আন্তর্জাতিক

প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে সুইসাইড করতে চেয়েছিলেন জো বাইডেন, কেন জানেন?

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: জো বাইডেন। এই মুহূর্তে গ্রহের সবচেয়ে চর্চিত নাম। মাত্র কয়েক ঘন্টা আগেই রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক বাইডেন। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র তথা সমস্ত পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের জন্য কাজ করার শপথও নিয়েছেন ইতিমধ্যেই। কিন্তু রাজনীতির বাইরে, মানুষ হিসেবে কেমন মার্কিন মুলুকের নতুন প্রেসিডেন্ট? জীবনের একটা পর্যায়ে কেন তিনি আত্মহত্যাতে মুক্তি খুঁজতে চেয়েছিলেন? কোন জাদু মন্ত্রেই বা সেই পর্যায় পেরিয়ে আজকের সাফল্য?

ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে টিভির পর্দায় এত দিনে যে বয়স্ক হাসি মুখটা চেনা হয়ে গেছে মানুষের,আদতে তার পিছনেও লুকিয়ে আছে গভীর গভীরতর ক্ষত। রাজনীতির পর্দা সরিয়ে বাইডেনের ব্যক্তি মানসে উঁকি মারতে গেলে পিছিয়ে যেতে হয় প্রায় ৪৮ টা বছর। আইনজীবী হিসেবে নিজের কেরিয়ার শুরু করলেও দ্রুত রাজনীতিতে যোগ দেন বাইডেন।কনিষ্ঠতম হিসেবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম সেনেটর নিযুক্ত হন তিনি। কিন্তু সাফল্য বেশি দিন স্থায়ী হয় নি।

মাত্র একমাসের মাথায় ক্রিসমাসের কেনাকাটা করতে গিয়ে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মারা যান বাইডেনের স্ত্রী ও শিশুকন্যা। পায়ের তলার মাটি সরে যায় বছর ত্রিশের যুবক জো বাইডেনের। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তাঁর ছোটো ছোটো দুই ছেলের দেখাশোনা করতে করতে জীবনের অন্ধকারতম সময়টার সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সেই সময় জীবনে প্রথমবার আমি বুঝেছিলাম কেউ সুস্থ মস্তিষ্কে কিভাবে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।” কিন্তু দুই ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আর মরে যাওয়া হয় না বাইডেনের।

তবে ভাগ্যের পরিহাস এখানেই শেষ হয় না। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তাঁর ছেলে বো বাইডেন মাত্র ৪৬ বছর বয়সে ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। নিজের ভাঙাচোরা মনোবলকে গুছিয়ে নিতে নিতে বাইডেন বলেন, “পৃথিবীর হাজার হাজার মানুষ, আমাদের থেকেও বেশি যন্ত্রণায় আছেন। হয়তো তাঁদের জীবনে বেঁচে থাকার কারণ আমাদের থেকেও কম, কিন্তু তবু তাঁরা ওঠেন, প্রত্যেক সকালে, প্রত্যেক দিন। তাঁরা একটার পর আরেকটা পা বাড়ান সামনের দিকে, তাঁরা এগিয়ে যান।”

অন্ধকারতম অতীতের স্মৃতি থেকেই ভবিষ্যৎ সাফল্যের প্রেরণা খুঁজে নেন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট। সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও ভুলে যান না অতীতের লড়াই। আর তাই হয়তো ৭৭ বছরের ওই বৃদ্ধের হাসিমুখে আমেরিকার সাথে সাথে আরো একবার স্বপ্ন দেখেন গোটা বিশ্বের মানুষ।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close