fff
অফবিট

কালু মিঞার জমিতে থাকে জগন্নাথের রথ, সম্প্রীতির নজির বীরভূমে

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্কঃ বীরভূমের মাড়গ্রামের প্রত্যন্ত গ্রাম কয়েম্বা। অনন্য সম্প্রীতির নজির গড়েছেন এখানের বাসিন্দারা। এই গ্রামে হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের বাস। গ্রামের প্রবীণরা জানাচ্ছেন প্রায় একশো বছর আগে একজন বৈষ্ণব সাধু এসে গ্রামের শেষপ্রান্তে গড়ে তোলেন আশ্রম। সেখান থেকেই প্রতিবছর কাঠের রথ বের হতো। বছর বারো আগে অযত্নে সেই রথ নষ্ট হয়। এখনও আশ্রম থেকে রথ বের হয়। গ্রামের মানুষজন নতুন করে রথ তৈরি করেন। তিনটি নিমগাছ লেগেছে এই রথ তৈরিতে। পাশের গ্রাম হরিরামপুরের একজন বাসিন্দাও রথ তৈরির কাঠের জন্য একটা নিমগাছ দিয়েছেন। কয়েম্বার মুসলিম বাসিন্দারাও রথের চাকা তৈরির জন্য চাঁদা দিয়ে সাহায্য করেছেন বলে জানাচ্ছেন গ্রামেরই বাসিন্দা বুধু মাল, বাচ্চু মালেরা। গ্রামের কাঠের মিস্ত্রি প্রণব ভাস্কর, সুবীর সূত্রধররা রথ তৈরির জন্য কোনো মজুরি নেননি।

এর আগে প্যান্ডেল বেঁধে কালী পুজে, সরস্বতী পুজো, লক্ষী পুজো হতো একজায়গায়। কয়েম্বার বাসিন্দা সূর্য সরকার, অজয় মালরা জানাচ্ছেন ওইখানেই একপাশে এক শতকের মতো ফাঁকা জায়গা ছিলো। সেখানেই পাকা মন্ডপ করার জন্য গ্রামের বাসিন্দা কালু মিঞার কাছে জায়গা চান গ্রামবাসীরা। তাঁদের মুসকিল আসান হয়ে ওঠেন কালু মিঞা। তিনি সানন্দে সেই জায়গা দান করেন।এখানেই এখন সারাবছর থাকে কয়েম্বার রথ। বছর চারেক ধরে রোজা রথ এবং উল্টো রথে প্রতিবছর এখান থেকেই রথ বেরিয়ে গেটা গ্রাম পরিক্রমা করে আবার এসে ওঠে কালু মিঞায় দান করা জমির দালানেই। প্রথমে এখানে তৈরি হয়েছিলো ছিটে বেড়ার ছাউনি, সেখানেই থাকতো রথ।

তারপর ঝড়-জল-বৃষ্টিতে রথকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে গ্রামের হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে পাকা দালান।
<span;> আজিজুল হক বা কালু মিঞার বয়স সত্তরের ওপরে। পেশায় চাষী এই প্রবীণ মানুষটির কথায় “জায়গাটা ফাঁকা ছিলো, বিক্রি করে কতো টাকা পেতাম! তার থেকে গ্রামের একটা ভালো কাজে দিতে পেরে আমি খুশি।  গ্রামের ভালো কাজে আমি সবসময়েই পাশে থাকার চেষ্টা করবো”। এখন কালু মিঞায় আস্তানা থেকেই প্রতি বছর কয়েম্বার রথের চাকা গড়াছে। রথের স্থায়ী ঠিকানা হওয়াতে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে গ্রামের মানুষও খুশি।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please Disable your ADBlocker!