অন্যান্য

‘Trouble’ থাকলেও মহামারির সময়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ‘Travelistan’

সমগ্র রাজ্য জুড়েই করোনা অতিমারী যেভাবে আতঙ্কের সঞ্চার ঘটিয়েছে তাতে একদিকে যেমন বেড়ে গিয়েছে সংক্রমণের হার, অন্যদিকে সাধারণ জনজীবনেও নেমে এসেছে অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা। খুচরো ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ক্যাফে, রেস্তোরাঁও আজ ধুঁকছে করোনা ভারে।

কিন্তুু এই পরিস্থিতিতেও আশার আলো দেখছে দক্ষিণ কলকাতার এক নামজাদা ক্যাফে ‘ট্রাভেলিস্থান’। করোনা আবহে সুষ্ঠ স্বাস্থ্যবিধি পালন এবং খাওয়ার পরিবেশনে কিছু অনন্য ভঙ্গিমার মিশেল ঘটিয়ে সংকটময় পরিস্থিতিতেও হাল ধরে রেখেছে এই ক্যাফে। এই বিষয়ে এদিন মহানগরবার্তাকে সাক্ষাৎকার দিলেন ট্রাভেলিস্তান ক্যাফের কর্ণধার অরিজিৎ রিজু দত্ত। এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তাঁর এই পথ চলা আমাদের সাথে ভাগ করে নিলেন তিনি এবং জানালেন তাঁর কিছু ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা।

মহানগরবার্তা : বর্তমানে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মানুষজন বাইরে বেরোলোও যথেষ্ট ভীত সন্ত্রস্ত সবাই। এই পরিস্থিতিতে মানসিক শান্তির খোঁজে যদি ট্রাভেলবেছে নেওয়া যায়, এতে ট্রাভেলিস্তানের কতটা প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে?

অরিজিৎ রিজু দত্ত : সাধারণত আমাদের মানসিক শান্তি আমাদের পরিস্থিতি এবং অবস্থানের উপর নির্ভর করে। তবে ট্রাভেলিস্তান এইটুকু চেষ্টা করে যাতে মানুষজন এখানে এসে নিজের মতো করে একটা সকাল কিংবা বিকেলে নিজের সাথে একাত্ম হতে পারে এবং পুনরায় নিজেকে খুঁজে পেতে পারে। এরম একটা পরিবেশ উপহার দেওয়ার জন্য আমরা সবসময়ই চেষ্টা করে থাকি।

মহানগরবার্তা :আচ্ছা ক্যাফের নামটা হঠাৎ ‘ট্রাভেলিস্তান’ই কেন?

অরিজিৎ রিজু দত্ত : বিষয়টা হচ্ছে, ট্রাভেলিস্তানের ধারণাটা আজ থেকে নয়, বহুদিন আগেই এর সূত্রপাত। তখন আমি কলেজে পড়ি, স্বভাবতই বয়স কম থাকার ফলে ঘুরে বেড়ানোর একটা আলাদাই নেশা আমার মধ্যে কাজ করত। শুধু ক্যাফে করবো, ব্যবসা করবো তা থেকেই ট্রাভেলিস্থান নয়। বরাবরই আমার ট্রাভেলের একটা কালচার গড়ে তোলার ইচ্ছে ছিলো, সেই ইনস্টিংট থেকেই এই ‘ট্রাভেলিস্তান’।

মহানগরবার্তা : আচ্ছা, ভ্রমণপ্রেমী মানুষজন লকডাউনের জেরে আজ ঘরবন্দী! সেরকমভাবে কোথাও কোনোরকম ভাবে যাওয়ার উপায় নেই। ট্রাভেলিস্তান এই সমস্ত মানুষের জন্য কতটা পরিপূরক?

অরিজিৎ রিজু দত্ত : সত্যি কথা বলতে একটা ক্যাফে যখন চালাতে হয় তার নিজস্ব একটা খরচ আছে। সেই সুবাদে দেখতে গেলে এখনই ট্রাভেলিস্তান আলাদা করে নতুন কিছু ভাবতে পারছে না। কারণ বর্তমানে যে কোভিড পরিস্থিতি চলছে তাতে আমি যদি একটা ট্রাভেল আড্ডার প্রস্তুতি নি সেখানে মানুষজন একসাথে জড়ো হতে পারবেনা। তবে আগে আমাদের প্রায়শই এরম ট্রাভেল আড্ডা বা ফটোগ্রাফি চর্চা চলতো।

মহানগরবার্তা : এই পরিস্থিতিতে মানুষজন এখনও বাইরের খাওয়ারে পুরোপুরি ভরসা করে উঠতে পারেনি। তবু আমরা দেখেছি ট্রাভেলিস্তান এই পরিস্থিতিতেও মার্কেট ধরে রেখেছে! ফুড সার্ভিসিং-এ ট্রাভেলিস্তান অন্যান্য ক্যাফে গুলোর তুলনায় কোথায় আলাদা?

অরিজিৎ রিজু দত্ত : আমরা বরাবরই পুরোনো ধাঁচটাকে ধরে রাখার চেষ্টা করি। মানুষজন চার, পাঁচমাস আগেও এসে যে স্বাদটা বা অনুভূতিটা ট্রাভেলিস্তান থেকে পেতো এই পরিস্থিতিতেও এসে যাতে খাওয়ারের মধ্যে সেই স্বাদটা অনুভূত করতে পারে। আমরা সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি।

মহানগরবার্তা : আচ্ছা ট্রাভেলিস্তানের এমন কি কোনো ফুড প্রিপারেশন রয়েছে যার ফলে আর পাঁচটা তথাকথিত ক্যাফে থেকে ট্রাভেলিস্তানকে অনেকটা আলাদা বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে?

অরিজিৎ রিজু দত্ত : অবশ্যই! আমরা সাধারণত গ্রিলড স্যান্ডউইচ খেয়ে অভ্যস্ত। সম্প্রতি আমরা একটা নতুন স্যান্ডউইচ তৈরী করছি যেটা হলো স্টিমড স্যান্ডউইচ, যা সাধারণত অন্যান্য ক্যাফেতে পাওয়া যায়না। এছাড়াও আমাদের বিভিন্ন রকমের ‘জুজু’ রয়েছে। অন্যতম হলো ডাভ জুজু, আমাদের ক্যাফেতে ডাভ ‘জুজু’র একটা আলাদাই চাহিদা রয়েছে।

মহানগরবার্তা : এখন তো সামাজিক দূরত্ব বিধি আবশ্যক ! কিন্ত ক্যাফে মানেই আমরা জানি একসাথে বসে আড্ডা, গল্প! ট্রাভেলিস্তান ‘সোশ্যাল ডিসট্যানসিং’ বজায় রাখার কি কি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে?

অরিজিৎ রিজু দত্ত : হ্যাঁ সেটা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে ডিসট্যানসিং বজায় রাখার জন্য সিট ক্যাপাশিটি একেবারেই ৫০ শতাংশ করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে একটা টেবিল থেকে অন্য টেবিলের কিছুটা দূরত্ব বজায় থাকছে। যার ফলে সবাই এসে একটা নিরাপত্তার মাধ্যমে এখানে ‘নিজস্ব সময়’ যাপন করতে পারছে।

মহানগরবার্তা : স্যানিটাইজেশনে ট্রাভেলিস্তান কোন পন্থা বেঁছে নিয়েছে বা প্রত্যেকদিন ক্যাফে খোলা থাকাকালীন কিভাবে ক্যাফে স্যানিটাইজ করা হয়?

অরিজিৎ রিজু দত্ত : হ্যাঁ এই বিষয়টা আমরা যথেষ্ট নজরে রাখছি বা বলা যেতে পারে ট্রাভেলিস্তান বর্তমানে এই বিষয়টিতে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। যেহেতু মানুষজন এখানে আসছেন প্রতিনিয়ত তাই থার্মাল স্ক্যানিং এর মাধ্যমে বডি টেম্পারেচার দেখেই তবে ক্যাফেতে প্রবেশ করানো হচ্ছে, সবাইকে স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও কোনো একটি টেবিলে আগে কেউ বসলে সেটা স্যানিটাইজ করার পরেই তবে আমরা পরের জনকে সেই টেবিলে বসতে দিচ্ছি।

মহানগরবার্তা : শেষ প্রশ্ন। আমরা জানিনা কবে পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক হবে? যদি হয়, এই ক্যাফেকে ঘিরে ট্রাভেলিং এর কি কোনো পরিকল্পনা রয়েছে বা ভবিষ্যতে আমরা ট্রাভেলিস্তানকে আরো নতুনরূপে কিভাবে পেতে পারি?

অরিজিৎ রিজু দত্ত : পরিস্থিতি যদি সত্যিই আর এক, দুইমাসের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যায় বা আমরা আগের পরিস্থিতি ফিরে পেতে পারি আমাদের অসংখ্য পরিকল্পনা রয়েছে। একেবারে ব্যাগপত্র গুছিয়ে বেরিয়ে পড়বো আমরা। ট্রাভেলিস্তানের পক্ষ থেকে ট্যুর অর্গানাইজও করা হতে পারে। এছাড়াও বিশেষত আমার একটা ইচ্ছে আছে প্রকৃতি নিয়ে কাজ করার। প্রকৃতির প্রয়োজনীয়তা আমাদের জীবনে কতটা সুদূরপ্রসারী তা নিয়েও ট্রাভেলিস্তানের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে ওয়ার্কশপের একটি চিন্তাভাবনা আমার মাথায় রয়েছে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close