আম আদমি

বেকারের চোখের জল কী জানি, রুপোর চামচ মুখে জন্মাইনি: বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলি

মহানগর বার্তা ডেস্ক: ”বহুদিন বেকার ছিলাম, বেকারদের চোখের জল আমি দেখতে পাই। তাঁদের চোখের জলে বালিশ ভেজা আমি দেখতে পাই। বিচারপতি হিসেবে বসে দেখতে পাই (এসএসসি সংক্রান্ত) একটা অনুমোদিত দুর্নীতি রয়েছে। একই জিনিসের স্ববিরোধী হলফনামা দেখে মনে হয়েছিল এর মধ্যে কিছু একটা আছেই!” বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদার জনশ্রুতি-র মধ্যেই এবার প্রকাশ্যেই এই মন্তব্য করলেন, বঙ্গের দুর্নীতিকাণ্ডে পরিচিত মুখ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সোমবার বাংলা বৈদ্যুতিন মাধ্যম এবিপি আনন্দ-এ দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে একথা বলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

একের পর সমালোচনা, আইনি নির্দেশ নিয়ে প্রকাশ্যে জানালেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খোলামেলা বিচারপতি এদিন জানান জীবনের লড়াইয়ের কথা। সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুর পরে আইন নিয়ে পড়ি। অনেক লড়াইয়ের পরে সরকারি চাকরি পান তিনি। কিন্তু পাট্টা বিলি নিয়ে বিরোধে চাকরি ছাড়েন অনিশ্চিত জীবনে পা দেন বিচারপতি। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়েই তাঁর এই জীবনে আসা, এই প্রসঙ্গে আলোচনায় তিনি বলেন, ”এসএসসির আইনজীবী হিসেবে কোনও টাকা পাওনা নেই। জাস্টিস দীপঙ্কর দত্ত তৈরি করে গিয়েছিলেন একটা ভাল প্রতিষ্ঠান। খুব ভাল প্রতিষ্ঠান ছিল। রণজিৎ বসুর সময়ে ঘোষণা করা ছিল কোনও দুর্নীতি নয়। তিনি এসএসসি প্রার্থীদের নিজের ছাত্র হিসেবে মনে করতেন, আমাদের বলা হত অসঙ্গতি থাকলে আদালতে মেনে নিতে। পুলিশের উপর ভরসা আছে। কিন্তু পুলিশ তো নিয়ন্ত্রিত হয়। সিবিআই নিয়ন্ত্রিত হয় না বলব না। তবুও তো কিছু করতে হবে। কিছু বেরোবে! আমি যখন একাধিক মামলার তদন্তভার সিবিআইকে দিয়েছিলাম আশা নিয়ে দিয়েছিলাম।” তদন্তের গতি নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

দুর্নীতি নিয়ে বারবার তাঁর রায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর এক একটি নির্দেশ নাড়িয়ে দেয় সরকার, প্রশাসনের ভিত। প্রকাশ্যে আসে একের পর এক দুর্নীতি। ধরা পড়েন প্রভাবশালীরা। অচিরেই একজন বিচারপতি হয়ে গিয়েছেন রাজ্যের তথা দেশের কাছে বিখ্যাত। তাঁকে নিয়েই ছড়িয়েছে আলোচনা। তিনিই দিনের পর দিন রাস্তায় বসে থাকা যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের কাছে হয়ে উঠেছেন হিরো। এবার সেই বিচারপতিই বললেন তাঁর কথা। এই সাক্ষাত্কারে তিনি আরও বলেন, ”দুর্নীতির সঙ্গে আপোস করিনি। আর কোনো আপোসে যাব না। যতটুকু ভদ্রভাবে থাকা যায় সেই ভাবেই থাকব। আমি মানুষের চোখের জল দেখতে পাই।” তিনি বলেন, “এই ছেলেগুলির (চাকরিপ্রার্থী) প্রতি অত্যন্ত অন্যায় হয়েছে। চোখের জলে বালিশ ভেজাচ্ছে। আমি তাঁদের বেদনা বুঝি। রুপোর চামচ নিয়ে জন্মায়নি। চাকরিটা পেলে কত পরিবারের সুরাহা হবে বলুন তো।”

এই সাক্ষাৎকারের পরেই শুরু হয়েছে আলোচনা। শুরু হয়েছে বিতর্কও। যদিও এই প্রকাশ্যে মন্তব্য নিয়ে নিজেই আইনগত ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। যদিও তাঁর এই একান্ত আলাপচারিতা, একের পর এক আইনবোমা শোরগোল যেমন ফেলেছে, তেমনই একটা বড় অংশের রাজ্যবাসীর কাছে হিরো হয়ে ওঠা বিচারপতির কথা শুনে খুশি তাঁরাও

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close