

একটা সময় তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থাও শোচনীয় ছিল, জানিয়েছেন মালেশ্বর রাও। আর সেকারণেই তিনি পেটের জ্বালা আরো বেশি করে অনুভব করতে পেরেছেন। প্রথম দিকে নানা বাঁধার মুখোমুখি হলেও গরিবদের খাওয়ানোর এই সিদ্ধান্ত থেকে নড়েননি তিনি। তাঁর কথায়, “এখন আমরা রোজ প্রায় ২০০০ মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে পারি। রোজ প্রচুর খাবার নষ্ট হয়। সেই খাবারই একটা গরীব মানুষের পেট ভরাতে পারে।” সকলে এই কাজে এগিয়ে এলে ভারতে আর কোনো অভুক্ত মানুষ থাকবে না, এমনটাই আশা মালেশ্বর রাওয়েও।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close