দেশ

মেয়েরাও পারে, ছেলে কোলে নিয়ে বাস চালিয়ে ইতিহাস গড়লেন কাশ্মীরের পূজা দেবী

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: যে রাঁধে সে যে চুলও বাঁধে, আজ আর তা অজানা নেই কারোরই। জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ, সবেতেই আজকাল এগিয়ে আসছেন মেয়েরা। সমাজের কোনো স্তরে, কোনো কর্মক্ষেত্রেই মেয়েরা পিছিয়ে নেই। মেয়েরা আজ কোথাও সেনাবাহিনীর প্রধান হয়ে প্রতিরক্ষায় দেশকে নেতৃত্ব দেন, কোথাও আবার বিমান চালকের আসনে বসে যাত্রীদের উড়িয়ে নিয়ে যান এদেশ থেকে ওদেশে। নারীশক্তি যে কোনো ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই এবার তারই আরেক জলজ্যান্ত প্রমাণ পাওয়া গেল কাশ্মীরে।

জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যটি বরাবরই জঙ্গি সমস্যা কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে জর্জরিত হয়ে থাকে। কিন্তু শত অশান্তি সত্ত্বেও থেমে থাকে না সেখানকার জনজীবন। অশান্তিকে সঙ্গে নিয়েই দিন কাটাতে অভ্যস্ত জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ। এবার সেই জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম বাস চালক হিসেবে ইতিহাসের খাতায় নাম লেখালেন পূজা দেবী।

গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার পূজা দেবী পেশাদার বাস চালক হিসেবে প্রথম জম্মু ও কাশ্মীরের একটি প্যাসেঞ্জার বাসের স্টিয়ারিং হাতে তুলে নিয়েছেন। রাজ্যে মহিলা বাস চালক হিসেবে তিনিই প্রথম বাস চালিয়েছেন। তাঁর এই দৃষ্টান্ত একদিকে যেমন অন্যান্য মেয়েদেরকেও এই পেশায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে, অন্যদিকে তেমনই সমাজের প্রথাগত দৃষ্টিকোণ বদলাতেও সাহায্য করবে, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

সূত্রের খবরে জানা গেছে, পূজা দেবী জম্মুর কাঠুয়া জেলার বাসিন্দা। তিনি দুই সন্তানের মা। বরাবরই তিনি পেশাদার ড্রাইভার হতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন পূজা দেবী। তবে তাঁর এই ইচ্ছা পূরণে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর পরিবারের লোকজন। কিন্তু শত বাঁধা সত্ত্বেও নিজের লক্ষ্যে সর্বদাই অবিচল ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম মহিলা বাস ড্রাইভার পূজা দেবী।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে পূজা দেবী জানিয়েছেন, “আমার পরিবার এই কাজে আমায় সমর্থন করে নি। কিন্তু আমি অন্য কোনো পেশা বেছে নেওয়ার মতো শিক্ষিত নই। আর এটাই আমাকে মানায়।” শুধু তাই নয়, তিনি আরো বলেন, “গাড়ি চালানো শেখার জন্য আমি আগে ট্যাক্সি চালাতাম। আমি জম্মুতে একটা ট্রাকও চালিয়েছিলাম।”

জম্মু কাশ্মীরের পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যখন পূজা দেবী বাস চালাচ্ছিলেন তখন তাঁর পাশে ছিল তাঁর ছোট্ট সন্তান। তিনি জানিয়েছেন, এই বাস চালকের পেশা শুধু মাত্র তাঁর জীবনের স্বপ্নই সফল করে নি, তাঁর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতেও সাহায্য করেছে। তিনি জানিয়েছেন, “ট্রেনার হিসেবে আমি আগে ১০ হাজার টাকা পাচ্ছিলাম। আমি লাইসেন্স পাওয়ার পর বাস চালক হিসেবে আবেদন করি। কর্তৃপক্ষ আমার সামর্থ্যের উপর ভরসা রেখেই আমায় এই কাজ দিয়েছেন।” আজকালকার মেয়েরা আকাশের প্লেনও চালাচ্ছেন। তবে বাসটাই বা কেন শুধু ছেলেরা চালাবে? প্রশ্ন করেছেন পূজা দেবী।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close